গাইবান্ধায় ডায়রিয়াসহ শীত জনিত বিভিন্ন রোগের ঝুকিতে পড়েছে শিশুরা

গাইবান্ধায় ডায়রিয়াসহ শীত জনিত বিভিন্ন রোগের ঝুকিতে পড়েছে শিশুরা
শাহাদৎ হোসেন মিশুক, গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় শীতের প্রকোপে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ শীত জনিত বিভিন্ন রোগ। ঠান্ডা ও রোটা ভাইরাসে আক্রান্তের কারণে ঝুকিতে পড়েছে শিশুরা। চলতি মাসে ৭ শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছে জেলা সদর হাসপাতালে।

এছাড়াও বয়স্ক রোগি নেই বললেই চলে। ওই সব শিশুদের মধ্যে ৯০ ভাগ শিশুর বয়স দুই বছরের নিচে। রোগির অতিরিক্ত চাপ হওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। অভিভাবকরা সচেতন হলে এই রোগ থেকে শিশুদের সহজে রক্ষা করা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছে।

গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শিশু ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। রোগির চাপ বেশী হওয়ায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে অনেককেই। চিকিৎসা দিতে শিশুদেরকে নিয়ে সিড়িতেই থাকছেন রোগির স্বজনরা।

এদের মধ্যে অনেকের বয়স এক বছরের নিচে। প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকছে অন্তত গড়ে ৫০ জনের বেশি রোগি। অনেকে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্তান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোগির চাপ বেশী হওয়ায় তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। একই অবস্থা গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে।

জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে ডায়রিয়া রোগির পরিমাণ তুলনা মুলক অনেক বেশি। চলতি মাসের ৬ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত ৭ শতাধিক রোগী ডায়রিয়া ও ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেজেলা সদর হাসপাতালে। হাসপাতালে বেড রয়েছে ২০টি যা রোগির তুলনায় অনেক কম। গড় করে দেখা গেলে এক বেডে নতুন পুরাতন মিলে ৩-৪ জন রোগির স্থান হয়।

প্রতি দিন ১৫-৪০জন নতুন নতুন রোগি ভর্তি হচ্ছে। গতকাল ৬২ জন রোগি চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। এর মধ্যে ছুটি নিয়ে চলে গেছে ৪১জন, চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন ২১ জন, দুপুর ১টা পর্যন্ত নতুন রোগি ভর্তি হয়েছে ৭জন। তারা হলেন আশরাফুল ইসলামের ১৪ মাসের মেয়ে আশা মনি, হিমন কুমারের ১৬ মাসের মেয়ে দিশা, মাইদুলের ২২ মাসের মেয়ে নূসরাত, মতিউরের ৭ মাসের মুন্নি, উজ্জলের ১ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার, হাফেজ মিয়ার ৬ মাসের ছেলে রোম্মান এবং সায়ম মিয়ার ৯ মাসের ছেলে মাহদি।

শিশু ফাতেমার বাবা জহুরুল বলেন, গত দু’নি থেকে আমার মেয়ের পাতলা পায়খানা ও বমি করছে। গ্রাম্য ডাক্তার দেখিয়েছি কোন উপকার হয়নি। এতগুলা টাকাও খরচ হল মেয়েটা সুস্থ্য হল না। ভালো চিকিৎসার জন্য রোববরা হাসপাতালে ভর্তি করাই। ডাক্তাররা দেখে দ্রুত ওষুধ দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোগির স্বজন বলেন, আমার সন্তানের পায়খানা ও বমি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করাই। কিন্তু রোগির বেড না পেয়ে দোতালায় ওঠার সিড়িতে অবস্থান করতে হচ্ছে। ডাক্তাররা তো বলেন পরিস্কার থাকতে কিন্তু চলাচলরত সিড়িতে চিকিৎসাসেবা নেয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে।
শিশু রাফিয়ার বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ের বয়স ৫ মাস। পাতলা পায়খানার কারনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এখন ভাল আছে রাফিয়া। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি যাব। আমার মেয়ের চিকিৎসা সেবা ভাল পেয়েছি।

শিশু ওয়ার্ডের এক সেবিকা বলেন, আমাদের সেবার আন্তরিকতায় রোগিরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। ঠান্ডা জনিত রোগে শিশুদের তালিকা বেশি। তবে বয়স্কদের তালিকা নেই বললেই চলে।
গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালর শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল আজাদ মন্ডল বলেন, বেশিরভাগ শিশু রোটা ভাইরাসের মাধ্যমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এছাড়া শীত জনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে শিশুরা আসছে বেশী। তিনি বলেন, তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষেত্র  বিশেষে এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হচ্ছে।

 গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল তত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধ ও স্যালাইন রয়েছে। এই রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবক নিজেরাই সচেতন হওয়া উচিত। এছাড়াও আমরা অভিভাবকদের পরামর্শ দিচ্ছি। শিশুদের কোনক্রমে ঠান্ডা লাগানো যাবে না, সেজন্য তাদের গরম কাপড়ের রাখতে হবে এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ঠান্ডা ও বাসি খাবার না খাওয়ার জন্য অভিভাবকদের বিরত থাকতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় বেড কম থাকায় সিড়িতে, বারান্দায় রোগিদের চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়ায় এবার শীত আরম্ভ হওয়ার পর থেকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কোন শিশুর মৃত্যু হয়নি।

তবে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শীত জনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষায় অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


⇘সংবাদদাতা: শাহাদৎ হোসেন মিশুক

, , ,

0 comments

Comments Please