বাঁশখালীতে লেদু হত্যা মামলার ঘটনায় আসামীদের বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর
বাঁশখালীতে লেদু হত্যা মামলার ঘটনায় আসামীদের বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর

বাঁশখালীতে লেদু হত্যা মামলার ঘটনায় আসামীদের বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর

accused-in-the-case-of-Litchi-murder-in-Banskhali

বাঁশখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের ডোংরা গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ডের মুন্সি পাড়া এলাকায় জায়গা-জমির বিরোধের জের ধরে বিগত ১৯ মার্চ সোমবার দু'পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলাকার ফররুখ আহমদ প্রকাশ লেদু (৪৫) নামে এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত হয়। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ ফরুখ আহমদ কে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই শফিক আহমদ বাদী গত ২০ মার্চ ৩৫ জনকে আসামী করে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামীরা পালাতক হলে আসামীদের বাড়ী ঘরে হামলা, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

৪ এপ্রিল বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মামলার আসামীদের বাড়ীঘর ভাংচুর করে বাড়ীর সমস্ত আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণ ও বাড়ীর গবাদি পশু সহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে দুর্বত্তরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে বাড়ী ঘরে লুটপাটের বিষয়ে জানতে চাইলে, নুরুউদ্দীন কন্ট্রাকদারের বাড়ির ৯নং আসামী আবদুল আজিজের স্ত্রী শারমিন আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে সংবাদকর্মীদের বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ উদ্দীনের সাথে আমাদের জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ফিরোজ উদ্দীনের লোকের গুলিতেই মারা যায় তাদের দলীয় ফররুখ আহমদ প্রকাশ লেদু। কিন্তু ওই ঘটনায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার স্বামী ও আমার স্বামীর ভাইসহ ৩৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে তারা। এদিকে মামলার পর তাদের দলের লোকজন আমাদের বাড়ী ঘরে হামলা করে সমস্ত কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে দিনের বেলায় আমরা বাড়ী ঘরে থাকলেও রাত্রে তাদের ত্রাসের ভয়ে অন্যত্রে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, স্থানীয় নুরুল কাদের ও সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ উদ্দীন গ্রুপের সাথে সংঘর্ষ বাঁধলে এক পক্ষ অপর পক্ষের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে খানখানাবাদ ইউনিয়নে ডোংরা গ্রামের মুন্সি পাড়া এলাকার মৃত নওশা মিয়ার পুত্র ফররুখ আহমদ প্রকাশ লেদু চিকিৎসাধীন মারা যায়।

এ ব্যাপারে খানখানাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট বদরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবৃদ্ধ হয়ে একজন মারা যায়। পরবর্তীতে ৩৫ জন কে আসামী করে মামলা হয়েছে। মামলার ১৫ দিন অতিবাহিত হলে এখনও পযর্ন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। গ্রেফতার আতঙ্কে আসামীরা এলাকা ত্যাগ করছে। সেই সুবাদেই আসামীদের ঘর বাড়ি মালামাল লুটপাটের খবর শুনেছি। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিষদের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাহউদ্দিন হিরা বলেন, ঘটনার পর থেকে আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে আসামীদের বাড়ীতে হামলা ও লুটপাটের ব্যাপারে কেউ ধরনের অভিযোগ কিংবা অবহিত করেনি।


,