[৫৬৫] টাঙ্গাইলে যুব ফোরাম ও বিড়ি শ্রমিকদের ব্যতিক্রমী ঘুড়ি উৎসব

S M Ashraful Azom
0

: প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের পূর্বেই বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় চলতি সংসদ অধিবশনে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাশের দাবিতে শনিবার (২৪ জুন) টাঙ্গাইল জেলা সদর বধ্যভূমি মাঠে তামাক বিরোধী যুব ফোরাম ও বিড়ি শ্রমিকদের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী ঘুড়ি উৎসবের আয়েজিত হয়। 

টাঙ্গাইলে যুব ফোরাম ও বিড়ি শ্রমিকদের ব্যতিক্রমী ঘুড়ি উৎসব



বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুয়র (ডর্‌প) অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য, টাঙ্গাইল-৫ আসন।


টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজহার আলী তালুকদার, সাবেক সচিব ও নির্বাহী উপদেষ্টা, ডর্‌প।


সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অন্যতম ৬টি প্রস্তাবসমূহ উপস্থাপন করেন ডরপ এর তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়কারী রুবিনা ইসলাম। 


এগুলো হল: 

(১) সকল প্রকার পাবলিক প্লেস এবং গণপরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা 

(২) তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা

(৩) বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক দ্রব্যের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা 

(৪) ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট আমদানি, উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা 

(৫) তামাক পণ্যের সকল প্রকার খুচরা শলাকা বিক্রয় বন্ধ করা এবং 

(৬) বিড়ি ও সিগারেটের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০% থেকে বাড়িয়ে ৯০% করা।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ ছানোয়ার হোসেন এমপি বলেন, “ পার্লামেন্টারী ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিং আয়োজিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংক্রান্ত কক্সবাজার সম্মেলনে আমরা ৪২ জন সাংসদ উপস্থিত হয়ে আইনটি সংশোধনের পক্ষে একমত হই। পরে জনমত জরিপে আইনের পক্ষে ১৬৯ জন সাংসদ মতামত প্রদান করেন।”


“আইনটি সংসদে উত্থাপিত হলে দেশের সকল অঞ্চলের সাংসদবৃন্দ এটি সমর্থন করবেন বলে আমি আশাবাদী। আমি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যাতে অতিসত্বর আইনটি সংসদে পাশ হয়।”


টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, “তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। এর পক্ষে কোনো যুক্তি নাই, তাই আমি মনে করি আইনটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাশ করলে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।”


প্রস্তাবিত সংশোধনীকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে যেসকল ইতিবাচক সংশোধন আনা হয়েছে সেগুলো তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারকে অচিরেই বাস্তব রূপ দেবে বলে আমি মনে করি।”


অনুষ্ঠানে যুব ফোরাম ও বিড়ি শ্রমিকদের উৎসাহী অংশগ্রহণকে সাধুবাদ জানিয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন মোঃ মিনহাজুদ্দিন মিয়া বলেন যুবসমাজ যেভাবে তামাক নির্মূলে এগিয়ে এসেছে তেমনি সরকারও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আইনটি পাশের উদ্যোগ নেবেন।


তিনি আরও বলেন, “সংশোধিত খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি দ্রুত পাশ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে বাস্তবায়িত করতে নীতিনির্ধারকরা সচেষ্ট হবেন বলে প্রত্যাশা করছি। এই আইনটির সপক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতে আমরা সবাইকে নিয়ে অগ্রসর হব।”


টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন তরুণ সমাজের তামাক আসক্তি ঠেকাতে সংশোধিত খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাশ ও কার্যকর করতে এখনই উদ্যোগ নেয়া উচিত।


তিনি আরও বলেন, “এখনই যদি তামাকের কুপ্রভাব এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আইনটি পাশ হয় তাহলে অনেক প্রাণ বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণসমাজ রক্ষা পাবে।”


ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস্ (সিটিএফকে) এর প্রোগ্রামস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিয়া বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত খসড়া আইনটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যারা ধূমপান করেন না তারা যাতে কোনপ্রকার ক্ষতিগ্রস্ত না হন, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে তামাকের মত সর্বনাশা ব্যধিতে আসক্ত না হয় এবং পাশাপাশি মারাত্মক ছয়টি অসংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত না হয় তা আইনটিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন করার অন্যতম হাতিয়ার হবে এই আইনটি পাশ করা।”


তিনি আরও মন্তব্য করেন যদি দ্রুততম সময়ে আইনটি সংসদে পাশ করা হয় তাহলে প্রতিদিন ৪৪০ এরও অধিক প্রাণ রক্ষা পাবে।


সভাপতির বক্তব্যে ডর্‌প এর নির্বাহী উপদেষ্টা মোঃ আজহার আলী তালুকদার বলেন তামাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার এখনই সময়।


তিনি আরও মন্তব্য করেন, “তামাকজাত পণ্যের প্রাদুর্ভাব রোধ করতে বর্তমান সরকার কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সেই ধারা বজায় রেখেই সংশোধিত খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি দ্রুত পাশ হবে বলে আমরা আশাবাদী।”


উদ্বোধন ও আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে আগত অতিথিবৃন্দ এবং স্থানীয় জনগণ ঘুড়ি উৎসবে অংশ নেন।


উল্লেখ্য, উক্ত অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের সদস্যগণ, গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ, বিড়ি শ্রমিক এবং যুব ফোরামের সদস্যগণ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে ৬টি সংশোধনী প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নেন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।


ডর্‌প বিগত ১৯৮৭ সাল থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচীর সাথে জড়িত এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রবর্তনকারী সংস্থা হিসাবে সমধিক পরিচিত। এরই ধারাবাহিকতায় ডর্‌প বর্তমানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও তামাক কর বৃদ্ধি বিষয়ে কাজ করছে এবং সরকারের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। 


শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

ট্যাগস

Post a Comment

0Comments

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top