বীরপ্রতীক তারামন বিবি চলে গেলেন না ফেরার দেশে

বীরপ্রতীক তারামন বিবি চলে গেলেন, না ফেরার দেশে

রৌমারী  প্রতিনিধি: বীর প্রতীক তারামন বিবি ফুসফুস, ডায়বেটিস ও স্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তার নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করিয়াছেন। ইন্নাল্লিাহী ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৬২) বছর।

শুক্রবার রাত দেড় টার দিকে রাজিবপুরের কাঁচারিপাড়া নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে রাত ৮টায় তিনি গুরতর অসুস্থ্য হলে রাজিবপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো.দেলোয়ার হোসেন বীর প্রতীক তারামন বিবির বাড়িতেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। 

চিকিৎসায় কোন উন্নতি না হওয়ায় রাত দেড় টায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে। রাজিবপুর উপজেলার তালতলা কবর স্থানে আজ দুপুর ২টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। গার্ড অফ অনারে অংশ গ্রহন করেন কুড়িগ্রাম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিমসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেত্রীবৃন্দ। 

মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ১ছেলে ও মেয়ে রেখে যান। গত ৭নভেম্বর তারামন বিবির শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে প্রথমে রাজিবপুর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা সিএইচএম হসপিটালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। 

বীরপ্রতীক তারামন বিবি কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুস সোবহান ও মায়ের নাম কুলসুম বেগম। তার স্বামীর নাম আব্দুল মজিদ। 

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারামন বিবি ১১নং সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন। সে সময় ১১নং সেক্টরের নেতৃত্বদেন সেক্টর কমান্ডার আবু তাহের। মহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি বীরপ্রতীক তারামন বিবিকে ক্যাম্পে রান্নার কাজের জন্য নিয়ে আসেন। 

তখন তারামন বিবর বয়স ছিল মাত্র ১৩/১৪ বছর। মহিব হাবিলদার তারামন বিবির সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে তাকে অস্ত্র চালানো শেখানো হয়। একদিন দুপুরের দিকে তারামন বিবি ও সহযোদ্ধারা জানতে পারেন পাকহানাদার বাহিনী একটি গানবোট নিয়ে তাদের দিকে আসছে। 

তারামন বিবি তার সহযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে অংশ নেন এবং শত্রুদের ঘায়েল করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তারামন বিবি পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে একাধীক অভিযানে অংশ গ্রহণ করেন। পাকবাহিনী কয়েকবার মুক্তিযুদ্ধাদের ক্যাম্পে হানা দিয়ে ছিল। 

ভাগ্যক্রমে তিনি প্রতিবারেই প্রাণে বেঁচে যান। মক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭৩ সালে তৎকালিন সরকার মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবিকে তার সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বীর প্রতীক উপাধীতে ভুষিত করেন। 

১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহ জেলার একজন গবেষক তাকে প্রথম খুজে বের করেন। এরপর নারী সংগঠকগুলো তারামন বিবিকে ঢাকায় নিয়ে যান। ১৯৯৫ সালে ১৯ ডিসেম্বর তৎকালিন সরকার এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারা মন বিবিকে বীররেত্বর পুরস্কার “বীরপ্রতীক”পদক তার হাতে তুলে দেন। 

বীরপ্রতীক তারামন বিবির মৃত্যুতে রনাঙ্গগনের সাহসীযোদ্ধা খ.ম শামসুল আলম, বীরমুক্তিযোদ্দা মো. আজিজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি মো. জাকির হোসেন, সাধারন সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম মিনু, রৌমারী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি প্রদীপ কুমার সাহা, সাধারন সম্পাদক মো.ফজলুল হক ফুলু, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মো.শেখ আব্দুল্লাহ, সাধারন সম্পাদক মো.রফিকুল ইসলাম,যুগ্ন সম্পাদক এসএমএ মতিন, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মো.হারুন অর রশিদ, সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. জাইদুল ইসলাম মিনু, রৌমারী শাখার যুগ্ন আহবায়ক রাজিউল ইসলাম রোমান, রৌমারী শাখার গণকমিটির সদস্য সচিব ডা. শাহমোমেন ও কেন্দ্রিয় সমন্বয়ক নাহিদ হাসান নলেজ শোক প্রকাশ করে সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ছেনে।
⇘সংবাদদাতা: রৌমারী প্রতিনিধি

, , , , ,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে