দেশ ও জাতির সেবায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত

দেশ ও জাতির সেবায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত

সেবা ডেস্ক: শোষণহীন, দারিদ্রমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই স্বপ্ন একে একে বাস্তবায়ন করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব ও সুশাসনে অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছে আমাদের দেশ বাংলাদেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস পরিশ্রমের কারণে বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিনিত হয়েছে। 

দেশ এখন দ্রুত ডিজিটালাইজড হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্য রপ্তানি থেকে শুরু করে সামরিক শক্তিতেও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে। 

আর এসব সম্ভব হচ্ছে এাকমাত্র সুশিক্ষিত নেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য জীবদ্দশায় হাজারও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ডিগ্রী এবং পুরষ্কার অর্জন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

শেখ হাসিনা প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি চুক্তি সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন কম-বেশি পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে। 

 বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালিদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির পর আস্তে আস্তে বাঙালি ও পাহাড়িদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। চুক্তির কারণে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রতি বিরাজ করছে।

বাংলাদেশের শহীদ দিবস ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি আসে বঙ্গবন্ধুকন্যার হাতেই। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিগত মেয়াদে ২০০৯ সালে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য হেগের সালিশি আদালতে নোটিশ করে। এর পথ ধরেই ২০১২ সালে মিয়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সমুদ্র সীমার রায় পায়। 

দুই রায়ে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের রাষ্ট্রীয় সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল মহীসোপান এলাকায় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি সই হলেও সেটা কার্যকর হয়নি। 

দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক জীবনে অনেকগুলো পুরস্কার ও সম্মাননা পদক পেয়েছেন। এর কোনটি পেয়েছেন তার ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য, আবার কোনোটি পেয়েছেন সরকারপ্রধান হিসেবে সামগ্রিক সাফল্যের জন্য। 

শেখ হাসিনা জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের এবারেট ডান্ডি ও ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী, অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’জ ডিগ্রি পেয়েছেন। 

শেখ হাসিনা যেসব পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— এজেন্ট অব চেঞ্জ পুরস্কার (২০১৬), প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন (২০১৬), চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ (২০১৫), আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পদক (২০১৫), সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার (২০১৪), শান্তি বৃক্ষ (২০১৪), রোটারি শান্তি পুরস্কার (২০১৩), GAVI পুরস্কার (২০১২), সাউথ- সাউথ পুরস্কার (২০১১), ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার (২০১০), এমডিজি পদক (২০১৩ ও ২০১০), M K Gandhi পুরস্কার (১৯৯৮), CERES মেডেল (১৯৯৯), Pearl S. Buck পুরস্কার (২০০০), মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কার (১৯৯৮), ইউনেস্কো’র Felix Houphouet- Boigny শান্তি পুরস্কার (১৯৯৮) ইত্যাদি। 

এসব অর্জনের পাশাপাশি শেখ হাসিনা তার নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের কারণে বিভিন্ন স্বীকৃতিও অর্জন করে নিয়েছেন। এর মধ্যে বিশ্বখ্যাত ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের ক্ষমতাধর একশ নারীর তালিকায় ৩৬তম স্থান পান শেখ হাসিনা। 

 যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউ ইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর জরিপে তিনি ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় সপ্তম স্থান দখল করেন।



,
themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে