বাঁশখালীর ক্ষুদে বিজ্ঞানী আসিরের বিমান উড়ল আকাশে!
বাঁশখালীর ক্ষুদে বিজ্ঞানী আসিরের বিমান উড়ল আকাশে!

Banskhali-Petit-scientist-Aasirera-flying-sky-in-the-sky
ক্ষুদে বিজ্ঞানী মো. আসির উদ্দীন
শিব্বির আহমদ রানা (বাঁশখালী) চট্টগ্রাম: দীর্ঘদিন ধরে তার কৌতুহলের শেষ নেই। অদম্য ইচ্ছা শক্তির প্রয়াস ঘটিয়ে শেষবধি ১ ঘন্টার উপর সময় ধরে রিমোট কন্ট্রোলের নিয়ন্ত্রণে বিমানটি আকাশে উড়িয়েছে সে। 

এদিকে দৃশ্যটি এলাকায় অনেকের কাছে কৌতুহলের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিমান উড্ডীয়নের দৃশ্যটা ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। সে কৌতুহল বসত ছোটবেলা থেকে আকাশে বিমান উড়ার বিষয়টি ভাবতো। যেই ভাবা সেই কাজ। সে ২০১৫ সালের পর থেকে এ বিষয়ে কাজ করছে নিষ্টা ও দক্ষতার সাথে! অবশেষে দীর্ঘ ৩ বছরের গবেষণার ফলে ২০১৭ সালে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে তার আবিস্কৃত ছোট বিমানটি সফলভাবে আকাশে উড়াতে সক্ষম হয়েছে।


তার দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন পরিত্যক্ত খেলনা সামগ্রীর যন্ত্রাংশের সংগ্রহের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ বানিয়েছেন। বিমানটি তৈরি করতে গিয়ে ২০১৫ সালের পর থেকে সে প্রায় ৩০ বারের মতো উড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে আকাশে বিমান উড়ার স্বপ্ন পুরুন হয়েছে।

আসিরের বিমান উড়ল আকাশে!

দুই থেকে তিন বছরের গবেষনায় আবিস্কৃত বিমানটির ওজন ৮০০ গ্রাম বলে জানান তিনি। বিমানটির পাখা গুলো তৈরি করছে সে ককসীট দিয়ে। পুরো বিমানের বডি তৈরি করতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতো ঢাকা থেকে। পড়ালেখার পাশাপাশি সে হাত খরচার টাকা জোগাড় করে বিমানের প্রয়োজনীয় অংশের ব্যয় নির্বাহ করেন।


অাসিরের বানানো বিমানের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন- বিমানের নাম দিয়েছি FTRC AROPLANE। বিমানে যে মোটর তিনি ব্যবহার করেছেন তার ওজন ৩৩ গ্রাম, এটি ১ কিলোগ্রাম ওজন পরিবহন করতে সক্ষম। সে যে মোটরটি ব্যবহার করেছেন তার নাম Brusless Motor। তাতে ব্যবহৃত ব্যাটারি ২২০০ এ্যাম্পিয়ার (Lepo Battery)। বিমানে ব্যবহৃত Win Spen পাখা ১২০ সেন্টিমিটার, Body Spen ৪০ সেন্টিমিটার। ক্ষুদে এই প্রতিভার অন্যন্য অাবিস্কারের মধ্যে রয়েছে FTRC Aroplane, DC Water Pump, Electric Car, Electric Boot, Soler Power Bank, DC Motor Dron.

বিমান কন্ট্রোলার সম্পর্কে তিনি বলেন- এটি আসলে ড্রোনের কন্ট্রোলার। এই কন্ট্রোলার দিয়ে মূলত ড্রোন, বিমান, গাড়ি ইত্যাদি চালানো যায়। আমি সেটি বিমান নিয়ন্ত্রণের কাজে উপযুক্ত করেই ব্যবহার করছি।

এ বিষয়ে ধারণা কোথায় থেকে পেল তা জানতে চাইলে বলেন, একটা বিমান তৈরি করতে কি কি প্রয়োজন, কিভাবে কোথায় কি সংযোজন করতে হবে তা আমি ইন্টারনেটের মাধ্যমে জেনে তারপর কাজ করতাম।


রিমোট কন্ট্রোলার ছাড়া বাকী সবকিছুই আমি সংযোজন করে ক্ষুদে বিমানটি আবিস্কার করতে সক্ষম হয়েছি। আমার লক্ষ্য এখন একটাই আজকে ৩৩ গ্রামের মোটর দিয়ে বিমান বানিয়েছি, ভবিষ্যতে বড় বিমান তৈরির প্রচেষ্টায় অাছি।

তিনি আরো বলেন, আগামীতে আমি একটা ৫/৬ কিলোগ্রাম ওজনের মোটর দিয়ে বিমান তৈরি করব। বিমানটি ৬০-৭০ কেজি ওজন নিয়ে আকাশে উড়তে সক্ষম হবে। এটি তৈরি করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই আমি আপাতত কাজ করা বন্ধ রেখেছি, কিন্তু গবেষণা নিরন্তর চালিয়ে যাচ্ছি।


কোন ইলেকট্রনিক্স সংস্থা বা অন্য কেউ তার আবিস্কারের পেছনে সহযোগিতা করলে ভবিষ্যতে তিনি আরো বড় বিমান আকাশে উড়াতে সক্ষম হবেন বলে জানান।

তবে সম্প্রতি ৮শত গ্রাম ওজনের বিমানটি বানাতে ১২ থেকে ১৪ হাজারের অধিক খরচ হয়েছে এবং এরকম ক্ষুদ্র বিমান বানাতে ৭দিন সময় লাগবে বলে জানান।


ইতোমধ্যে তার ক্ষুদে বিমান আবিস্কার এলাকায় কৌতুহলের সৃষ্টি করে। ক্ষুদে বিজ্ঞানীর নাম মোহাম্মদ আসির উদ্দীন। বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নে তার জন্ম। তারা তিন ভাই। সবার বড় আসির।

সে বর্তমানে বাঁশখালী ডিগ্রী কলেজের মানবিক বিভাগে একাদশ প্রথম বর্ষের ছাত্র।


 -

, ,