SebaBanner

আজ*

হোম
‘হল থেকে গভীর রাতে ছাত্রীদের ‘বের করে’ দিল হল প্রশাসন

‘হল থেকে গভীর রাতে ছাত্রীদের ‘বের করে’ দিল হল প্রশাসন
সেবা ডেস্ক: - কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে গভীর রাতে কিছু ছাত্রীকে হল প্রশাসন বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৪টায় দেশের প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এদিকে ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছে।

১৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর কবি সুফিয়া কামাল হলের সামনে গিয়ে এ বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।   সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাদের বের করে দেওয়া হয়। তবে ঠিক কতজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট করে তা জানা যায়নি।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান অভিযোগটিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার খবরে রাত ২টার দিকে আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা হলের সামনে যায়। এ সময় পরিষদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক নুর।

নুর বলেন, ‘অন্যায়ভাবে সুফিয়া কামাল হল থেকে মেয়েদের বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৪টায় দেশের প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।’
এদিকে নূরুল হক নুর যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসানের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়।

এ সময় আবিদ আল হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে আসেন এবং তিনি ঘোষণা দেন ক্যাম্পাস শান্ত রয়েছে। এরপর তারা সম্মিলিতভাবে একের পর এক বিভিন্ন ধরনের গান গেয়েছেন। এক পর্যায়ে আবিদ আল হাসান লাইভে ঘোষণা দেন, টিএসসিতে সারা রাত গান হবে। কোনো গুজব চলবে না। রাত ৩টার দিকে সেখানে আসেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।

এ সময় সোহাগ বলেন, ‘এত সুন্দর গানের আয়োজন করায় সবাইকে ধন্যবাদ। কোনো গুজবে কান দিবেন না আপনারা, গুজব রুখে দিতে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগই যথেষ্ট।’
পরে আবিদ আল হাসান বলেন, ‘কোনো বহিরাগত যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তখন ছাত্রলীগ শক্তভাবে প্রতিহত করবে।’

৮ এপ্রিল কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সরাতে রাত ৮টার দিকে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। আন্দোলন চলতে থাকে।
এরই মধ্যে ১০ এপ্রিল, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় সুফিয়া কামাল হলের তিন ছাত্রীকে ইফফাত জাহান এশা মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠে।

 এই খবর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। আহত ছাত্রীর রক্তাক্ত পা, স্যান্ডেল ও ফ্লোরের বিভিন্ন ছবি ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে অনেকেই এর প্রতিবাদ জানান ও বিক্ষোভ করেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা এশাকে অবরুদ্ধ করেন। আন্দোলনকারীদের হাত থেকে তখন এশাকে উদ্ধার করে তাকে সাময়িক বহিষ্কারের কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।

 পরে তদন্তের ভিত্তিতে এশার কোনো দোষ পাওয়া যায়নি জানিয়ে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের বৈঠকে এশাকে হেনস্তার জন্য ২৬ শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। অন্যদিকে টানা তিন দিন আন্দোলনের পর ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের পক্ষে কথা বললে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।

, , ,