দেওয়ানগঞ্জের ডাংধরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মাসুদের বিরুদ্ধে গরিবের চাল আত্মসাতের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জের ডাংধরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মাসুদের বিরুদ্ধে গরিবের চাল আত্মসাতের অভিযোগ


সেবা ডেস্ক:

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গরিবের চাল আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে ।
 এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেওয়াানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

চেয়ারম্যান শাহ মাসুুদের বিরুদ্ধে গত ১০ আগস্ট দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
যা হুবুহু সেবা হট নিউজে তুলে ধরা হলো ঃ

“চেয়ারম্যানের কূটচাল বাজারে দুস্থর চাল ”

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সর্ব উত্তরে ডাংধরা ইউনিয়নের ভিজিডি তালিকাভুক্তি ১১০ জন দুস্থ তাদর নামে বরাদ্দ চাল পাচ্ছেন না ছয় মাস ধরে ।

গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের (মাসে জনপ্রতি ৩০ কেজি) প্রায় ২০ টন চাল দুস্থ'দের না দিয়ে কালোবাজারে

বিক্রি করে দিয়েছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান । এমন খবর পাওয়ার পর তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের জোয়ানের চর মুন্সির পাড়া গ্রামের সিদ্দিক আলীর স্ত্রী সাজেদা ডাংধরা বেগম ( কার্ড নং ৫০) বলেন একটি কার্ডের লাগি হাঁস মুরগি বেইচা চার হাজার ট্যাহা তুলে দেই চেয়ারম্যানের হাতে ।

 কিন'ু আমারে কার্ড ও চাল দেয় নাই। মাইনসে কয় , আমার নাম আছে তালিকায় । চেয়ারম্যাসের কাছে গেলে কয় , আমার নাম নাই  ।

 ছয় মাস থিকা আমাক এব ছটাক চাইলও দেয় নাই। সাজেদা বেগমের মত ওই গ্রামে বিলকিছ খাতুন (কার্ড ১৮), বিদ্যা খাতুন (কার্ড ২৩) , রাজিয়া খাতুন (কার্ড ৩৮), জাহানারা খাতুন (কার্ড ৫১) , ফেরদৌসি বেগম (কার্ড ২৪) ,

 কাজল রেখা (কার্ড ৫৪) , বুলবুলি (কার্ড ৫৫) তালিকায় নাম আছে এবং প্রতি মাসে তাদের নামে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চালও তোলা হয়ে থাকে ।

কিন'ু তারা সবই বলছেন ছয় মাসের মধ্যে তারা কোনো চাল পাননি। জোয়ানের চর খা পাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় ভিজিডির তালিকাভুক্ত দুস' ফরিদা খাতুনের (কার্ড ১০ ),

শাহিনা খাতুন (কার্ড ৪৫) , লিচু বেগম (৪৭), মালেকা খাতুন (কার্ড ৩৬৭), চায়না খাতুন (কার্ড ৩৯১) ও নাছিমা খাতুনের (কার্ড ৩৬৮) সঙ্গে। তালিকায় নাম থাকলেও তাদের বরাদ্দ চাল চেয়ারম্যান বিক্রি করে দেন।

তারা জানান, তাদের ওয়ার্ডের সংরড়্গিত মহিলা মেম্বার নাম দেয়ার কথা বলে তিন চার হাজার টাকা করে নিয়েছেন।

গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন ও ইদ্রিস আলী অভিযোগ করেন, সরকার ঈদের আগে দুস্থদের জন্য ভিজিএফের চাল দেয়।

 কিন' আমাদের গ্রামের কোনো পরিবার ওই চাল পায়নি। স্থানীয় মেম্বার সাহাব উদ্দিন বলেন, আমি নিজে যেসব তালিকা করেছি সেগুলোর চাল দেয়া হয়।

আপনি যেসব নামের কথা বলছেন সেসব তালিকা চেয়ারম্যান করছেন। তার কাছেই সব কার্ড রয়েছে। কী কারণে কার্ড গুলো বিতরণ করছেন না সেটা আমি বলতে পারব না।

 তবে আমি অনেক বার আমার গ্রামের তালিকাভুক্ত দুস্থদের কার্ড তার কাছে চেয়েছি । কন্ত তিনি দেননি।


জোয়ানের চর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে তো জানতাম না যে তাদের নাম তালিকায় আছে।

 বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। হারুয়া বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খাদেম আলী , শাহজামাল ও জহুরুল ইসলাম বলেন , আমাদের গ্রামের দু একজন ভিজিডি চাল পাইছে ।

 তবে তালিকায় নাম আছে , এমন দুস্থ মহিলা পারুল বেগম (কার্ড ৪০৬), লাইলী বেগম (৪১০), আমেনা বেগম (৪০৮), পারভীন আক্তার (কার্ড ৩৯) রহিমা খাতুন (কার্ড ৪০২) আমিনা খাতুন (৩৮৭) , রোজিনা খাতুনের (কার্ড ৩৯৭) নামে চা দেয়া হয় নি।

 মহিলা মেম্বার সাহেরা খাতুন বলেন, এ বিষয়ে আমাকে বইলা কোন লাভ নাই । চেয়ারম্যানকে বলেন। উনার কাছে সব তালিকা । উনি বলতে পারবেন কেন চাল পায় না তারা।

এদিকে কাউনিয়ারচর গ্রামের যাদের আবাদি জমি রয়েছে , আছে গোয়াল ভরা গরু, ও পাকা ঘর , ভিজিডির তালিকায় এমন অনেকেরই নাম দেখা গেছে।

 এর মধ্যে রয়েছেন জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী রুপালি বেগম (কার্ড ২৮৯) , তার ভাইয়ের স্ত্রী শাহিদা খাতুন (কার্ড ২৮৭)

,জরিনা খাতুন (কার্ড ২৮৪) , রাজিয়া খাতুন (কার্ড ২৮৩) , আবুল  সওদাগরের বাড়িতে রাহেলা খাতুন (কার্ড ২৮৬) ,বিলকিছ বেগম (কার্ড ২১৫) নারগিছ আক্তার (কার্ড ২৯৪)।

 ওই গ্রামের বাসিন্দা শেখ ফরিদ বলেন, গরিব মানুষ যারা খাবার পায় না , তাদের নাম না দিয়ে চেয়ারম্যান তার আত্মীয়স্বজনদের নাম দিয়েছেন।

ডাংধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, এলাকার অনেক তালিকাভুক্তিকে চাল দেয়া হচ্ছে না। অভিযোগের উঠার পর খোঁজ নিয়ে ১১০ জনের মতো দুস্থ পরিবার পাওয়া গেছে। যারা ছয় মাস ধরে চাল পাচ্ছে না ।

 এ ব্যাপারে সংশিস্নষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা মনি বলেন, ডাংধরা ইউনিয়নে ৫৩৫ জন দুস্থ' পরিবার ভিজিডির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা ৩০ কেজি করে আমার জানা নেই ।


অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডাংধরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো. মাসুদ বলেন, ৩৪ জনের মতো দুসে'র তালিকা নিয় একটু সমস্যা আছে। বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, ডাংধরা ইউনিয়নে ভিজিডি তালিকায় কিছু সমস্যার কথা জানতে পেরেছি । বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

, , ,