বগুড়ার কুচিয়া যাচ্ছে বিদেশে

 বগুড়ার কুচিয়া যাচ্ছে বিদেশে
প্রদিপ মোহন্ত, বগুড়া: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কুচিয়া মাছ বিদেশে যাচ্ছে। কুচিয়া মাছ ধরে এই উপজেলার আদিবাসী, ও মৎস্যজীবীরা জীবিকা নির্বাহ করছেন। কুচিয়া মাছ কেনাবেচার জন্য দুটি স্থানে গড়ে উঠেছে আড়ৎ। সেখান থেকে সপ্তাহে প্রচুর পরিমাণ কুচিয়া মাছ বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। যা উপজেলায় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কুচিয়া দেখতে অনেকটাই সাপের মতো। এর রয়েছে বিভিন্ন নাম, কুঁচে মাছ, কুচিয়া, কুইচ্চা বা কুচে বাইম। বিশেষ করে কুচিয়া মাছ মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের জন্যও খেয়ে থাকেন।

জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই কুচিয়া মাছ ধরা হলেও বছরের নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত কুচিয়া মাছ ধরার উপযুক্ত মৌসুম। কারণ এসময় নদ-নদী খাল বিলে পানি কমে যাবার কারণে সহজেই কুচিয়া মাছ ধরা যায়। প্রতিদিন একজন মৎস্যশিকারি গড়ে ৪ কেজি থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত কুচিয়া মাছ ধরতে পারেন।

উপজেলার ধুন্দার গ্রামের কুচিয়া মাছ শিকারি নিমাই চন্দ্র দাস জানান, পুকুর অথবা জলাশয়ের ধারে ছোট ছোট গর্ত চিহ্নিত করে মোটা সুতার সঙ্গে বড়শি বেঁধে তার সঙ্গে কেঁচো অথবা ছোট ব্যাঙ লাগিয়ে সেই গর্তের মধ্যে ফেলে একটু নাড়া দিলেই কুচিয়া মাছ বড়শিতে আটকে যায়। স্থানীয়ভাবে প্রতিকেজি কুচিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়।

ইউসুফপুর গ্রামের আদিবাসী শিকারি মতি উরাও জানান, সকাল হলে ২-৩ জন করে একটি দলে বিভক্ত হয়ে কুঁচিয়া শিকার করতে বের হন তাঁরা। সারাদিনে গড়ে ৫ থেকে ৭ কেজি কুচিয়া শিকার করতে পারেন তাঁরা। দিন শেষে সংগ্রহকৃত কুচিয়াগুলো পাইকারদের হাতে তুলে দিয়ে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরেন। এভাবে কুচিয়া মাছ বিক্রি করে তাদের শতাধিক পরিবারের স্বচ্ছলতা এসেছে।

ওমরপুর বাজারের আড়ৎদার সত্যেন সরকার বলেন, তারা সরাসরি কুচিয়া মাছ বিদেশে পাঠাতে পারেন না। তিনি প্রতি সপ্তাহে ৯০০ কেজি থেকে ১২০০ কেজি পর্যন্ত কুচিয়া মাছ ঢাকায় পাঠান। কয়েকদিন পর এ মাছ ২৫০০ থেকে ৩০০০ কেজি পর্যন্ত পাঠাতে পারবেন।

ঢাকার আড়ৎদাররা কুচিয়া মাছ চীন, হংকং, ভারত, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করে। কুচিয়া মাছ ওই সব দেশের এক শ্রেণির মানুষের প্রিয় খবার। আমাদের দেশেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ কুঁচিয়া মাছ খেয়ে থাকেন।

নন্দীগ্রাম  উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার হালদার জানান, ওমরপুর বাজারে কুচিয়া মাছ বিক্রি হয় বলে জেনেছি। কিন্তু বাজারটি সকালে লাগার কারণে দেখতে পায়নি। তবে বিয়ষটি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবো।


⇘সংবাদদাতা: প্রদিপ মোহন্ত

, , ,

0 মন্তব্য(গুলি)

Comments Please