বাংলাদেশ পুলিশ এবং সেনাবাহিনী, বাস্তবতা বনাম আমাদের অতিরঞ্জিত প্রপাগান্ডা
বাংলাদেশ পুলিশ এবং সেনাবাহিনী, বাস্তবতা বনাম আমাদের অতিরঞ্জিত প্রপাগান্ডা

Bangladesh police and army, reality versus our exaggerated propaganda

সেবা ডেস্ক: একটি দেশকে যদি কোনো মুদ্রার সাথে তুলনা করা হয় তাহলে সেই দেশের ‘স্বাধীনতা অর্জন’ এবং ‘স্বাধীনতা রক্ষা’ একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। আমাদের দেশের এই স্বাধীনতা অর্জন এবং স্বাধীনতা রক্ষা, দুইটি ব্যাপারের সাথে অতি গুরুত্ত্বপূর্ণভাবে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ পুলিশ এবং সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ যে ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি সুনাম কুঁড়িয়েছে, সেটি হলো জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে অবদান রেখে। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে ‘শান্তির পায়রা’ হিসেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে নিয়ে আসছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশ।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ পুলিশ সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে যে স্বাধীনতা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেই স্বাধীনতা রক্ষায় বদ্ধ পরিকর।


সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ এর মধ্যে একটি ছোট ভুল বোঝাবোঝির কারণে সৃষ্ট তুচ্ছ ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে ছড়িয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জামাত বিএনপির কিছু দোসর। সেনাবাহিনী এবং পুলিশের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরী করে আমাদের দেশের পবিত্র স্বাধীনতা বিনষ্ট করার পায়তারা করছে বিএনপি জামাত।


বাংলাদেশের ইতিহাসে সেনাবাহিনীতে সব থেকে বেশি ক্যু সৃষ্টি হয়েছে জিয়ার আমলে। সেনাবাহিনীতে সৃষ্ট প্রায় সবগুলো ক্যু তে জিয়া প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিল। সেনাবাহিনীতে ক্যু তৈরির জনক জিয়ার হাত ধরে ক্যান্টনমেন্ট থেকে অবৈধভাবে জন্ম নেওয়া বিএনপি এবং স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি জামাত সেই পথেই হাঁটার পায়তারা করছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশ অনেক বেশি সুশৃঙ্খল এবং বিন্যস্ত। বিএনপি জামাত কতৃক সৃষ্ট অতিরঞ্জিত প্রপাগান্ডা দিয়ে এই শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।


সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সম্পর্কে যারা ন্যূনতম ধারণা পোষণ করেন, তারা কখনোই এই অতি রঞ্জিত সাভারের ঘটনা বিশ্বাস করবে না। একজন ট্র্যাফিক পুলিশ একজন মেজরের গায়ে হাত তুলেছে, এই ঘটনা যারা বিশ্বাস করে তারা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর নিয়মনীতি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

ইতিমধ্যে সেনাপ্রধান এবং আইজিপি সহ দুই বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের উদ্যোগে ঘটনাটির সুষ্ঠ সমাধানের উদ্দেশ্যে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন আইজিপি ও সেনাপ্রধান।


এসব তুচ্ছ অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে ফেসবুক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে যারা দেশে অস্তিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রদ্রোহী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এর ৫৭ ধারার মামলায় আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলেও তাঁরা জানান।