বাঁশখালীতে পুরনো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ধ্বসে পড়ার আশংকা!

বাঁশখালীতে পুরনো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ধ্বসে পড়ার আশংকা!
উত্তর-পশ্চিম গন্ডামারা চরপাড়ায় অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রটি যে কোন সময় ধ্বসে পড়ার আশংকা

শিব্বির আহমদ রানা, প্রতিনিধি, বাঁশখালী, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চল গন্ডামারা ইউনিয়নের উত্তর পশ্চিম গন্ডামারা চরপাড়ায় অবস্থিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। চার্চ অব বাংলাদেশ, সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম কতৃক নির্মিত কয়েক বছরের পুরনো সাইক্লোন সেল্টারটি ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক বছরের পুরনো ভবন হওয়াতে ভবনের ছাদ, দরজা জানালা ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। ৯টি খুঁটির উপর নির্মিত ভবনের সবকটি খুঁটির প্রলেপ সরে গিয়ে লোহায় মরিচার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। যেন হাওয়াই দাঁড়িয়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতল ভবনটি। এখন এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে কোন মূহুর্তে পুরো ভবনটি ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবনের পাশেই গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কটি অবস্থিত। প্রতিদিন প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল-মাদরাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ, স্থানীয় পার্শ্ববর্তী মসজিদের মুসলি­রা আতংকে যাতায়ত করে ওই ভবনের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়কপথে। ৫ শতাধিক মানুষের চলাচলের পথটি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় ভবনটি ধ্বসে পড়ার আশংকা এলাকাবাসীর।

স্থানীয়রা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে অশনিসংকেত'র সময় আশ্রয় নেওয়ার উদ্যেশ্যে ১৯৯৩ সালের দিকে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। খুব নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করার কারণে নির্মাণের ৭-৮ বছরের ব্যবধানে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে ভবনটি। বর্তমানে ভবনটি ধ্বসে পড়ার আশংকা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। শিগ্রীই তারা কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপে ভবনটি ভেঙে পেলে পূণরায় ওই জায়গায় নতুন আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের দাবী জানান। অন্যতায় প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় নানা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে গ্রামের ৫শতাধিক মানুষ।

সরকারি হিসাব মতে, বাঁশখালীর ৬ লক্ষাধিক মানুষের জন্য ১১৭টি আশ্রয় কেন্দ্র আছে। এর মধ্যে ১৫টি আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবহার অনুপযোগী। ১০২টি স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার হিসাবে নামে থাকলেও স্কুলসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা হওয়ায় বাস্তবে তার রয়েছে ভিন্ন চিত্র। সরকারি হিসাবে, ১০২টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক কোনো রকমে আশ্রয় নিতে পারবে। দুর্যোগ প্রবণ এলাকা হিসাবে বাঁশখালীর ১০টি ইউনিয়নকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চিহ্নিত করা হলেও এখনো ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন সাধিত হয়নি।

গন্ডামারা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ লেয়াকত আলীর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী নবী জানান, বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বেশ কয়েকবার অবহিত করা হলে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করেন।

এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোমেনা আক্তার সেবা হট নিউজকে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম এবং এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please