`সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধ নিয়ে যে নীতিমালা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল'

সেবা ডেস্ক: -ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধ নিয়ে যে নীতিমালা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, সেটি বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
সেবা ডেস্ক: -ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধ নিয়ে যে নীতিমালা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, সেটি বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

সচিব বলেন, ‘ভোটকে সামনে রেখে গণমাধ্যমের জন্য নতুন করে কোনো নীতিমালা নয় এবং নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে না।’ ‘তবে ভোটের দিন সংবাদ সংগ্রহ, সরাসরি সম্প্রচার ও ভোটকেন্দ্রে ইসির দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাই আমরা।’
নির্বাচন কমিশনের খসড়া নীতিমালা নিয়ে মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্বাচন কমিশন। এ সময় এসব কথা বলেন সচিব।

‘নির্বাচনে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ, প্রচার, প্রতিবেদন প্রকাশ এবং ভোট গ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহ, প্রকাশ/প্রচার বিষয়ে নীতিমালা’ প্রণয়ন সংক্রান্ত এই মতবিনিময় সভা হয়। কমিশনের লিখিত খসড়ায় ভোটকেন্দ্রের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানা বিধি নিষেধের কথা বলা ছিল।

এর মধ্যে অন্যতম ছিল: প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না; সাংবাদিকরা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না; কোনো প্রকার নির্বাচনী উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করা থেকে বিরত থাকবেন।

সাংবাদিকরা ভোটে প্রার্থী বা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে যে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয় খসড়া নীতিমালায। খসড়ায় বলা হয়, ভোটদানের ছবি তোলা বা ভিডিও করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কর্মরতদের সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না; পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না; ভোটকক্ষের ভেতর থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না।

ভোট গণণা সরাসরি সম্প্রচার না করা এবং একই সঙ্গে একাধিক সাংবাদিকের একই কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও উল্লেখ ছিল খসড়ায়। তবে গণমাধ্যমকর্মীরা ইসির এই উদ্যোগের সমালোচনা করেন। বলেন, এই নীতিমালা হলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হতে পারে। তারা বলেন, গণমাধ্যকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে সচেতনভাবেই কাজ করছেন। বিদ্যমান আইন-বিধির যথাযথ প্রয়োগ হলে নীতিমালার প্রয়োজন পড়বে না।


গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা না করে অবাধ, সুষ্ঠু ভোট আয়োজন করতে কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের পরামর্শ দেন সাংবাদিকরা। একজন গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ‘প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না, এটা কেমন কথা? তার অনুমতি নিতে হলে তো ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। বাইরে বসে কীভাবে অনুমতি নেয়া যায়?’

আরেকজন সাংবাদিক বলেন, ‘অনেক সময় প্রিজাইডিং কর্মকর্তারাও ভোটে করচুপি করেন। তাহলে তিনি কীভাবে অনুমতি দেবেন? এটা করা হলে সাংবাদিকবান্ধব হবে না। এর চেয়ে বলা হোক সাংবাদিকরা আপনারা বাইরে থেকে শুধু তাকিয়ে দেখুন।’

পরে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের জন্য প্রস্তাবিত নীতিমালা করা হচ্ছে না। নতুন কোনো বিধি-নিষেধ আরোপের উদ্দেশ্য আমাদের নেই। গণমাধ্যম আমাদের সহায়ক শক্তি। আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে ভোটের সংবাদ আরো কীভাবে সুচারুভাবে প্রচার করা যায়।”

‘ভোটকেন্দ্রে কর্মরতদের সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না-এমন বিষয়ও যুক্ত রাখা হবে না।’
‘স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমকর্মীরা কাজ করে; নিজেদের নীতিমালা মেনে কাজ করে। আগামীতে এ কাজ আরো সুন্দর হবে আশা করি। কোনো ধরনের ভুল বুঝাবুঝি যেন না ঘটে সে বিষয়ে নজর রাখা হবে। যে কোনো অনিয়মের বিষয়েো কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে’- বলেন সচিব।

গণমাধ্যমের প্রশংসা করে হেলালুদ্দীন বলেন, ‘ভোটের দিন অনিয়মের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দেখেই ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় সেল থাকে। সেক্ষেত্রে ফল প্রচার ও ব্যবস্থাপনায় একযোগে কীভাবে কাজ করা যায় তাও দেখা হবে।’ এ সময় ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান, যুগ্মসচিব মিজানুর রহমান খন্দকার, এস এম আসাদুজ্জামান, ফরহার আহাম্মদ খান, উপ সচিব ফরহাদ হোসেন ও তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন আশিস সৈকত, জ ই মামুন, মোস্তফা ফিরোজ, জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল, মনজুরুল হক, মঈনুল হক চৌধুরী, সৈয়দ আশিক রহমান, কাজী জেবেল, সাইদুর রহমান, রাজা রায়, একরামুল হক সায়েম, আরাফাত সিদ্দিকী, রাসেল আহমেদ, মুকিমুল আহসান হিমেল, তানিয়া আহমেদ, আসমা মিতা, হুমায়ুন কবীর, বেলায়েত হোসেন, ইমরান হোসেন, সিরাজুজ্জামান হেলালা, জহির রায়হান প্রমুখ।

, , ,
themeforestthemeforest