SebaBanner

আজ*

হোম
জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস উদ্বোধন, উত্তেজনা

জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস উদ্বোধন, উত্তেজনা
সেবা ডেস্ক: - আরব বিশ্বের নীরবতার মধ্য দিয়েই আজ জেরুজালেমে স্থানান্তর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। পশ্চিমা শক্তিধর অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের এতে আপত্তি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে এর মধ্য দিয়ে জেরুজালেমকে ইসরাইলের স্বীকৃতি দিচ্ছেন।

 দিনটিকে ইসরাইলের ইহুদিরা জেরুজালেম দিবস হিসেবে উদযাপন করছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, আজ ইসরাইলের তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর করা হচ্ছে জেরুজালেমে।

 এর মধ্য দিয়ে জেরুজালেম যে ইসরাইলের রাজধানী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে স্বীকৃতি পাচ্ছে ইসরাইল। এ উপলক্ষে ওল্ড সিটি হিসেবে পরিচিত জেরুজালেমে নেমে এসেছে কয়েক হাজার ইহুদি বসতি স্থাপনকারী। তাদেরকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

১৪ই মে’কে ইসরাইল জেরুজালেম দিবস হিসেবে পালন করে বার্ষিক ভিত্তিতে। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়ার পর থেকেই তারা এ দিবসটি পালন করে। তাদের এমন উদযাপন স্বাভাবিকভাবেই ফিলিস্তিনিদের ক্ষেপিয়ে তোলে।

এর আগে এমন দিবস উদযাপনের সময় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা পাল্টা বিক্ষোভ করেছে। সেই বিক্ষোভে তীব্র শক্তি প্রয়োগ করেছে ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। তাদেরকে তারা দমিয়ে রেখেছে। আগের বছরগুলোর মতো রোববার ইসরাইলিরা সব ফিলিস্তিনিদের দিক থেকে জেরুজালেমে প্রবেশের সব সড়ক বন্ধ করে দেয়। ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় সব কিছু, যাতে ফিলিস্তিনিরা ওইসব সড়ক পাড় হয়ে দামাস্কাস গেট পৌঁছতে না পারেন।

এই দামাস্কাস গেট হলো ওল্ড সিটিতে প্রবেশের অন্যতম গেট। এই গেটের কাছেই এক পাশে অল্প কিছু সংখ্যক ফিলিস্তিনি ও আরব মিডিয়ার সাংবাদিক সমবেত হয়েছিলেন। অন্যদিকে ইহুদিদের বিশাল সমাবেশ। তাদের হাতে সাদা ও নীলের সমন্বয়ে বানানো ইসরাইলি পতাকা। তারা পাথরের ওপর উঠে দোলাচ্ছে তা। কেউ কেউ নানা রকম চান দেখাচ্ছে। আনন্দে কেউ স্লোগান দিচ্ছে। স্থানীয় একজন অধিবাসী বারহাম বলেছেন, এখানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নয়। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৬ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দিলেন তখন সেই খবর শুনে আমরা হতাশ বা বিস্মিত হই নি। দূতাবাস স্থানান্তরের চেয়ে অধিক ভয়াবহ বিষয় হলো এই শহরকে ইহুদিকরণ করা হচ্ছে, সমাজকে ইসরাইলিকরণ করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি অধিবাসীদের বের করে দেয়া হচ্ছে। তাদের বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে। আল আকসা চত্বর তারা ঘেরাও করে রাখছে। জেরুজালেম দখন হয়ে গেছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর নিয়ে ইসরাইলিদের আনন্দের সীমা নেই। তারা ড্রাম নিয়ে, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। দখলকারীদের ওল্ড সিটিতে প্রবেশের পথ থেকে ব্যারিকেড উঠিয়ে নিয়েছে ইসরাইলি পুলিশ। এরও আগে কয়েক শত বসতি স্থাপনকারী ইসলামের তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মানীত স্থান আল আকসা মসজিদ ঘেরাও করে রাখে। সেকানে তারা উড়িয়ে দেয় ইসরাইলি পতাকা। প্রার্থনা সভার আয়োজন করে। এ সময় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদ ছেড়ে যায়।
রোববার ওল্ড সিটির শেখ লুলু এলাকার বাসিন্দা উম্ম জিহাদ তার বাসার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সন্তানদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। ইসরাইলের অবরোধের ফলে কিভাবে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে জটিলতার শিকার হচ্ছিলেন অনেক পুরুষ। তাদেরকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন তিনি। উম্ম জিহাদ বলেন, আমি আশা করছি সোমবারের বিক্ষোভে যত বেশি সম্ভব মানুষ যোগ দেবে।

 সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। রোববারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ আমরা এই শহরে নড়াচড়া করতে পারছি না। কারণ, ইসরাইলি সেনারা ব্যারিকেড দিয়ে কার্যত আমাদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। উম্ম জিহাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করছে।

 কিন্তু তাতে ফিলিস্তিনি জনগণের ইচ্ছাশক্তিতে কোনোই পরিবর্তন আসবে না। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যা করছে তার মুখে দাঁড়িয়ে কেউই নীরব থাকতে পারেন না। জেরুজালেম হলো ফিলিস্তিনিদের হৃদপিন্ড। প্রতিজন ফিলিস্তিনি এর গুরুত্ব হাড়ে হাড়ে অনুধাবন করেন। উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিকভাবে আজ সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর একটায় জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস উদ্বোধন করা হবে। এতে যোগ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল প্রতিনিধি।

 এর মধ্যে উপস্থিত থাকার কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প, জামাই জারেড কুশনার প্রমুখ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের জন্য রোববার বিকেলে বড় ধরনের অভ্যর্থনার আয়োজন করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দামাস্কাস গেটের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ছিলেন আফাফ আল দাজানি।

তিনি ওল্ড সিটিতে এতিমদের সংগঠনের প্রধান। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর করানোর ফলে অবশ্যই আমরা দুর্ভোগের শিকার হবো। এখনই বসতি স্থাপনকারীদের উপস্থিতির কারণে আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। দূতাবাস স্থানান্তর এই অবস্থাকে আরো জটিল করে তুলবে। তার অভিযোগ এ বিষয়ে আরব দুনিয়া নীরব। তারা কোনো কথা বলছে না। তিনি বলেন, আরব বিশ্ব এই বিষয়টাকে এমনভাবে নিচ্ছে যেন তারা একটি সিনেমা দেখছে। তাদের চেতনাবোধ জাগ্রত হবে কবে?

,