ইন্টারপোল ছাড়াই সালাহউদ্দিনকে দেশে ফেরাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ইন্টারপোল ছাড়াই সালাহউদ্দিনকে দেশে ফেরাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সেবা ডেস্ক: প্রতিবেশি দেশ ভারতের শিলং আদালত থেকে বেকসুর খালাস পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কে দেশে ফেরত নিয়ে আসতে ভারতের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

জানা গেছে, সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। সাধারণত বিদেশে অবস্থানরত আসামিকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হলেও কম গুরুত্ব বিবেচনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই তাকে ফেরানো হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ৯ মামলার জেরে দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

সালাহউদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিদেশ থেকে আসামি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের সহায়তা নিয়ে থাকে। বিদেশে লুকিয়ে থাকা কোন আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়। এক্ষেত্রে এনসিবি (ইন্টারপোল), ঢাকা সংশ্লিষ্ট দেশের ইন্টারপোলের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে। আসামির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করে। কিন্তু সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ভিন্ন। এখানে কাজ করছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার কারণে তিনি অবশ্যই গ্রেপ্তার হবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘যেহেতু তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, স্বাভাবিকভাবেই তাকে গ্রেপ্তার করবে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করার পরে এখানে তার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো আছে সেগুলোর বিচার চলবে।’

প্রসঙ্গত, বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় রয়েছে ২৭টি মামলা। এরমধ্যে ১৮টি মামলায় তিনি জামিনে আছেন। আর নয়টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ আছে আদালতের। বিষ্ফোরক দ্রব্য, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও হত্যার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় তিনটি, বিষ্ফোরক আইন ও হত্যার ঘটনায় রামপুরা থানায় দুটি, বিষ্ফোরক আইন ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় ভাটারা থানায় দুটি এবং হত্যা ও বিষ্ফোরক আইন ও হত্যার ঘটনায় কুমিল্লায় আরও দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে নিখোঁজ হন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। দুইমাস পর (মে মাস) ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ের একটি রাস্তা থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা হয়। সাড়ে তিন বছর পর গত ২৬ অক্টোবর তিনি ওই মামলায় বেকসুর খালাস পান। তবে পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকলেও এখনও ভারতেই অবস্থান করছেন তিনি।
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে