সাংবাদিক আখতার হোসেন রাজার চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা

সাংবাদিক আখতার হোসেন রাজার চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥  প্রতিভাবান সাংবাদিক আখতার হোসেন রাজা কিডনী এ্যাজমা উচ্চ রক্তচাপ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি এখন ঢাকার মিরপুর কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সপ্তাহে তিন দিনই তার কিডনী ডাইলোসিস করাতে হয়। এতে প্রতি ডাইলোসীসের জন্য কমপক্ষে ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। এতো টাকা তার পরিবারের পক্ষে ব্যয় করা সম্ভব নয় বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তাই এই প্রতিভাবান গ্রামীন সাংবাদিককের চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

এই সাংবাদিক ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতৈর ভদ্রপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা মরহুম আইয়ুব আলী সরকারের ৯ ছেলে মেয়ের মধ্যে চতুর্থ তিনি। ছাত্র জীবনে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সংগে যুক্ত ছিলেন। সে সময় ১৯৬২ সালে ছাত্র ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন আখতার হোসেন রাজা।

ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি ১৯৬৭ সালে বগুড়া থেকে প্রকাশিত উত্তর বংগ বুলেটিন এর প্রতিনিধি হিসেবে যোগদানের মধ্যদিয়ে সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করা কালীন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)তে যোগদান করেন। সিপিবি'র জেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করে তিনি বর্তমানে সিপিবি'র জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৭৩ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার জেলা বার্তা পরিবেশক হিসেবে যোগদান করেন এবং এখন পর্যন্ত সংবাদে কর্মরত আছেন।  এই সাংবাদিক ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এ যোগদান করেন এবং কর্মরত আছেন।

তিনি দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ রেডিও টুডে”র প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন। এ প্রতিষ্ঠানে গত এক বছর যাবৎ কোন বেতন ভাতা পাননি বলে জানান সাংবাদিক আখতার হোসেন রাজা।

তিনি ১৯৭৮ সালে  ঠাকুরগাও প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা কালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তিতে তিনি একাধিকবার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন । প্রেসক্লাবের বাইরেও তিনি জেলা ও জেলার বাইরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাজের সংগে যুক্ত ছিলেন।

এই গুনি সাংবাদিক বিগত ৬মাস যাবৎ শরীরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রথমে  রংপুরে  পরে ঢাকা ও ভারতের ভ্যালোরের খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজ(সিএমপি)তে  চিকিৎসা করান। সিএমপির চিকিৎসক প্রফেসর জেকেল জন এর  অধীনে ২০/২২ দিন চিকিৎসা  হয় সেখানে। সেখানেও কিডনী ডাইলোসীস করানো হয়।

পরে দেশে ফিরে আবারও ঢাকায় কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতালে  চিকিৎসা নেন। চিকিৎসার দুই দিন পরেই নিউমোনিয়া, উচ্চ রক্তচাপ ও এ্যাজমা রোগ দেখা দেয়। এ রোগ নিয়ে গ্রীণ লাইফ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি থাকেন তিনি। সেখানে  ইনটেনশিপ কেয়ার ইউনিট(আইসিইউ) তে ৫দিন থাকেন। সেখানেও কিডনী ডাইলোসীস করানো হয়। একবার ডাইলোসীস করতে কমপক্ষে ১৫/২০ হাজার টাকা লাগতো বলে জানান সাংবাদিক রাজা।

বর্তমানে ঢাকা মিরপুর -২ এর কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রফেসর ডা.হারুন অর রশিদ এর তত্বাবধায়নে আছেন। তাকে এক দুই দিন পর পর কিডনী ডাইলোসীস করাতে হয়। এই গ্রামীণ গুনি সাংবাদিককে বাচাঁতে এবং এ ব্যয় বহুল চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।


⇘সংবাদদাতা: ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

, , ,

0 মন্তব্য(গুলি)

Comments Please