শুধু টিভি’তে নয়, টাঙ্গাইলের অলি-গলির চা দোকানে নির্বাচনী টক-শো

S M Ashraful Azom
0
শুধু টিভি’তে নয়, টাঙ্গাইলের অলি-গলির চা দোকানে নির্বাচনী টক-শো

সেবা ডেস্ক: অগ্রহায়ণের আকাশে শীতের হাওয়া যত দ্রুত ধেয়ে আসছে, তার চেয়ে বেশি দ্রুত ধেয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হাওয়া। প্রতি মুহূর্তে বাতাসের এই গতিবেগ বেড়েই চলেছে। 

নির্বাচন কমিশনের এই গতিবেগ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আছে রিটার্নিং অফিসার, ইলেকশন অফিসার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন। 

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার টিভি চ্যানেলের পর্দায় ও সংবাদপত্রের পাতা ভরে থাকছে পাঠক চাহিদার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জ্বর নিরসনের ব্যবস্থাপত্র। তাও বুঝি এই জ্বর থামতে চাইছে না, সাধারন জ্বর নয়, যেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত।

টাঙ্গাইল জেলার মানুষের মুখে মুখে চলছে- শীতকালীন ডেঙ্গু জ্বরের স্থায়িত্বকালের মতো ইলেকশন ফিভারও থাকবে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত। তারপর ধীরে ধীরে নামবে। তার আগে ক্ষণে ক্ষণে পাল্টাতে থাকবে রাজনীতির চিত্র। 

এ নিয়ে সাধারণের কৌতূহল এতটাই বেশি যে পথে ঘাটে একে অপরের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ের পালায় ‘কেমন আছেন’ বাক্যটি রিপ্লেস হয়েছে। খন্ডকালীন বাক্য এসেছে- ‘কি বুঝতে পারছেন’। সাধারণজন (আমজনতা) যে যার মতো করে উত্তর দিচ্ছে। এ নিয়ে শুরুতে আগ্রহী শ্রোতাদের ছোট্ট জটলা। এরপর উৎসুক আশপাশের লোকের অংশগ্রহণ। 

তারপর সংখ্যাধিক্যে শুরু হয় তুমুল আড্ডা। শীতের হাওয়ায় এই আড্ডা এনে দেয় নির্বাচনী উষ্ণতা। সরগরম হয়ে থাকে এলাকা। কখনও ভ্রাম্যমাণ এই আড্ডা এগোতে থাকে কাছাকাছি চায়ের দোকানের দিকে। হালে ভ্রাম্যমাণ এই চায়ের দোকানগুলোতে বেচাকেনা বেড়ে যাওয়া দেখে আসতে শুরু করেছে বুট, বাদাম, ফুচকা, চটপটি, শিক কাবাব, নান রুটি। 

এভাবে বাড়ছে ‘স্ট্রিট ফুডের’ পসরা। হয়ে উঠেছে জমজমাট। সৃষ্টি হচ্ছে অর্থনীতির নতুন এক বলয়। যা টেনে নিয়ে যাচ্ছে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত। এরপর এই পসরা কমতে থাকবে।

টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রস্থল নিরালা মোড়, পৌর উদ্যান, ক্যাপসুল মার্কেট, নিউ মার্কেট, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড, নতুন বাসস্ট্যান্ড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, পাঁচ আনি-ছয় আনি বাজার, বটতলা মোড়, ঈদ গাঁ চত্তরসহ সন্তোষের সড়কের ধারে ধারে অনেকটা জায়গায় স্ট্রিট ফুডের ব্যবসা জমজমাট। চলে সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি। 

যেখানে প্রজন্মের তরুণ-তরুণী, মধ্যবয়সী, রাজনৈতিক কর্মী সমর্থকদের মিলনমেলায় ভরে ওঠে পুরো এলাকা। কি নেই এই স্ট্রিট ফুডে। পিজা, বার্গার, সবজি রোল, গ্রিল, চিকেন ফ্রাই, চিংড়ির ফ্রাই, কাবাব, পিয়াজু, ফুচকা, চটপটি হালিম, বিরিয়ানিসহ নানা খাবার। পৌর উদ্যানের চায়ের দোকানগুলোর বেচাকেনা অন্য সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। 

পৌর উদ্যানের চায়ের দোকানদার অমুল্য টিনিউজকে বললেন, প্রতিদিন ভোটের রাজনীতির পক্ষে বিপক্ষের সমর্থকদের যে তর্কবিতর্ক শুরু হয় তাতে হারিয়ে যায় জন শোরগোল। যত বেশি তর্কযজ্ঞ তত বেশি বেচাকেনা। এই দোকানগুলোতে এখন চায়ের পাশাপাশি কফি, হরলিক্স বিক্রি হয়। টাঙ্গাইল শহরের উল্লেখযোগ্য পয়েন্টে এখন কফিমেকার নিয়ে বসেছে কিছু তরুণ। 

এগুলো ইলেকশন কেন্দ্রিক ভাসমান দোকানি। এই পয়েন্টগুলোতেও বসছে খন্ড খন্ড নির্বাচনী আড্ডা। দিনমান কাজ শেষে সাধারণ লোকজন এই জায়গাগুলোতে জড়ো হচ্ছে। থাকছে কিছুটা সময়। এ যেন নির্বাচনী আমেজের আন্তরিকতা ও ভাব বিনিময়ের এক অন্যরকম উৎসব।

শীতের মধ্যে এই নির্বাচনী হাওয়া বইবে বছরের শেষ দিন পর্যন্ত। এই নির্বাচন আসে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর। নির্বাচনী উৎসব টাঙ্গাইল জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলা শহর, ইউনিয়ন ছাড়িয়ে প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। এই উৎসবের নির্ধারিত কোন জায়গা নেই। 

গ্রামের পাকা সড়কের পথঘাট এখন অনেক উন্নত। বেশিরভাগ গ্রাম বিদ্যুতায়িত। শহর ও নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে নির্বাচনী আড্ডা বসছে। গ্রামের এসব আড্ডাগুলো জমে উঠছে। হাট বাজারে, চার স্টলগুলোতে, সড়কের কোন জংশনে যেখান যানবাহনের স্ট্যান্ড, গ্রামের পথের ধারে বিভিন্ন মুদি দোকানে। এমনকি গৃহস্থ ও কিষান বাড়ির উঠান বাদ যাচ্ছে না। হালে শহরের মতো গ্রামের পথেও ভাসমান দোকানিরা বসছে। 

সেখানেও মিলছে ঝাল, মিষ্টি নানা ধরনের খাবার। এসব দোকানগুলোতে টিভি সেটও আছে। যেখানে খবর চলছে। বর্তমানে কি শহর, কি গ্রাম। সব জায়গাতেই টিভি অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে খবর। সকলেই এখন টিভির খবরের অপেক্ষায় থাকে। 

এতেও মনে হয় সাধ মেটে না। প্রতিদিনের সংবাদপত্র ও অনলাইনের খবর পড়েন। সাধারণের কৌতূহলের কোন সীমা রেখা নেই। যারা বিদেশী চ্যানেলের সিরিয়ালে আসক্তি তারাও সাময়িক বিরতি দিয়ে রিমোটে দেশের টিভি চ্যানেলের বোতাম টিপে নির্বাচনী খবর ও নির্বাচন ভিত্তিক অনুষ্ঠান দেখছে।

দর্শক জাকির মিয়া টিনিউজকে বললেন, টিভি খবরে ও সংবাদপত্রে যা পাওয়া যায় তা ইলেকশনের রাজনৈতিক মঞ্চের দৃশ্য। মঞ্চের পর্দার বাইরে কলাকুশলীবরা কি করছেন তাও জানার আগ্রহ পেয়ে বসেছে এই সময়টায়। কৌতূহলের বৃত্তের বাইরে জানার আগ্রহ দিনে দিনে বাড়ছে। 

নতুন কোন কিছু ঘটলেই শুরু হয়ে যায় কথা। যে যার মতো করে বিশ্লেষণ করার পালা। টিভি চ্যানেলগুলোর টকশো নামের এক ধরনের বিনোদনের অনুষ্ঠান দেখে দর্শকরা এডিকটেড হয়ে পড়েছেন। পলিটিক্সের আড্ডা শুরু হলেই কেউ উপস্থাপক কেউ ‘জ্ঞানী বিশ্লেষক’ সেজে কথা বলতে থাকেন। এমন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দর্শক শ্রোতা হয়ে থাকা লোকজনও মজা পায়। 

কেউ আবার বিশ্লেষকদের নানা ধরনের প্রশ্ন করে জানতে চান। এই আড্ডার ধরণ শহরে ও গ্রামে প্রায় একই। শুধু স্থান কাল পাত্র ভেদে কিছুটা ভিন্নতা আসে। গ্রামে এ ধরনের আড্ডায় বাড়তি কিছু কথা শোনা যায়। যা গ্রামের আঞ্চলিক কথামালা- বেশ কৌতূকপ্রদ।

এবারের শীত মৌসুমের সংসদ নির্বাচন আয়োজনে নিচে নেমে আসা মেঘ, ঘন কুয়াশা ও শিশির যে নির্বাচনী উত্তাপকে কোনভাবেই ঠেকাতে পারবে না তা এখনই স্পষ্ট। শীতে ঠকঠক করে কাঁপা হাঁড় কাঁপুনি কোনটিই নির্বাচনী উত্তাপকে আটকাতে পারবে না। 

এই উত্তাপে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রম ও গণসংযোগের ধরনও যে অনেকটাই পাল্টে যাবে তাও দৃশ্যমান হচ্ছে। এসব পরিকল্পনার সবই প্রযুক্তি নির্ভর। অর্থাৎ নির্বাচনে প্রযুক্তির সর্বাধিক ব্যবহার হতে যাচ্ছে। 

সম্ভাব্য প্রার্থী তাদের এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং কিভাবে জনগণের সামনে গিয়ে কি কথা বলবেন তার প্রামান্য ভিডিও চিত্র ধারণ করছেন। যারা সাউন্ড রিমিক্স করে আকর্ষণীয়ভাবে ভিডিও এডিটিং করেন তাদের কাছে যাচ্ছেন। তাই সর্বপরি সবকিছুতেই এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া।

⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top