বাক্সবন্দী প্রাইমারির ডিজিটাল শিক্ষা!

বাক্সবন্দী প্রাইমারির ডিজিটাল শিক্ষা!
রেজাউল করিম, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদীতে কাজে আসছে না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা। বেশিরভাগ ল্যাপটপ ও প্রজেক্টরসহ অন্যান্য সামগ্রী রেখেছেন সভাপতির বাড়িতে। কেউবা রেখেছেন বাক্সবন্দী করে। কেউবা ব্যবহার করছেন নিজের কাজে। পরিত্যক্ত আর অব্যবহৃতের কারণে নষ্ট হচ্ছে অনেক সামগ্রী। উপজেলা শিক্ষা অফিসের তদারকির অভাবে মাল্টিমিডিয়ার ক্লাশের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। এছাড়াও প্রযুক্তির ব্যবহারে অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। সোমবার সরেজমিন ঘুরে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিসহ শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে ওঠে আসে এমন তথ্য।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১শ ৯৬টি। এর মধ্যে পিইডি-৩ ও ৪ প্রকল্পের ১শ ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেয়া হয়েছে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, মডেম ও সীমসহ নানা সরঞ্জাম। এসব শিক্ষা সামগ্রী অনেক শিক্ষক রেখেছেন নিজের বাড়িতে। কেউবা রেখেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বাড়িতে। কেউ আবার ব্যবহার করছেন নিজেই। সম্প্রতি শালমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শংকরঘোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছনকান্দা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব জলংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় কোনোটিতে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর নেই।

শালমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি যোগদান করে ল্যাপটপ বা প্রজেক্টর পাননি। তিনি যোগদানের আগে সহকারি শিক্ষক ইয়াকুব আলী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। তার কাছেই আছে। প্রজেক্টর রেখেছেন সভাপতি আব্দুল জুব্বারের বাড়িতে। তিনি বলেন, এখানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে কোনো ক্লাশ নেয়া হয়নি।

এ সময় সভাপতি আব্দুল জুব্বারে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় প্রজেক্ট তার ঘরের আড়ার ওপর। অন্যান্য সামগ্রী বাক্সবন্দী। ছনকান্দা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একি অবস্থা। ল্যাপটপ বন্ধ। প্রজেক্টর খোলা হয়নি। এখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণি কক্ষ, বিদ্যুৎসহ রয়েছে সকল সুবিধা। এর পরেও হচ্ছেনা মাল্টিমিডিয়া পাঠদান। প্রধান শিক্ষক রুবিনা পন্নি বলেন, আমাদের গাফিলতিতে পাঠদান হচ্ছে না। এখন থেকে মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদনের চেষ্টা করব। পোড়াগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকনআরা বেগম রাব্বী বলেন, ০৭ নভেম্বর ২০১৬ সালে প্রজেক্টর এবং ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে ল্যাপটপ পেয়েছি।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক না থাকায় মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদান করা সম্ভব হয়নি। এমন চিত্র প্রায় সকল বিদ্যালয়েই। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুশ শিহার বলেন, এ নিয়ে সম্প্রতি সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং হয়েছে। বর্তমানে ল্যাপটপের মাধ্যমে প্রজেক্টর দিয়ে পাঠদান হচ্ছে কিনা পরিদর্শন করা হচ্ছে। যদি কোনো বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ না নেয়া হয় তাদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর আইসিটি উন্নয়নের লক্ষে ল্যাপটপসহ মাল্টিমিডিয়া প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে আয়শা আইন উদ্দিন মহিলা কলেজের মাল্টিমিডিয়া কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম।

তিনি ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর বাক্সবন্দীর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন থেকে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনা করতে হবে। যদি কেউ মাল্টিমিডিয়ার ক্লাশ নিতে গাফিলতি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ ঘোষণার পরেও প্রজেক্টরে মাধমে ক্লাশ নেয়া হচ্ছেনা বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করছে। এমন পরিস্থিতিতে সকল সুযোগ সুবিধা দেয়ার পরেও শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এজন্য মনিটরিং জোরদার করে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাশ পরিচালনা করবে শিক্ষকরা। ডিজিটাল সুবিধা পাবে শিশুরা। এমন প্রত্যাশা অভিভাবক ও স্থানীয়দের।


 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please