আওয়ামী লীগ খালেদাকে মুক্ত করতে চাইলেও বিএনপি রাজি নয়

আওয়ামী লীগ খালেদাকে মুক্ত করতে চাইলেও বিএনপি রাজি নয়

সেবা ডেস্ক:  দুর্নীতির মামলায় দায়ে দণ্ডিত হয়ে গত নয় মাস ধরে কারাগারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপার্সন  খালেদা জিয়া। আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি নিয়েও হতাশায় বিএনপি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি করেছে দলটি। অথচ বিএনপি চাইলে অনেক আগেই প্যারোলে মুক্তি পেতো বেগম জিয়া। তাহলে কি বিএনপির হাই কমান্ডের একটি অংশ চাচ্ছে না বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি!

বেগম জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, অনেক আগেই প্যারোলে বেগম জিয়ার মুক্তির আবেদন করতে বিএনপিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তখন বিএনপি সেটা মানেনি। খন্দকার মাহবুব হোসেন আরো বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে বের করা অনেক কঠিন হবে। সেই কারণে তার চিকিৎসার জন্যে প্যারোলে মুক্তি দেয়া যেতে পারে। আমি বিএনপির হাইকমান্ডকে বলেছিলাম, তারা এটা গ্রহণ করে নি। বরং তখন বিরূপ মন্তব্য করেছে। তারা বলেছিলো সরকারের কাছে আমরা স্যারেন্ডার করবো না।’

আসলেই কি সেরকম কিছু? নাকি বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাক সেরকম কিছু চাচ্ছে না বিএনপির হাইকমান্ডের একটি অংশ। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বয়ং ওবায়দুল কাদের নিজেই। তিনি জানান, বেগম জিয়ার মামলা বাতিল করার এখতিয়ার সরকারের নেই। তবে বিএনপি চাইলে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষ বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের এই উদারতাকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি চাচ্ছেন না তারা। এভাবে তাদের প্যারোলে মুক্তি নেয়ার ইচ্ছে নেই। যতদিন তাকে নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া হবে তত দিন আন্দোলন চলবে। অথচ মুখে আন্দোলনের নাম করলেও বিএনপি নেতাদের রাজপথে দেখা যায় না।

একটি বিশেষ সূত্র বলছে, বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দল এতটা দুর্বল নয় যে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ভয় পাবে। অথচ দলটির নেত্রী দুর্নীতির মামলায় আট মাসের অধিক সময় ধরে জেল হাজতে। দলটির সিনিয়র নেতারা প্রায় প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং করে, চিঠি লিখে অভিযোগ করে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে কোনো সিনিয়র নেতার ন্যূনতম ইচ্ছার প্রতিফলন দেখা যায় না। মুক্তির বিষয়ে দু-একটা কথা বলেই সিনিয়র নেতারা যে যার মতো ব্যবসা-বাণিজ্য, কাজ-কর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ বিএনপির শাসনামলে উপরোক্ত নেতারা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কোটি কোটি টাকা নামে-বেনামে বিদেশে পাঠিয়ে বিএনপির পাপের বোঝা ভারী করেছেন এই নেতারা। খালেদার কারাজীবনকে পুঁজি করে নিজেদের ভবিষ্যত গোছাতে চান সিনিয়র নেতারা। এদিকে খালেদার ব্যক্তিগত সহকারী শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য পাচার করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে