
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেলা জুড়ে জেলা প্রশাসনের হিসাবমতে ইটভাটা ১৬৭ টি এর মধ্যে বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৭ টি।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ফলে অবৈধ ইটভাটায় এ পর্যন্ত অভিযান করা হয়েছে ১৫ টিতে। অভিযান শেষ হতে সময় লাগলেও আবারো সেসব ইটভাটা চালু হতে সময় লাগেনি। আর বাকিদের রাখা হয়েছে অভিযানের হুমকিতে আবার কেউ ম্যানেজ করে চলছে দারুন খুশিতে।
গোপন সংবাদের ভিক্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পলাশবাড়ী উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে কিশোরগাড়ীতে চলমান ১ টি অবৈধ ভাটা, হোসেনপুরে ৪ টি যার একটি বৈধ বাকি ৩ টি অবৈধ, বরিশাল ইউনিয়নে চলমান ৬ টি যার সবকয়টিই অবৈধ, মহদীপুর ইউনিয়নে চলমান ৭ টি যার একটি বৈধ, বেতকাপায় ১০ টি, পবনাপুর ইউপিতে ১ টি, হরিনাথপুর ইউপিতে ১ টি অবৈধ, পৌর এলাকায় ৬ টি অবৈধ ইটভাটা চলমান রয়েছে।
এ পর্যন্ত উপজেলার বরিশালে ৪ টিতে,বেতকাপায় ২ টি তে পৌর এলাকায় ২ টিতে, মহদীপুরে ১ টিতে অভিযান পরিচালনা করেছে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। বাকি সব ইটভাটা ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় চলমান রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন কে দেওয়ার জন্য ইটভাটা মালিক সমিতির চাহিদা মাফিক ভাটা প্রতি ১ লাখ টাকা না দেওয়ায় এসব ইটভাটা কে চলমান অভিযানে জরিমানা করা হয়েছে। এসব টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, এসব টাকা উঠানোর বিষয়টি সঠিক নয়। আমরা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পালিত জাতীয় দিবস যেমন স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের জন্য প্রতিটি ইটভাটা হতে ১০ হাজার করে টাকা দেই। এর বাহিরে কোন ইটভাটা হতে কোন প্রকার টাকা পয়সা নেওয়া হয় না। এসব গুজব মাত্র। উপজেলার অন্যান্য অবৈধ ইটভাটা গুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় সংগøন্ন হলেও সেগুলোতে অভিযান করা হয়নি, বসতবাড়ীর পাশে অবৈধ ইটভাটা চলে কিভাবে সেখানে এখনো অভিযানের চোখ যায়নি, আবাদি জমি গ্রাস করে গড়ে উঠা ইটভাটায় অভিযান করা হয়নি।
অবৈধ ভাবে ভাটা গড়ে তুলে রাতের আধারে দিনের আলোয় গাছ পালা, খড়ি, বিষাক্ত প্লাষ্টিক পোড়ানো হলেও আজও চোখ পড়েনি উপজেলা বা জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও তার কোন মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। অপর দিকে সচেতন মানুষ দাবী করেছেন উপজেলা প্রশাসন কে ম্যানেজ করেই চলছে এসব অবৈধ ইটভাটা । এসব ইটভাটায় অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে উপজেলা জুড়ে।
উপজেলার বেশীভাগ অবৈধ ইটভাটা মালিকগণের সহিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকদের নিকট হতে আলাপ চারিতায় জানা যায়,প্রতিটি ইটভাটায় যে কার্যক্রম হয় তা কোনটাই অবৈধ নয়। তবুও অনেক টাকা ইনভেষ্ট করে একটু অধিক লাভের আশায় আমরা ভাটামালিকেরা এস ইটভাটা করছি। এসব ইট তৈরী হতে বিক্রি পর্যন্ত অবৈধ হলেও সব কিছু ম্যানেজ করেই করতে হচ্ছে। তারা আরো বলেন, আবাদি জমি হতে মাটি সংগ্রহ করা মাটি আইন লংঙ্ঘন,খড়ি পুড়ে পরিবেশ আইন, আকার সাকারে ও উপাদান ব্যবহার না করে বিক্রি করে ভোক্তাধিকার আইন, শিশুদের শ্রম কিনে শ্রম আইন লংঙ্ঘন করে সব কিছু বুঝে শুনেই এসব ইটভাটা চালানো হচ্ছে।
প্রতিটি ইটভাটায় প্লাষ্টিক ও খড়ি কমবেশী পুড়তেই হবে না হলে আগুন ধরানো বা ইটপ্রস্তুত করা ব্যয় অনেক বেশী বেড়ে যাবে।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন
