
মো. শাহ্ জামাল, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে হনুমানের মূর্তি সাদৃশ্য ‘মাঙ্কি ডাস্টবিন’ স্থাপনের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পৌরবাসী। সোমবার দুপুরে ‘সরিষাবাড়ী পৌরসভার উলামা ও মুসলিম সমাজ’র ব্যানারে শতাধিক আলেম মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। পরে তাঁরা মূর্তিগুলো অপসারণের দাবিতে পৌরসভায় স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
উলামা ও মুসলিম সমাজ’র আহবায়ক মাও. নাজমুল হুদা ফয়জী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘আপনি বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়নের নামে মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন করে আসছেন। যা ইসলাম ও মুসলিম সমাজের জন্য দুঃখজনক, এহেন পরিস্থিতিতে সরিষাবাড়ী পৌরসভার সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও মুসলিম জনসাধারণ ফুঁসে উঠছে।’ তাঁরা মূর্তিগুলো অপসারণ করে ইসলামী ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য আহবান জানান।
স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী হাফেজিয়া মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাও. শহিদুল ইসলাম, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাও. আবু সুফিয়ান, জামে মদিনা দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাও. আমিনুল ইসলাম, শিমলাপল্লী জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাও. আবু বকর প্রমুখ।
মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন এ সময় পৌরসভায় উপস্থিত না থাকায় প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন। তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে মূর্তিগুলো অপসারণের দাবিটি বিবেচনার আশ্বাস দিলে আলেমরা পৌরসভা ত্যাগ করেন।
পৌরসভা সূত্র জানায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় পৌরসভায় ৫০টি ‘মাঙ্কি ডাস্টবিন’ বসানোর পরিকল্পনা নেন মেয়র। ৬ মার্চ হনুমানের মূর্তি সাদৃশ্য ১০টি ডাস্টবিন স্থাপনের মাধ্যমে এ প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। প্রতিটি ডাস্টবিন বাবদ ৩৯ হাজার টাকা করে মোট ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ডাস্টবিনগুলো সরকারি টাকায় বসানো হলেও নীতিমালা অমান্য করে প্রতিটির গায়ে লেখা হয়েছে ‘সৌজন্যে মেয়র রোকন’। নাগরিকদের মতে, যেসব ডাস্টবিন বসানো হয়েছে তা উন্নত শহর বা শপিংমলের জন্য প্রযোজ্য। সরিষাবাড়ী পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তাঘাটই খানাখন্দ; সামান্য বৃষ্টিতে যেখানে হাটুপানি জমে, সেই মফস্বল শহরে এসব ডাস্টবিন নাগরিকদের সাথে তামাশা ও সরকারি টাকা জলে দেয়া।
এ ব্যাপারে পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মূর্তি অপসারণের দাবিতে আলেমরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো অপসারণ করে পৌরসভা কার্যালয়ে জমা রাখা হবে।’
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন
