চমেকে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় নবজাতক হারালো মা!
চমেকে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় নবজাতক হারালো মা!

Mother died of a newborn doctor in Chemek's wrong treatment

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁঁশখালী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় ২৫ এপ্রিল বুধবার রাত ১ টা ২০ মিনিটে সুপর্ণা দেব নামক একজনের মৃত্যু।

চট্টগ্রামের বাঁঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের নোয়াপাড়া ৯নং ওয়ার্ডের প্রণব কুমার দে জীবিকা নির্বাহ করার তাগিদে চট্টগ্রাম শহরের বন্দরটিলা এলাকায় দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ ডিস এন্টেনার কাজ করে আসছে। বিগত প্রায় ১০ বছর আগে বোয়ালখালী ৬নং পুপাদিয়া ইউনিয়নের জদু পালিতের মেয়ে সুপর্ণা দেব কে বিয়ে করে, সেই থেকে বন্দরটিলা এলাকায় বসবাস করে আসছিল দম্পতি।
তাদের দাম্পত্য জিবনে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তাদের মেয়ে প্রর্গ্য দেব অতি (৮) কে নেভী স্কুলে পড়াশুনা করানোর জন্যই মুলত তারা চট্টগ্রাম শহরে থাকত। তাদের কন্যা নেভী স্কুল এন্ড কলেজের ৩য় শ্রেনীর ছাত্রী।


পরবর্তীতে সুপর্ণা দেব দ্বিতীয়বারে মতো গর্ববতী হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দা ইয়াসমিন আক্তাতারের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন হলে তিনি তাকে চমেকে ভর্তি হওয়ার জন্য পরামর্শ দেন এবং সেই অনুযায়ী গত ২৭ মার্চ তার প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে ৩৩ নং ওয়ার্ডে ২নং সীটে ভর্তি করান।
সেই দিন রাত প্রায় ১ টার দিকে সিজারয়েন অপারেশনের মাধ্যমে তার বাচ্চা প্রসব করে। মা ও শিশু দুইজনই সুস্হ হয়ে উঠলে ৫ দিন পর তারা যথারীতি হাসিখুশিতে বন্দরটিলা বাসায় ফিরে গেলেন।


পরবর্তীতে ১৫/২০ দিন পর পেটে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে সিইপিজেড মোড় বন্দরটিলা ডাক্তার শ্রাবণী বড়ুয়ার নিকট চিকিৎসা নিতে গেলে সে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে ও.আর. নিজাম রোড পাঁচলাইশ বেসরকারী শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরী ডায়গনিস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফী করালে তার পেটের মধ্যে ৪ ইন্সি লম্বা ১২ সে. মি. ধাতব বস্তু পাওয়া যায়। যা নাকি  ডাক্তাররা অপারেশন করার সময় ভূলবশত পেটে রেখেই অপারেশন সম্পন্ন করে বলে সুপর্ণা দে'র ভাসুর মৃণাল দে সেবা হট নিউজ কে জানান।


এমতাবস্থায় তারা চিকিৎসক ডা. শ্রাবনী বড়ুয়া তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তারা গত ১৯ এপ্রিল চমেকে ভর্তি করে বিষয়টি অবহিত করলে ডাক্তারগণ তাকে ৩ দিন যাবৎ গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি না দেখে কালক্ষেপন করাতে সুপর্ণা দেবের স্বামী উপ-পরিচালক বরাবরে সু চিকিৎসার জন্য লিখিত আবেদন দায়ের করেন। এতে উপপরিচালক মহোদয় ওয়ার্ড পরিচালকদের কে ডেকে বিষয়টা দেখতে বললে তারা পুনরায় রোগীকে টেস্ট করান।


কেন অভিযোগ করা হল? এই নিয়ে ডাক্তার ও নার্সরা একাট্টা হয়ে অবহেলা করে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে থাকেন । পরে তারা রোগীকে চিকিৎসা করার ভান করে এবং পুনরায় অপারেশন করার জন্য বলেন এবং সর্বশেষ তাকে ২২ এপ্রিল অপারেশন করেন চমেকের ২৫ নং ওয়ার্ডে এবং ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলায় গত বুধবার ২৫ এপ্রিল রাত ১ টা ২০ মিনিটে সুপর্ণা মারা গেলেন ।
পৃথিবীতে আসা নবজাতক শিশুটির মুখে মা ডাকটা আর শুনা হলোনা সুপর্ণা দে'র।

বৃহস্পতিবার তার পারিবারিক শ্মশানে সকাল ১১টায় শেষকৃত্যানুষ্টান সম্পন্ন হয়।


, , , ,