৭ নভেম্বর! কর্নেল তাহের হত্যা নাকি “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি”

৭ নভেম্বর! কর্নেল তাহের হত্যা নাকি “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি”

সেবা নিউজ ডেস্ক: ১৯৭৫ সালের নভেম্বর সিপাহি বিপ্লবের নামে মুক্তিযোদ্ধা-সৈনিকদের হত্যা প্রক্রিয়া একজনমুক্তিযোদ্ধাজিয়াউর রহমান কর্তৃক শুরু হয়েছিল এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মে সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তা সমাপ্তি ঘটেছিল

১৯৭৫ এর ৭ই নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে ইতিহাসের খলনায়ক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের এদিন ক্ষমতার অভিষেক হয়েছিল। ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ড, ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ড, সব শেষে ইন্ডিয়ার আগ্রাসনের মিথ্যা জুজুর ভয় দেখিয়ে হতবিহ্বল জাতিকে মিথ্যা প্রচারনার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করে। সেদিন সেনাবাহিনীর বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা অফিসারের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের কয়েকজন নিবেদিন প্রাণ নিরীহ কর্মকর্তাকে হত্যার মাধ্যমে পঁচাত্তরের মিশন শেষ করেছিল দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী, আইএসআই ও আমাদের দেশের আলোচিত খলনায়কেরা।
ঐ দিন সেনা বাহিনীর কর্মকর্তাদের পাশপাশি অনেক আম জনতাকেও হত্যা করা হয়েছিল। এর মধ্যে অনেকের নাম পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ লোকের খোঁজই পাওয়া যায়নি। সে সময়ের বিভিন্ন পত্রপত্রিকার খবরের মাধ্যমে যতটুকু জানা যায়; তাতে অনেককে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিল। অনেকের লাশ আবার বুড়িগঙ্গাতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল। এই হত্যাকান্ডে শহীদ হয়েছে এমন যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হচ্ছেন- মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ-বীর বিক্রম, কর্নেল নাজমুল হুদা, কর্নেল হায়দার, লে. কর্নেল আজিম, কর্নেল নূরুল আজিম, মেজর মহিউদ্দিন, ক্যাপ্টেন নাসিম, ক্যাপ্টেন খালেদ, ক্যাপ্টেন হামিদ মুজিব, শ্রমিক নেতা আব্দুল হাকিম তরফদার-এমপি, যুব নেতা মুস্তাফিজুর রহমান-এমপি, এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমানের নিরপরাধ স্ত্রীকে বাড়িতে ঢুকে হত্যা করা হয়েছিল। শুধু তা ই নয়, সেদিন বাংলাদেশ টেলিভিশনেও একটি ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ড চালিয়ে বিটিভি’র উপ-মহাব্যবস্থাপক মনিরুল আলমসহ চারজন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত মনিরুল আলমের শ্যালক ও হত্যা মামলার সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধা স্বপনের এক সাক্ষাতকারে জানা গেছে, বিটিভি’র এই নিরপরাধ চার কর্মকর্তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে রামপুরা টিভি ভবনে হত্যা করা হয়। মনিরুল আলম ছাড়াও আর যারা হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে নিহত হয়েছিলেন তারা হলেন- বিটিভি’র প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা-আকমল হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা একে সিদ্দিকী ও ক্যামেরম্যান-ফিরোজ। এই নিরীহ কর্মকর্তাদের সেদিন কেন বা কি কারণে হত্যা করা হয়েছিল তা কেউ জানতে পারলো না আজ পর্যন্ত।

একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুনের ‘ কীসের বিপ্লব, কীসের সংহতি?’ শিরোনামের নিবন্ধটির অংশ বিশেষ এখানে উদ্ধৃত করছি। …‘বিপ্লব অর্থ সমাজ বদলে দেয়া। ৭ নভেম্বরের পর সমাজে কি বদলেছে? সংহতি হলে ১৫ আগষ্টের পর এত সেনা/মানুষ খুন হলে কেন? বিএনপির তো তখন জন্মই হয়নি, তা হলে ৭ নভেম্বর নিয়েই বিএনপির এত মাথা ব্যথা কেন? ব্যথা তো হবে জাসদের।’ জনাব মুনতাসীর মামুনের এই কেনটির সাথে আমি দ্বিমত পোষন করছি। কেননা, ৭ নভেম্বর বিএনপির জন্ম না হলেও বিএনপি যে অবৈধ সামরিকতন্ত্রের ঔরষে জন্মগ্রহন করেছিল, তার ভ্রুন যে প্রতিস্থাপিত হয়েছিল ৭ নভেম্বর ১৯৭৫। এবং এ প্রতিস্থাপিত ভ্রুনের মাধ্যমেই জন্ম হয়েছিল বিএনপি নামক দলটির। তাই বিএনপি নেতা কর্মীদের কাছে ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারী ও ২৬ শে মার্চ এর চেয়েও অবশ্য পালনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ৭ নভেম্বর। কারণ এটাই যে আসলে বিএনপি নামক দলটির প্রকৃত জন্মদিন। তাছাড়াও সব’চে বড় কথা হলো, ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বরের সব’চে বড় বেনিফিশিয়ারী হলো বিএনপি নামক দলটি, তার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতার পরিবার-পরিজন।
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে খুনী মুসতাকের সিভিল মুর্তিকে সামনে নিয়ে এগিয়েছে জিয়া। তার এ উদ্দেশ্যের পিছনে যে কূটচালটি কাজ করেছিল তা হলো দেশের আমজনতাকে বুঝানো যে, আর্মি বা জেনারেল জিয়া তো ক্ষমতা গ্রহণ করেনি, ক্ষমতা দখল করেছে আওয়ামী লীগ মন্ত্রীসভার সদস্য মুসতাক আহমদ। এবং তার মন্ত্রীসভায় যে সকল সদস্য যোগ দিয়েছে তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী না হয়, প্রথম সারির কোনো নেতা। সুতরাং বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে তার (জিয়ার) সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নই আসেনা। কিন্তু দেশের মানুষ পরবর্তীতে জানতে পেরেছে জিয়া মুসতাক মন্ত্রী সভায় ওইসব কাপুরুষ আওয়ামী লীগ নেতাদের পিঠে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে মন্ত্রীসভায় যোগদান করতে বাধ্য করা হয়েছিল। আর মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি-সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী-তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী-ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী-কামরুজ্জামান, মুসতাক-জিয়ার অবৈধ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে মন্ত্রী সভায় যোগদান না করার কারণে তাদেরকে ৩ নভেম্বর রাতের অন্ধকারে পৃথিবীর সব’চে নিরাপদ স্থান জেলখানার ভেতর ঢুকে মুসতাক-জিয়া চক্রের লেলিয়ে দেয়া পশুরা নৃশংস ভাবে হত্যাকরে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার মিশন সফল করে। এর আগে ১৫ আগস্ট সেই খুনীচক্র একই কারণে বাঁচিয়ে রাখেনি বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে ১০ বছরের রাসেলকে। খুনীরা জানতো বঙ্গবন্ধু পরিবারের একজন সদস্যও বেঁচে থাকলে তার নেতৃত্বেই গড়ে ওঠবে প্রতিরোধ সংগ্রাম। সে প্রতিরোধ সংগ্রাম খুনীদের পক্ষেই সামাল দেয়া কোনোদিনই সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের সেই ইতিহাসের কলঙ্কজনক দিনে যদি শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশে থাকতেন তাহলে নির্ঘাত তারা খুনীদের জিঘাংসা ও নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচতে পারতেন না।
জিয়াউর রহমান সেই সময়টাতে এতটাই প্রতারণা ও ধূর্ততার আশ্রয় নেন যে, তাকে যাতে কেউ সন্দেহ বা সন্দেহেরও তালিকায় না রাখতে পারে সে জন্য মিশন পুরোপুরি সফল না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিষ্কিয়তার ভান করে অন্যের কাঁধে বন্দুক রেখে শিকারের কাজ শেষ করেছিলেন। জিয়াউর রহমান একজন ঠান্ডা মাথার খুনী বলেই এটা করতে পেরেছেন। তাকে যে ২ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল সে গ্রেফতারও ছিল একটি সাজানো গ্রেফতার। এ গ্রেফতার নাটক নিয়ে লে. কর্নেল হামিদ তার ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান বইতে লিখেছেন, ‘জিয়া প্রকৃত অর্থে বন্দী ছিলেন না। তিনি তার নিজস্ব ষ্টাইলেই বন্দী ছিলেন। তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ও পদাতিক বাহিনীর প্রহরাধীন ছিলেন। তার ষ্টাফ অফিসারাও তার সঙ্গে ছিলেন। এমনকি তার টেলিফোনটিও সচল ছিল। বরং প্রেসিডেন্ট কর্তৃক বিদ্রোহ দমনের নির্দেশ পালনেও অস্বীকার করেছিলেন। ৭ নভেম্বর সাটারডে পোষ্ট পত্রিকাতে ৮৩ সালে ফারুক ও রশিদের দেয়া সাক্ষাতকারেও কথাটি বলা হয়। জিয়াকে খালেদ মোশাররফ নিজেও বিদ্রোহ দমনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন বলেও বিভিন্ন তথ্যে বেরিয়ে এসেছে। এমন কি এন্থনি মাসকারহ্যান্স কর্তৃক ১৯৭৬ সালে লন্ডনে গৃহিত সাক্ষাতকারে কর্নেল ফারুক ও রশিদ মন্তব্য করেছিল ‘টেলিফোন সচল রেখে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করে রাখাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।’
সম্প্রতি দৈনিক বাংলাদেশ সময়ে সাংবাদিক মিন্টু সারেং তার ‘৭ নভেম্বর বিপ্লব না প্রতিবিপ্লব’ নিবন্ধে লিখেছেন,‘খন্দকার মুসতাক তারই অনুসারী ফারুক, রশিদ, ডালিম চক্র রাষ্ট্র ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়ায়। যার পিছনে নেপথ্য শক্তিরূপে জিয়ার ভুমিকা সম্পর্কে তাহেরের নির্বোধ আবেগ কাজ করেছিল জিয়ার প্রতি। তাহেরের সেই নির্বোধ আবেগই তাকে তার বাংলাদেশ পিপলস্ আর্মি গঠনের স্বপ্ন থেকে ছিটকে ফেলে দেয়। এবং জিয়ার দ্বারাই তার মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়। যার উপলব্দি থেকে তাহের গলায় ফাঁসির দড়ি পড়ার সময় চরম সত্যটি বুঝতে পেরেছিলেন। বিপ্লব কিভাবে প্রতিবিপ্লবীর হাতে চলে যায়, তার জলন্ত প্রমাণ হলো তাহেরর ফাঁসির ঘটনা। বিষ্ময়কর হলেও সত্য যে, ২১ জুলাই ১৯৭৬ যে জিয়ার বিরুদ্ধেই সেনা বিদ্রোহের বিচার হওয়ার কথা ছিল; সে বিচার হয়ে গেল বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেরের বিরুদ্ধে, যিনি গণমুখী উৎপাদনশীল বাংলাদেশ পিপলস্ আর্মি গঠনের স্বপ্ন দেখতেন।…এভাবে তাহেরকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে।’
বিপ্লব ও সংহতি শব্দ দুটি খুবই মোটাদাগের অর্থপূর্ণ শব্দ। আরো একটু বিশ্লেষন যেতে চাই। বিপ্লব হলো, দেশের শাসন ব্যবস্থা বা সমাজ ব্যবস্থায় দ্রুত আমূল পরিবর্তন। আর সংহতি হলো ঐক্যবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ কর্ম প্রয়াস। তা হলে বিপ্লব ও সংহতি শব্দ দু’টির একত্রে অর্থ দাঁড়ায়-দেশের শাসন ও সমাজ ব্যবস্থায় সংঘবদ্ধ ভাবে পরিবর্তন আনয়ন করা। ৭ নভেম্বর জনগণকে ধোঁকা দেয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবেই ক্যু এর সাথে বিপ্লব শব্দটিকে সমার্থক করে তোলা হয়েছিল। ৭ নভেম্বর ছিল একটি পরিস্কার সামরিক অভ্যুত্থান বা ক্যু। যা কোন অর্থেই বিপ্লব ছিল না। বিপ্লবের সাথে যে জনসম্পৃক্ততা থাকে সেখানে জনগণের কোনো অংশ গ্রহনই ছিলনা। তাই আমি এখানে বিপ্লব ও ক্যু শব্দ দুটির মধ্যে অর্থগত বিশাল পার্থক্যটি বুঝানোর জন্য ‘এ্যলিজার বিরী’র এ সংক্রান্ত বিশ্লেষণটি এখানে তুলে ধরছি: “অভ্যুত্থান একটি একক কাজ এবং একটি বিপ্লব একটি ধারাবাহিক আন্দোলন হয়। একটি অভ্যুত্থান একটি ঘটনা, একটি বিপ্লব একটি যুগ। একটি অভ্যুত্থান কর্মীদের মধ্যে একটি পরিবর্তন আনতে, একটি বিপ্লব সমাজের গঠন মৌলিক পরিবর্তন সম্পর্কে আসে। বিপ্লবের মূল ভূমিকা জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয়, একটি অভ্যুত্থানে এটি কেবল কয়েকজন সামরিক কর্মী জড়িত।”
উপরোক্ত বিশ্লেষণ অনুযায়ী জিয়া ও তার অনুসারীরা দেশের রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় কী পরিবর্তনের কাজটি করেছেন? জেনারেল জিয়া ও তার অনুসারীরা বিপ্লব ও সংহতির নামাবলি লাগিয়ে নিজেদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করেছেন। একাত্তরে গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। স্বাধীনতা লাভের পর পরই আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক রাজাকার, আলবদরও আল-শামসদের বিচারের জন্য প্রণীত দালাল আইনটি বাতিল করে দিয়ে তাদের বিচারের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। পাকিস্তানী নাগরিক, গোলাম আযমকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে তার পুনর্বাসনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। গোলাম আযমের দল ও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারী পাকিস্তানী দখলদারদের দোসর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলামকে এদেশে পুনরায় অপরাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে রাজনীতির বিষ বৃক্ষটি নিজ হাতে রোপন করেছিলেন। ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতির নামে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বকারী দল আওয়ামী লীগকে সমূলে বিনাশ করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থককে হত্যা করেছেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ছোট বড় ১৭টি ক্যু দমনের নামে সেনাবাহিনীর শত শত মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে হত্যা করে একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন। জিয়ার জীবনদাতা মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহেরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে বিশ্বাসঘাতকতার নির্মম নৃশংস নজির স্থাপন করেছিলেন। শাহ আজিজের মতো কুখ্যাত রাজাকারকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে তিনি তার পাকিস্তানী প্রভুদের খুশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শুধু শাহ আজিজই নয় রাজাকার আব্দুল আলীম ও মান্নানকে মন্ত্রীসভার সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করে লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার রক্তের সাথে বেইমানী করেছিলেন। এতসব দেশবিরোধী বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজকে যদি কেউ বিপ্লব ও সংহতির নামে চালিয়ে দিতে চায়; তা হলে বিপ্লব নামক বিশাল অর্থবোধক শব্দটির অর্থটিইতো পরিবর্তন হয়ে যায়। আসলেই এতসব অপকর্মের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ও তার দল বিএনপি বিপ্লবের ব্যুৎপত্তিগত অর্থকেই আমূল বদলে দিয়েছিল। আর হ্যা, বিএনপি ও জামায়াতীদের মতে সে দিন যদি কোনো সংহতি হয়েও থাকে তা হয়েছিল পাকিস্তান নামক পরাজিত রাষ্ট্রটির সাথে। সংহতি হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে; যে শক্তি একাত্তরে তাদের শোচনীয় পরাজয় মেনে নিতে পারেননি। পরাজয় মেনে নিতে পারেনি আইএসআই এবং আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তাই আইএসআইয়ের একজন বিশ্বাসভাজন সাবেক কর্মকর্তা হিসাবে জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ড ঘটিয়ে, ৩ নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে, এবং সব শেষে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতির নামে খালেদ মোশাররফদের মতো অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারকে হত্যা করে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল। আর আইএসআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান তার ওপর অর্পিত এ্যাসাইনমেন্ট সফল ভাবে সম্পন্ন করে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে অভিষিক্ত হয়েছিলেন।
আমরা আরো জানি যে, জিয়াউর রহমানের মতো একজন বিশ্বাসভাজন সাবেক আইএসআই কর্মকর্তা ও মুসতাক আহমদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান, শেষ রক্ষা হিসাবে একটা কনফেডারেশন গঠনের চেষ্টা চালিয়েছিল। এ প্রচেষ্টা প্রবাসী অস্থায়ী সরকারের গোচরীভূত হলে জিয়াউর রহমান ও মুসতাকের ওপর নজরদারী শুরু হলে জিয়াউর রহমান অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। জিয়াউর রহমানের এ নিষ্ক্রিয়তার জন্য জেনারেল ওসমানী তাকে তিনবার ওয়ারেন্ট অব এরেষ্ট পাঠান কিন্তু তাজউদ্দিন সাহেবের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিস্পত্তি হলেও তাদের ওপর নজরদারী আরো জোরদার করা হয়েছিল। এই কারণেই মুসতাককেও সে সময় অস্থায়ী সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রীর পদে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। ১১ আগষ্ট ২০০৯ দৈনিক প্রথম আলোতে নিক্সন কোর্ড প্রশাসনের দলিলে কিছু অংশের অনুবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতার অনেক প্রমাণ ফুটে ওঠে। তাই জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ডেপুটি চীপ থেকে ২৫ আগষ্ট সেনাবাহিনীর চীপ অব ষ্টাফ পদে নিযুক্তি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সায়েমকে সরিয়ে নিজেই প্রেসিডেন্টের পদ দখল করেন। আসলে ৭ নভেম্বর কোনো বিপ্লব ছিলনা। এটা ছিল জিয়াউর রহমানের মতো কয়েকজন উচ্চাভিলাষী সামরিক কর্মকর্তার ষড়যন্ত্র বা সামরিক অভ্যুত্থান।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সামরিক জান্তার গণমাধ্যমের ওপর খবরদারী ও নিষেধাজ্ঞা ছিল। সামরিক সরকার যা ছাপানোর নির্দেশ দিত তা ই ছাপানো হতো; এর বাইরে যাওয়ার কারো কোনো ক্ষমতা ছিলনা। সেই কারণে তখন সংগঠিত ঘটনা বা ষড়যন্ত্র সম্মন্ধে দেশের মানুষ কোনো কিছুই বা কোনো সত্য ঘটনা জানতে পারেনি বা জানতে দেয়া হয়নি। আর তখন হাতে গোনা যে কয়টা পত্রিকা বের হতো তার মধ্যে জাসদের মুখপত্র বা হক কথা জাতীয় পত্রিকা সত্য মিথ্যা বানোয়াট গুজব যা ই প্রচার করতো তা ই মানুষজনকে গিলতে হতো। এর বাইরে কিছুই জানার উপায় ছিলনা। ছিলনা তখন আজকের মতো এমন ইলেকক্টনিকস মিডিয়ার রমরমা সময়ও। রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম রেডিও ও টেলিভিশনে সামরিক সরকারের গুনকীর্তন আর বঙ্গবন্ধু ও তার পুত্রদের নামে আজগুবি গুজব ও মিথ্যা প্রচারনা চালানো হতো। তখন সেসব ঘটনা জানার সুযোগ না হলেও ১৯৯০ সালে সামরিক সরকারের কবল থেকে দেশ মুক্ত হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে সব সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসতে থাকে। সাথে সাথে বেরিয়ে আসতে থাকে তখনকার জাসদ ও কর্নেল তাহেরের অনেক কর্মকান্ডও। তখন জাসদের সরকার বিরোধী সকল কর্মকান্ড ষড়যন্ত্রকারীদের হাতকে আরো শক্তিশালী করেছিল। জিয়ার চাল বুঝে হোক বা না বুঝে হোক জাসদের নেতাকর্মীরাই জিয়ার যাবতীয় অপকর্মের একনিষ্ঠ সমর্থক হয়ে ওঠেছিল। সেই কারণেই হয়তো জাসদ এ দিনটিকে বিপ্লব দিবস হিসাবে পালন করে। কেননা, তাদের নেতা কর্নেল তাহের ছিল এ তথাকথিত বিপ্লবের রূপকার। শুধুমাত্র আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ার অপরাধে! খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে ভারতীয় আগ্রাসনের ধূয়ো তুলে কর্নেল তাহের সেদিন জিয়াউর রহমানের সাথে হাত মিলিয়ে শেরেবাংলা নগরে ১০ম ইষ্ট বেঙ্গলের অফিসের ভিতর নাস্তা খাওয়ারত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের অকুতভয় সাহসী সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ এবং তার সাথে মুক্তিযুদ্ধা বীর বিক্রম কর্নেল হুদা ও বীর উত্তম কর্নেল হায়দারকে হত্যা করেছিল। তারা সেদিন সম্মিলিত ভাবে অপপ্রচারে ঠাসা লক্ষ লক্ষ লিফলেট মানুষের মাঝে বিলি করেছিল। যার ভাষা ছিল অনেকটা এমন‘ খালেদ মোশাররফের নেত্রত্বে ভারতীয় সেনা বাহিনী যে কোনো সময় বাংলাদেশ আক্রমন করতে পারে। আবার কোনো কোনো লিফলেটের ভাষা ছিল এমন‘ সাধারণ সৈনিকেরা তাদের রুটি রুজির দাবীতে রাস্তায় নেমে এসেছে তাদের সাথে যোগ দিন। তখন সেনা বাহিনীর চেইন অব কমান্ড একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আইএসআইয়ের মদদপুষ্ট সৈনিকেরা কিছু লরি ও টেঙ্ক নিয়ে রাস্তায় নেমে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে শ্লোগান দিয়েছিল ‘সিপাহী জনতা ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই’ ইত্যাদি ইত্যাদি। জাসদ আরো দাবী করে সাধারণ সৈনিকদের নাকি রাজনৈতিক দাবী ছিল একটি গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন গণবাহিনী প্রতিষ্ঠার। কিন্তু অপ্রতুল প্রস্তুতি ও বাম গণতান্ত্রিক শক্তির অনৈক্য ও বিভাজনে তাদের প্রয়াস ব্যর্থ হয়। কিন্তু তারা যত কথাই বলুক তখন জাসদের সভাপতি-মেজর জলিল, সাধারণ সম্পাদক-আসম আব্দুর রব, তাদের তাত্ত্বিক নেতা-সিরাজুল আলম খানদের ভুমিকা ছিল খুবই রহস্যাবৃত। এবং তারাই সেনাবাহিনীর মতো একটি সুশৃংখল বাহিনীতে তথাকথিত পিপলস্ আর্মি বা বিপ্লবী সেনা সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টি প্রয়াস চালিয়েছিলেন। তাই এদিন এই সব দাবী নিয়ে সকল সিপাহী রাস্তায় নেমে এসেছিল এ কথাটা ঠিক নয়। সেদিন ঢাকার রাস্তায় প্রতিবিপ্লবীদের কিছু সমর্থক, কিছু সিপাহী আর তখন ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম ও সাধারণ ক্ষমা পেয়ে যাওয়া রাজাকার, আল-বদর, আল- শামসের সদস্যরা আনন্দ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে এসছিল এদের সাথে ছিল জাসদের নেতাকর্মীরা। রাস্তায় নেমে এসেছিল পাকিস্তানী ভাবধারায় বিশ্বাসী কিছু সিপাহী জনতা। আর সাথে তো জাসদের গণবাহিনী ছিলই। কিন্তু দেশের অন্য কোন সেনানিবাসে সিপাহী বিদ্রোহের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যদি তা ই ঘটতো তা হলে প্রগতিশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল শিবিরের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতো। যা সেদিন কোনো সেনানিবাসেই ঘটেনি বলে পত্রপত্রিকায় তথ্যপ্রমাণ আছে। বরং সেদিন জিয়ার অনুসারী কর্নেল তাহের ও জাসদের নেতাকর্মীরা মিথ্যা গুজবে ভরা লিফলেট জনগণের মধ্যে বিলি করে এ অভ্যুত্থানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিল । সে অনেক কথা। অনেক কাহিনী। আর জিয়াউর রহমানের হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা না আসা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ দল ও উপদলের মধ্যে চলে ক্ষমতা দখলের নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা। এর বাইরে জাসদের শীর্ষস্থানীয় নের্তৃবৃন্দ এবং কর্নেল তাহেরও নন। সেই সময় জাসদের একটা সমর্থক গোষ্ঠী সেনা বাহিনীতে সক্রিয় ছিল। সেই গোষ্ঠী বা দলের মুখ থেকে তখন সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড বা জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ড সম্মন্ধে কোন প্রতিবাদ বা একটি সহানুভুতির কথাও বের হয়নি। বরং তারা তখন জেনারেল জিয়ার সাথে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দরকষাকষিতে ব্যস্ত ছিল।
মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিপসুলজ তার ‘আনফিনিসড রেভুলেশন’ বইতে লিখেছেন,‘ ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ ক্যুর মাধ্যমে সেনা বাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। সেজন্য জিয়াউর রহমানকে আটকাবস্থায় রাখলেও জুনিয়র অফিসারদের অনুরোধের পরেও তিনি জিয়াকে হত্যা করেননি। রাষ্ট্রপতি হবার মতো কোন উচ্চাভিলাষ তার ছিল না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুসতাককে পুতুল সরকার সাজিয়ে সেনা বাহিনীর জুনিয়র অফিসাররা বঙ্গ ভবনে বসে যে দেশ শাসন শুরু করে তা ই তিনি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে সৈনিকেরা জিয়াকে মুক্ত করে আনলে জিয়া নিজে একাই ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস; জিয়া কর্নেল তাহেরকে প্রতিদান দেন প্রহসনের বিচারের রায়ে ফাঁসির মাধ্যমে। সে সময় ৭-৮ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকার রাজপথে বহু বেসামরিক লোকসহ পদস্থ সেনা কর্মকর্তা তথা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার পরে জিয়ার নির্দেশে ২৩ নভেম্বর রাতে জাসদ সভাপতি-মেজর জলিল, সাধারণ সম্পাদক-আসম আব্দুর রব, হাসানুল হক ইনু, এবং কর্নেল তাহেরের বড় ভাই ফ্লাইট সার্জেন্ট আবু ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় কর্নেল তাহেরকে। এবং এক প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির আদেশ দিয়ে ২১ জুলাই ১৯৭৬ ভোরে সে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। যে অপরাধে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে জুলানো হয়েছিল সে ধরনের অপরাধে ফাঁসি হয়না। তেমন অপরাধেই তাহেরকে ফাঁসি দেয়া হয়। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায়, এ অপরাধে ফাঁসির দন্ড না থাকার কথা সচিব জিয়াকে জানানোর পর তিনি উক্ত সচিবের মুখের উপর ফাইল ছুড়ে মেরে বলেছিলেন,‘দরকার হলে আগে ফাঁসি হবে তারপর আইন’। জিয়ার এ নির্দেশের উপর ভিত্তি করেই আগে ফাঁসির রায় কার্যকর করে, পরে রায় কার্যকরের ১০ দিনের মাথায় এই অপরাধে ফাঁসি সংক্রান্ত ফরমান জারি করা হয়েছিল।
জিয়া তাহেরের সমঝোতার বিষয়টি শুধু আমার বক্তব্য নয়। দেশের প্রথিতযশা অনেক সাংবাদিক-কলামিষ্টের বিভিন্ন প্রবন্ধ নিবন্ধ ও অনুসান্ধানী প্রতিবেদনে বেড়িয়ে এসেছে। তাছাড়াও আমার এ বক্তব্যের সত্যতা মিলে সম্প্রতি সহযোগী একটি দৈনিকে প্রকাশিত বিশিষ্ট কলামিষ্ট মাসুদা ভাট্টির ‘বিপ্লব ও সংহতি নয়, জাতীয় প্রতারকদের সংহতির সময়’ শিরোনামে নিবন্ধ থেকে। মাসুদা ভাট্টি তার ঐ নিবন্ধে এ ভাবেই কর্নেল তাহের ও জাসদের সম্পৃক্ততার কথা বলেন,‘ খালেদ মোশাররফ জিয়াকে বন্দী করায় রাষ্ট্র ক্ষমতা পুরোপুরি দখলের পথে বাঁধা পড়ে। আমরা তখন কর্নেল তাহেরকে দেখতে পাই দৃশ্যে। কর্নেল তাহের দৃশ্যের আড়ালে ছিলেন কারণ; তিনিই প্রথম সেনাবাহিনীকে রাজনীতির দীক্ষা দিয়েছিলেন এবং সমাজতান্ত্রিক (?) আদর্শে উদ্ধুদ্ব করে সেনা বাহিনীর ভিতর গঠন করেছিলেন ‘বিপ্লবী সেনাসংস্থা’। কিন্তু প্রশ্ন হলো এ আদর্শের কোন জায়গায় জিয়াউর রহমানকে তিনি স্থান দিয়েছিলেন? জাসদের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে জিয়াউর রহমানের মিলটি কোথায় ছিল? নইলে কর্নেল তাহের কেন জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার জন্য এ রকম তপর হয়ে ওঠলেন?


⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে