কে হচ্ছেন বঙ্গমাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি?

 : জামালপুরের মেলান্দহে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার মধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসি নিয়োগের কথাটি এখন চাঙ্গা হচ্ছে। ২০১৮ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ভিসি প্রফেসর ড. সৈয়দ সামছুদ্দিন আহমেদ’র মেয়াদ ১৭ নভেম্বর শেষ হবে।

কে হচ্ছেন বঙ্গমাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি
সবার উপরে বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. সামছুদ্দিন আহমেদ, নিচে বাম থেকে ড. মো. কামরুল আলম খান, প্রফেসর ড. এম. মেসবাহউদ্দিন সরকার, প্রফেসর ড. আনিসুর রহমান, প্রফেসর ড. আবুল হোসেন, প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান



ভিসির পূণঃ নিয়োগ ঠেকাতে শিক্ষকরা ২ নভেম্বর থেকে আন্দোলনে নেমেছেন। ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, রাজনৈতিক, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজের ছেলে এবং সাবেক রেজিস্টারের মেয়েসহ বেশ ক’জন অযোগ্যদের নিয়োগ প্রদান এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষকরা ভিসির অপসারনের একদফা আন্দোলনের ডাক দেন। 

শিক্ষার্থীদের ক্লাশ এবং পরিক্ষা দু’টোই বন্ধ আছে। বিশ্ববিদ্যালয় অচলাবস্থায় উত্তেজনাও বিরাজ করছে। ১৭ নভেম্বরের পরে ভিসির নিয়োগ চূড়ান্ত না হলে; ভারপ্রাপ্ত ভিসি বা স্থলাভিষিক্ত ভিসির দায়িত্ব পালনের  যোগ্যতা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষকের না থাকার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে। 

নিয়মানুযায়ী স্থালাভিষিক্ত কিংবা ভারপ্রাপ্ত ভিসির দায়িত্বপালন করবেন একজন সিনিয়র ডিন। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. সুশান্ত কুমার ভট্রচার্যের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সিনিয়র ডিনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদও ১২ নভেম্বর শেষ হয়েছে। 

এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের স্থলাভিসিক্ত ভিসির দায়িত্ব পালনের সুযোগও নেই। 

বর্তমান ভিসি সৈয়দ সামছুদ্দিন আহমেদই দ্বিতীয় মেয়াদেও নিয়োগ থাকলেও; চলমান আন্দোলনে জটিলতার সৃষ্টির হয়েছে। কে হবেন ভিসি? ক্যাম্পাস জুড়ে এখন এই কল্পনা-জল্পনা চলছে। শিক্ষকদের আন্দোলন চল্লেও; কিছু শিক্ষক চান বর্তমান ভিসি নিয়োগ পাক। আবার কিছু শিক্ষক চান এই ভিসি নিয়োগ না পাক। ভিসির নিয়োগ একমাত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতির ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল হওয়ায়; কে ভিসির নিয়োগ পাবেন, তার হিসাব নিকাশ মেলাতে পারছেন না। ভিসি হিসেবে বেশ ক’জন শিক্ষকের নাম বলাবলি হচ্ছে। 

সম্ভাব্য ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেতে আলোচিতদের তালিকায় আছেন-

১. বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. সামছুদ্দিন আহমেদ। তিনি রাজশাহীর বাসিন্দা। 

২. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক (পদার্থবিদ) ড. মো. কামরুল আলম খান। তিনি টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকার বাসিন্দা। কামরুল পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুৎ আবিস্কার করে আলোচিত হন। 

৩. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের (প্রযুক্তিবিদ) প্রফেসর ড. এম. মেসবাহউদ্দিন সরকার। তাঁর জন্মস্থান চাঁদপুরে। 

৪. জামালপুরের কৃতি সন্তান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ডিন ও চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আনিসুর রহমান। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ফ্যাকাল্টি না থাকায়, তাঁর জন্য ভিসির নিয়োগ প্রতিবন্ধকতা বলেও আলোচিত হচ্ছে। প্রথম ভিসির নিয়োগের তালিকায় ড. আনিসুর রহমানের নামও হিট লিস্টে ছিল। তাঁর নিয়োগের যৌক্তিরকতা উপমায় বলাবলি হচ্ছে যে, ফ্যাকাল্টি না থাকলেও, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি এবং বিশেষ ক্ষেত্রে এমন লোকও নিয়োগ পেয়েছেন। যেমন ২০২২ সালের ২৪ মার্চ চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নিয়োগ পেয়েছিলেন। ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নিয়োগ পান চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সেলিনা আক্তার। 

৫. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. আবুল হোসেন। তাঁর জন্মস্থান জামালপুরের পাথালিয়ায়। প্রথমবারের ভিসির নিয়োগ পাবার বিষয়েও আলোচনায় ছিলেন তিনি। 

৬. ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি সাইন্স বিভাগের এনিমেল হাজব্রেন্ডি অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর ড. হারুনুর রশিদ। তিনি জামালপুর লাহিড়িকান্দার বাসিন্দা। 

৭. ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটিরিনারি বিভাগের আরেক শিক্ষক ড. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি গোপালগঞ্জের বাসিন্দা। 

৮. কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার বিভাগের প্রক্টর ড. আতিকুর রহমান। 

৯. জামালপুরের কৃতি সন্তান, ত্রিশাল কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক-হানাদার বাহিনী তাঁর পিতাকে হত্যা করেছে। ভিসি হিসেবে তাঁর সততা-দক্ষতার কথাও আলোচনায় আসছে। এদের মধ্যে অনেকেই উচ্চপর্যায়ে বিভিন্নভাবে লবিং-তদবির করেছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং স্থানীয়দের মাঝে এ কথাও আলোচিত হচ্ছে যে, জামালপুরের কোন সৎ-যোগ্য লোক ভিসির হিসেবে নিয়োগ পেলে ভালো করতে পারবেন। ভিসির তালিকায় আলোচিতদের মধ্যে জামালপুরের কৃতি সন্তান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে কয়েকজন বলেছেন-আমাদের উপযুক্ত মনে করলেতো দায়িত্ব পালন করবোই। বিশ্ববিদ্যালয় এবং নাড়ির টানে আরো বেশি আন্তরিক হবো। 

এ ব্যাপারে বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন-যদি মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার কাজে সন্তোষ্ট থাকেন কিংবা আমাকে ভিসির নিয়োগ প্রদানে সম্মত হন সেটা অন্য কথা। তবে ভিসির নিয়োগ পেতে আলোচিতদের ২/১ জন ছাড়া আমি কাওকেই চিনি না।



শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।