
সেবা ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীতে এমইএস কলেজ ভিত্তিক দুই গ্রুপের মারামারির এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে মারা গিয়েছে জাকির হোসেন জনি নামে এক শিক্ষার্থী। গত রোববার একটি মারামারির ঘটনার জেরে গতকাল সোমবার পুনরায় ওই দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ালে ওই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
ঢাকার একটি স্কুলে অধ্যয়নরত ওই শিক্ষার্থী চট্টগ্রামে বোনের বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে গতকাল রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ আসামিদের চিহ্নিত করার পর তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে গতকাল রাত ৯ টার দিকে সৌরভ ও সাখাওয়াত নামে ২ জনকে খুলশী থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল পৌনে দুইটা নাগাদ নগরীর খুলশী থানাধীন জাকির হোসেন রোডের ওমরগণি এমইএস কলেজের ফটক সংলগ্ন এলাকায় একটি ভবনের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জনি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জনি ছিল পরিবারের সবার ছোট। তাদের পরিবার ঢাকার মিরপুরে থাকে। সেখানেই একটি স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জনি।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ বোস্তামি) পরিত্রাণ তালুকদার আজাদীকে বলেন, এমইএস কলেজের সামনে কয়েকজন ছাত্র মিলে আরেকজন ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করেছিল। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জনিকে মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় নিহতের মা সাজেদা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে বলে জানান তিনি।
পরিত্রাণ তালুকদার বলেন, ঘটনাস্থলে মারামারি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসে পৌঁছেছে। তার সূত্র ধরে ঘটনার সাথে জড়িত ৭/৮ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এরমধ্যে দুজন ছুরিকাঘাত করেছে। পুলিশ তাদের সবাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম বলা যাচ্ছে না। অচিরেই তারা সবাই গ্রেপ্তার হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এর আগেচট্টগ্রাম সিআইডি পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিনের খুলশীর বাসায় থেকে জনি পড়ালেখা করছিল। ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক হন জনি। গতবছর তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার মিরপুরের একটি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল।
জনি’র আরেক বোন মাহমুদা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাহমুদা ও তার স্বামী, জনি ও তার মা মিলে কুতুব উদ্দীনের চট্টগ্রামের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। সোমবার রাতে তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। তিনি জানান, চট্টগ্রামে স্কুলে পড়ালেখার সময় এমইএস কলেজের আশপাশের এলাকায় জনি’র বেশ কয়েকজন বন্ধু ছিল। ঢাকায় ফেরার আগে সোমবার দুপুরে তাদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল জনি।
দলীয় ও ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে জানা গেছে, প্রথমে কলেজ ক্যাম্পাসে নিহত জনির সঙ্গে শাওন ও আয়াত নামে দুজনের কথাকাটি ও মারামারি হয়। পরে সেখান থেকে মারামারির পর কলেজ ফটকের বাইরে মূল রাস্তায় চলে আসে তারা। পরে প্রতিপক্ষের দু’জন তাকে ছুরিকাঘাত করার বিষয়টি একটি ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে। ওই সময় আরও অন্তত ১০/১৫ জন তাদের আশেপাশে ছিল।
পরে প্রতিপক্ষরা তাদের ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ওই সময় রক্তাক্ত অবস্থায় একটি সিএনজিটেঙিতে তুলে জনিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ওইদিন শাওন ও আয়াত দুজনেরই এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের জিএস আরশেদুল আলম বাচ্চুর অনুসারী হিসেবে কলেজ ক্যাম্পাসে পরিচিত রয়েছে।
তবে পরিত্রাণ তালুকদার বলেন, ছাত্রলীগের কোনো গ্রুপের সাথে নিহত জনি জড়িত ছিল কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান আছি। কারণ জনি চট্টগ্রামে থাকে না। ঢাকার একটি স্কুলে সে লেখাপড়া করছে। এতে করে এখানকার রাজনীতির কোনো গ্রুপের সাথে তার সম্পৃক্ততা থাকার কথা না। লাশের সুরতহালকারী খুলশী থানার এসআই নোমান জানান, জনির পিঠে, ডান পায়ের উরুতে এবং বাম পায়ের হাটুঁর নিচে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
এদিকে জনির মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে তার মা ও বোনের আহাজারিতে ওখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছিল। হাসপাতাল মর্গের ভেতরেই ছেলেকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা সাজেদা বেগম। ওইসময় তিনি বিলাপ করে বলেন, রাজনীতি ও প্রেমের কারণেই আমার ছেলেকে আজ এভাবে মরতে হয়েছে।
সাজেদা বেগম দাবি করেন, তার ছেলের সঙ্গে খুলশীর এক মেয়ের সম্পর্ক ছিল। এটা নিয়ে জিইসি মোড় এলাকার রবিউল নামে এক ছেলের সঙ্গে জনির বিরোধ সৃষ্টি হয়। ৪-৫ দিন আগে রবিউল তাকে প্রবর্তক মোড়ে ডেকে নিয়ে মারধর করে। এই ঘটনার জেরেই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
এ সমসয় হাসপাতালে ভিড় করতে দেখা যায় এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। তারা নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি ওয়াসিম উদ্দিনের অনুসারী বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, জনি তাদের গ্রুপের কর্মী ছিল।
ছাত্রলীগের পরিচয়ে হাসপাতালে আসা অনেকেই জানান, চট্টগ্রামে স্কুলে পড়ার সময় থেকেই জনি ছাত্রলীগ করত। তাদের সঙ্গে মিছিল-মিটিংয়ে যেত।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।