আসছে ঈদ, বাড়ছে পুলিশ এর কান্না

S M Ashraful Azom
0
আসছে ঈদ, বাড়ছে পুলিশ এর কান্না
সেবা ডেস্ক: আর কয়েকদিন পর‌ই ঈদ। এই ঈদকে ঘিরে ডিউটির প্রচণ্ড চাপ ইমনের। মা বাবাকে কথা দিয়েছে এবার ঈদে বাড়িতে যাবে। সবার জন্য কেনাকাটা করে নিয়ে যাবে তাই বাবাকে বলেছে কারোর জন্য কিছু কেনাকাটা না করতে। তাইতো ডিউটির ফাঁকে যতোটুকু সময় পায় বিশ্রাম নিতে ততোটুকুই সময় ব‍্যয় করে পরিবারের সদস্যদের জন্য পোষাক কেনাকাটা করে। অনেক পরিশ্রম হলেও ঈদে বাড়ি যাওয়ার আনন্দে সব কষ্ট ভুলে যায় ইমন।

ছোট বোনের টিয়া রঙের পোশাক পছন্দ। কিন্তু টিয়ে রঙের পোশাক খুঁজে খুব বেশি পাওয়া যায় না। ঈদের মার্কেট এমনিতেই প্রচণ্ড ভিড়, তার উপর দোকানীরা ব‍্যস্ত থাকায় খুব বেশি সময় দিতে পারেনা খরিদ্দারদের। পছন্দ মতো পোশাক কেনাও আরেক পরিশ্রমের কাজ। এ দোকান থেকে ঘুরে ও দোকানে গিয়ে শত পোশাক খুঁজে পছন্দের পোশাক পাওয়া এক যুদ্ধের ইতিহাস রচনা হয়ে যায়। তারপরও চেষ্টা করে যায় ইমন পছন্দের পোশাক খুঁজে বের করতে।

চাকুরীতে যোগদান করার পর এই প্রথম কোন ঈদে পরিবারের সান্নিধ্যে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে যাচ্ছে। এর আগে কয়েকটি ঈদে ছুটি হয়নি বলে যেতে পারেনি। তবে এবার যারা গত বছরের দুই ঈদে ছুটি যেতে পারেনি তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়ায় আশার আলো দেখছে ইমন। গত চার ঈদের কোন ঈদেই তার ছুটি ভোগ করা হয়নি। তাইতো অনেক আশা নিয়ে ঈদের ছুটি পাবে বলে মা বাবাকে জানিয়েছে।

ঈদ যতো ঘনিয়ে আসছে ইমনের মনে আনন্দ ততো বেড়ে চলেছে। এখনও কর্তৃপক্ষ ছুটি অনুমোদন দেয়নি। সেই টেনশনটাও বেড়ে চলেছে এক‌ইসাথে। বছরের প্রায় অর্ধেক শেষ। ঈদে ছুটি যাবে বলে ছুটি জমিয়ে রেখেছে ইমন। শুধুমাত্র বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে তিন দিনের ছুটি ভোগ করেছে চলতি বছরে। তাও বাড়িতে যাওয়া হয়নি তার। বাবা জেলা সদরের হাসপাতালে ভর্তি ছিলো, সেখানেই তিন দিন ছুটি ভোগ করে চলে এসেছে। ঈদে বাড়িতে গিয়ে মায়ের হাতে কি কি রান্না খাবে সেটাও জানিয়ে দিয়েছে ইমন। তাইতো ইমনের পছন্দের খাবার যোগাড় করতে ব‍্যস্ত হয়েছে বাবা মা।

ছোট বোনটি অনেক আদরের। প্রতিদিন ফোন দিয়ে খোঁজ নেয় কার জন্য কি কিনেছে পুলিশ ভাইয়া। বাড়িতে না গিয়ে এসব বিষয়ে কিছুই জানাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় ইমন। বোনের জানার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। তাইতো সুযোগ পেলেই মায়ের অগোচরে মোবাইল ফোন নিয়ে মিসকল দেয় ইমনকে। ছোট ভাইটিও মাঝে মাঝেই কথা বলে। জানতে চায় তার জন্য কি কিনেছে।কিন্তু এক‌ই উত্তর দেয় ইমন, আগে থেকে কিছুই বলবে না। মা বাবা অবশ্য কেনাকাটার ব‍্যাপারে তেমন জিজ্ঞাসা করেনা। বরং মা ফোন করে নিষেধ করে তার জন্য কিছু না কিনতে। প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় ইমন, তোমার জন্য কেনো কিনবো না? মা বলে তুই বাড়িতে আসলেই আমি খুশি বাবা। কোন কিছু কিনে এনে খুশি করতে হবেনা।
বাবাকে সেদিন জিজ্ঞাসা করেছিলো ইমন, তার জন্য কি আনবে? উত্তরে মায়ের মতো জানিয়েছেন তার সব‌ই আছে। নতুন করে কিছুই কিনে আনতে হবেনা। ইমন এসব শুনে ভাবে "সকল বাবা মা বুঝি এমনই হয়"। তবুও বাবা মায়ের জন্য পোশাক কিনেছে ইমন। কিন্তু কার জন্য কি কিনেছে তা জানায়নি সে। ডিউটির ফাঁকে বাড়ি যাওয়ার জন্য ব‍্যাগ গুছিয়ে রাখে। আবার ব‍্যাগ থেকে কেনা পোশাক গুলো বের দেখে আর কল্পনা করে এই পোশাক পেয়ে কার কেমন আনন্দ হবে। আর মাত্র তিন দিন আছে ঈদের বাকি। আগামীকাল ছুটি অনুমোদন হবে, ছুটি হবে কি হবেনা এসব ভাবতে ভাবতেই ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে যায় ইমন।

সকালে উঠেই শুনতে পায় এলাকায় রাতে কয়েক বাড়িতে এবং মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পুরো এলাকা থমথমে, কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন হয়ে ঘোষণা দিয়েছে এখানে কর্মরত সকল পুলিশের ছুটি বন্ধ। ডিউটিতে যাওয়ার আগে এই খবর শুনে ইমনের স্বপ্ন ভেঙ্গে খানখান হয়ে যায়। চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষকে বোঝানোর জন্য। কিন্তু সবাই ব‍্যস্ত, ইমনের কথা শোনার সময় তাদের নেই। একজন অফিসার শুধু বলে তারপরও বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে। স্বপ্ন ভাঙা মনে ডিউটিতে চলে যায় ইমন। মুখের হাসি হারিয়ে যায় আশাহত মনের নির্লিপ্ততায়।

রাতে ডিউটি শেষে ফিরে এসে জানতে পারে শুধুমাত্র চলতি বছর যেসব পুলিশ সদস্য কোন প্রকার ছুটি ভোগ করে নাই এবং গত দুই ঈদে ছুটি পায় নাই তাদের‌ই কেবল ছুটি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সব আশা শেষ হয়ে যায় ইমনের। ব‍্যাগ থেকে কেনা পোশাক গুলো বের করে চোখের জল ফেলে মনের নিভৃতে হাহাকার করে। হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কেউ না দেখলেও মা ঠিকই দেখতে পায়। তাইতো মায়ের ফোন পেয়ে স্তম্ভিত ফিরে পায়। ফোন রিসিভ করে কান্না ভেজা চোখের জলে জানিয়ে দেয় মাকে, হয়তো ঈদে তার বাড়িতে যাওয়া হবেনা। তবুও চেষ্টা চালিয়ে যাবে। মা কিছুটা ভেবে শান্তনা দিতে কিছু বাক‍্য খুঁজে না পেয়ে চোখের জল মিশিয়ে জানিয়ে দেয়, তাহলে ঈদের পর‌ই আসিস বাবা...
ঈদ এ বাড়িতে না যেতে পারা কিজে কষ্টের সেটা একমাত্র পুলিশ ই জানে. তবুও ভালো থাকি,
ভালো রাখি সবাইকে।

⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top