বকশীগঞ্জে পাখা তৈরি করে বদলে গেছে খোরশেদার জীবন !

বকশীগঞ্জে পাখা তৈরি করে বদলে গেছে খোরশেদার জীবন !
পাখা তৈরির কাজে খোরশেদা

বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি:  জামালপুরের বকশীগঞ্জে নিজের করা আয়ে জীবন বদলে গেছে খোরশেদা বেগম নামে এক সংগ্রামী নারীর । এতে করে সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমানের উন্নতি ঘটেছে তার পরিবারের।

খোরশেদা বেগম (৪৫) উপজেলার অবহেলিত মেরুরচর ইউনিয়নের নদী কবলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত পূর্ব কলকিহারা গ্রামের শের আলীর স্ত্রী। ৫ বছর আগেও অভাবের তাড়নায় দু’বেলা দুমুঠো ভাত জুটত না খোরশেদার পরিবারের। সাত সদস্য বিশিষ্ট পরিবারে অভাব অনটন লেগেই থাকত

খেয়ে না খেয়ে দিন পারত করত তারা। স্বামী শের আলীর দিন মজুরের কাজ করে যে আয় হতো তা দিয়ে সংসার চলত না । কষ্ট করে কোন মতে টাকা জোগাড় করে বড় মেয়েকে বিয়ে দেন খোরশেদা।
অভাবের কারণে তিন ছেলে ও এক মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় তার সন্তানদের । এরই মধ্যে গ্রামের অন্যান্য নারীরা এগিয়ে যেতে শুরু করেছে। দাতা সংস্থা অক্সফ্যামের সহযোগিতায় রি-কল প্রকল্পের অর্থায়নে ২০১০ সাল থেকে বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় রি-কল প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প শুরু হয়।

চরাঞ্চলের বিপদাপন্ন মানুষের অর্থনৈতিক ন্যায্যতা অর্জন , নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর উদ্যোগ গ্রহণে কাজ শুরু করে প্রকল্পটি ।

এই প্রকল্পের অধীনে পিছিয়ে পড়া পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মানুষ গঠন করে পূর্ব কলকিহারা সূর্য উদয় উন্নয়ন সংঘ ।

এটি একটি গ্রাম ভিত্তিক সংগঠন (কমিউনিটি বেজড অর্গানাইজেশন) । নিজের ও সংসারের দুঃখ ঘোঁচাতে সিবিওতে নিয়মিত যাওয়া আসা শুরু করে সংগ্রামী নারী খোরশেদা বেগম। আর এতেই পাল্টে যেতে থাকে তার জীবন।

অক্সফ্যামের সহযোগিতায় রি-কল প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন ওই নারী। প্রশিক্ষণ শেষে রি-কল প্রকল্পের উদ্যোগে পুঁজি হিসেবে অফেরৎযোগ্য ৪ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। শুরু করেন পাখা তৈরির কাজ।

নিজেই বাঁশ কেটে রঙিন কাপর দিয়ে তৈরি করতে থাকেন হাত পাখা। এরপর আর তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। রঙিন কাপরের পাখায় স্বপ্ন বুনতে থাকে খোরশেদা বেগম। এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি।

তার বানানো পাখা এখন জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন তিনি পাখা বিক্রি করে দুই শ টাকা থেকে তিন শ টাকা আয় করছেন।

তার কাজে স্বামী ও সন্তানরাও সহযোগিতা করছেন। এলাকার বিভিন্ন হাট গুলোতে খোরশেদার পাখা বিক্রি হচ্ছে অনায়াসে। এমনকি পাইকারি বাজারেও তার বানানো পাখার চাহিদা রয়েছে।

খোরশেদা বেগম তার ব্যবসাকে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে বাজারজাত করতে চায় কিন্তু পুঁজির অভাবে তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।

বর্তমানে স্বামী ,সন্তান নিয়ে স্বচ্ছল ভাবে জীবন যাপন করছেন। আয় বেড়ে যাওয়ায় বর্গা নিয়ে চাষ করছেন জমি। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ায় জীবন যাত্রার মান যেমন উন্নতি হয়েছে তেমনি বেড়েছে আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মর্যাদা।

এ বিষয়ে সংগ্রামী নারী খোরশেদা বেগম বলেন, রি-কল প্রকল্পের সহায়তা ও তাদের দেয়া পরামর্শে এতদূর পর্যন্ত আসা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো জানান, মার্কেট লিংকেজ তৈরি করতে পারলে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো একধাপ এড়িয়ে যাবেন বলে মনে করেন।

উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জোৎস্না আক্তার বলেন, অক্সফ্যামের সহযোগিতায় চরের বিপদাপন্ন নারীদের অর্থনৈতিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা , ঘাত সহিষ্ণু সমাজ গঠনে আমরা রিকল প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি। দুর্যোগে ঝুঁকি হ্রাস করা, অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে এসব মানুষের তাদের সক্ষমতা তৈরি করতে পাশে আছে রি-কল ২০২১ প্রকল্প।


⦽প্রকাশকাল: ২৭-সেপ্টেম্বর-২০১৮-১৯:৩৮  ⇘সংবাদদাতা: বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি

, , , , ,