একাদশ জাতীয় নির্বাচন।। জামালপুর -১ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে আ’লীগের ৫,বিএনপির ৩,জাপার ১,ইসলামী আন্দোলনের ১ প্রার্থী মাঠে

সেবা ডেস্ক:  ২০১৮ সালের শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তাই আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ এখনই শুরু হয়েছে। আগামী নির্বাচনে কে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়েও চলছে নানা রকম কানাঘুষা। দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে জামালপুর-১ আসন। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে চার লাখ। সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তাদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বিভিন্ন সভা-সেমিনার,সামাজিক কর্মকান্ডে যোগদান করে নিজেদের সাধারণ জনগণের কাছে জানান দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এ আসনে ১০ জন প্রার্থী মাঠে আছেন। তারা নির্বাচনে যার যার অবস্থান থেকে তাদের মনোনীত দলের হয়ে নির্বাচন করবেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন পাঁচ জন প্রার্থী। তারা হলেন বর্তমান এমপি এবং সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ , বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইসতিয়াক হোসেন দিদার, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ (কালাম চেয়ারম্যান)।

বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন তিন জন প্রার্থী । তারা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম ও জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাহিদা আক্তার রিতা। এ ছাড়াও জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এমএ সাত্তার তিনি এবার প্রার্থী হবেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। অপরদিকে পরিবেশ পরিস্থিতি ভাল থাকলে প্রার্থী দেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে এই আসনে প্রার্থী হওয়ার  ইচ্ছা প্রকাশ করে ব্যানার , ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এই দলের সম্ভাব্য প্রার্থী মওলানা আবদুল মজিদের । তার দল কোনো জোটে না গেলে হাত পাখা প্রতীকে নির্বাচন করবেন তিনি।

মূলত এ আসনটিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি মনে করে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এ আসনের বর্তমান সাংসদ ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ চার বারের নির্বাচিত এমপি। তিনি ৯১, ৯৬ , ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে চার বার সাংসদ নির্বাচিত হন। এ আসনে তার গ্রহণ যোগ্যতা থাকলেও দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাদের সাথে তার সমন্বয় না থাকায় এসব নেতা কর্মীরা তার উপর মনোক্ষুন্ন রয়েছে। এ কারণে সরকারের উন্নয়ন কাজের প্রচার প্রচারণা নেই বললেই চলে। তিনি বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার আনাচে কানাচে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বিশেষ বকশীগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের চেহারা পাল্টে গেছে তার হাতের ছোঁয়ায়। তবে তিনি এ আসন থেকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও মনোনয়ন পাবেন এটা নিশ্চিত করেছেন তার অনুসারীরা। বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের কাছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান। দলের তৃণমূল নেতা কর্মীরা তার নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। অনেকেই তাকে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রাণ বলে জানেন । তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। প্রতিটি ঘরে ঘরে গাছের চারা রোপন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন নূর মোহাম্মদ। সম্প্রতি বন্যায় তিনি দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ১০ হাজার বন্যার্তকে তিনি ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন।  তিনি এবারও দলের হয়ে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করবেন।

মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তরুন নেতা , বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন । পাশাপাশি নিজ এলাকা বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ও ক্লিন ইমেজের এই তরুন নেতা মনোনয়ন পেতে ও আগামি নির্বাচনে অংশ নিতে এলাকায় দফায় দফায় গণসংযোগ ও মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হচ্ছেন। বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশের প্যানেল ল’ইয়ার ব্যারিস্টার সামীর সাত্তারের প্রার্থী হওয়ার আকাক্সক্ষা ও ঘন ঘন এলাকায় যাতায়াত করায় অন্যান্য প্রার্থীদের ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি নৌকা প্রতীক পেলে এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইসতিয়াক হোসেন দিদার মাঠে কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন দেওয়ানগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ (কালাম চেয়ারম্যান)। এ আসনে তিনি নির্বাচন করবেন এবং মনোনয়ন চাইবেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে। তিনিও মনোনয়ন দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন । তবে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব এখনই না মেটালে ফলাফল বিপর্যয় ঘটতে পারে আওয়ামী রাজনীতিতে।
বিএনপির মধ্যে সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত মাঠে রয়েছেন। তিনি মাঠে নেমেছেন আরো দুই বছর আগে থেকেই। জোট সরকারের আমলে তিনি এ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। এলাকায় তার ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের ধারণা তিনি ছাড়া এ আসন পুণঃরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। মামলা জটিলতার কারণে ৯ম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি তিনি। এবারও তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসবেন এমন প্রত্যাশা তার সমর্থকদের মধ্যে। সাবেক এই এমপি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত এ আসনটিতে বিএনপির বিজয় পতাকা উড়াতে সক্ষম হন। তিনি সম্প্রতি বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগও করেছেন। ঘরে ঘরে ঈদ শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন সাবেক এমপি মিল্লাত। একাদশ নির্বাচনে তিনি কোন ছাড় দেবেন না। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি এই আসনটি আবারো উপহার দিতে চান। বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি আগামি নির্বাচনে দলের টিকিট যেন তাকে দেয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল কাইয়ুম এবার জামালপুর-১ আসন থেকে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক। তবে সাবেক এমপি মিল্লাত এর কাছে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দৌড়ে পেরে উঠতে পারবেন কিনা প্রশ্ন রয়েছে। আব্দুল কাইয়ুম দলীয় হাইকমান্ডে লবিং করে যাচ্ছেন। তিনি মহাসচিবের ঘনিষ্ঠ বলেও জানা গেছে। সাবেক আইজিপির সমর্থকদের দাবি শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোয়ন তার হাতেই চলে আসবে।

এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের কোষাধ্যক্ষ ও জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাহিদা আক্তার রিতাও আগামী নির্বাচনে বিএনপির হয়ে মনোনয়ন চাইবেন। মাঠে না থাকলেও মনোনয়ন যুদ্ধে অংশ নেবেন এই নেত্রী। বিএনপির রাজনীতিতে রয়েছে অর্ন্তদ্বন্দ্ব । বিভক্তি রয়েছে মিল্লাত গ্রুপ ও আবদুল কাইয়ুম গ্রুপের মধ্যে । এই দুই নেতার বিরোধের ফলে সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে এই দলের।
জাতীয় পার্টির একমাত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী এমএ সাত্তার এবার জোরে শোরে মাঠে নেমেছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরাও তার হয়ে মাঠে কাজ করছেন। সম্প্রতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বকশীগঞ্জে এক পথ সভায় এমএ সাত্তারকে এই আসনের প্রার্থীতা ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই নির্বাচনী হিসাব নিকাশ পাল্টে গেছে জাতীয় পার্টির। জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা এবার মরণ কামড় দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামবেন বলে নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিন  দলের টিকেট কে কে পাবেন তা এখনই বলা যাচ্ছেনা। সময় এলেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে। মনোনয়ন যাকেই দেয়া হোক না কেন স্থানীয় জনগণ কাজের মানুষকে বেছে নেবেন এমন কথা সবাই বলছেন।

, , , , ,
themeforestthemeforest