রাজিবপুরে চরাঞ্চল মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিজ উদ্যোগে সাঁকো নির্মাণ

রাজিবপুরে চরাঞ্চল মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিজ উদ্যোগে সাঁকো নির্মাণ


রৌমারী প্রতিনিধি: চারদিকে নদী বেষ্টিত কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার বিচ্ছিন্ন একটি ইউনিয়ন কোদালকাটি। ব্রহ্মপুত্রনদ এবং সোনাভরি নদের ভাঙ্গা-গড়ার মধ্যদিয়েই জন্ম জন্মান্তর ধরে তছনছ দ্বীপচর এটি। 

এ ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস। বছরের বর্ষা মৌসুমে ভরা বন্যায় তাদের চলাচলের বাহন নৌকা বা কলা গাছের ভেলা। বাকী সময় ধূধূ বালু চরের পায়ে হাটা মেঠো পথ এটি বংশ পরমপরা তাদের নিত্য সঙ্গি। 

এমনই জীবন বৈচিত্রে মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন অত্র ইউনিয়নের আমিনুর রহমান মাষ্টার। প্রায় এক যুগ ধরে মানব সেবায় স্বেচ্ছাশ্রমে নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে। 

এতে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও ভালবাসা লাভ করেছেন চরাঞ্চলের অসহায়, দুস্থ্য, ছোট-বড় সকলের কাছে। শনিবার(২ জানুয়ারী) সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য ও চিত্র দেখা যায়।

আমিনুর রহমান পেশায় একজন শিক্ষক। সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সুখের সংসার। স্থানীয় চর সাজাই দাখিল মাদ্রাসায় শরীরচর্চা শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন প্রায় বছর যাবৎ। 

শিক্ষকতার পাশাপাশি যতটুকু সময় পান চরবাসীর জন্য উৎসর্গ করে নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করে চলছেন অবিরাম। নিজস্ব শ্রম এবং অর্থায়নে সব সময় পাশে দাড়ান অসহায় ও দুস্থ্য মানুষের পাশে।

বন্যা মৌসুম শুরু হলে নিজস্ব নৌকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কখনও শুকনো খাবার, কখনও ঔষুধ আবার কখনও নগদ অর্থ পৌছে দেন তিনি। তার কাজে উদ্ভুদ্ধ হয়ে বসে থাকে না তরুণ সমাজ। সহযোগিতার হাত বাড়ান অনেকেই। একমাত্র ছেলে সহপাঠিদের সাথে নিয়ে বাবার মতই মানুষের সেবায় কাজ করছে অবসর সময়ে।

শুস্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় নদীতে কোথাও হাটু পানি, কোথাও কোমর পানি থাকে। এতে মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। 

এসব কষ্ট লাঘবে আমিনুর রহমান মাস্টার চরের বিভিন্ন পয়েন্টে তৈরি করে দেন ছোট ছোট প্রায় ১৫টি বাঁশের সাঁকো। এছাড়া বালুতে ছোট যানবাহন সাইকেল, মটরসাইকেল, রিক্সা, ভ্যান, অটোবাইক সহজে চলাচলের জন্য বিভিন্ন রাস্তায় মাইলের পর মাইল তিনি বিছিয়ে দেন কাশিয়া বা খরকুটা।  

বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের ছড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরিতে সুবিধার কথা জানান স্থানীয় অনেকেই। সরকারীভাবে সহযোগিতার কথাও বলেন অনেকেই। আমিনুর রহমান মাষ্টারকে এই ধরনের কাজের জন্য বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে থাকেন তার অন্যান্য ভাইয়েরা। আমিনুর রহমান মাষ্টার দীর্ঘদিন থেকে মানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকেলও কোন কাজে সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি কোদালকাটি ও উপজেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে তার ছোট ভাই যাদুরচর আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক এরশাদুল হক জানান, উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন কোদালকাটি ইউনিয়নটি। চতুর দিকে নদী থাকায় বন্যার সময় পানিবন্দি হয়ে পরি এবং শুস্ক মৌসুমে বালুর চর জেগে উঠায় যাতায়াতের অনেক কষ্ট হয়। আমার ভাই এলাকার মানুষের জন্য নিজস্ব অর্থ ও আমরাসহ অনেকেই স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা এবং ছোট ছোট বাশেঁর সাকোঁ নির্মাণ করে দিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই চরাঞ্চলের দিকে সু-নজর দিলে অনেক উন্নতি হবে। 

আমিনুর রহমান মাষ্টারের একমাত্র ছেলে শওকত আলী সেও বাবার কাজে উৎসাহিত হয়ে সহপাঠিদের সাথে নিয়ে স্বেচ্ছা শ্রম দিয়ে চর বাসীর দুঃখ লাঘবে কাজ করে থাকে সব সময়ই।

কোদালকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি সোহেল সরকার জানান, এমন স্বেচ্ছাশ্রমী আমিনুর মাস্টারকে চরবাসীর আশির্বাদ মনে করেন অনেকেই। স্থানীয় লোকজন তার কাজ দেখে অভিভ‚ত। আমাদের চর বাসীর যে দুর্ভোগ এজন্য সরকারী ভাবে টেকসই একটা সিদ্ধান্তের জন্য মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে সুদৃষ্টি কামনা করছি। 

এব্যাপারে আমিনুর রহমান মাস্টার বলেন, মানুষ মানুষের জন্য, দুনিয়াটা স্বল্প সময়ের। মানুষের কষ্ট দুর হলে আমি শান্তি পাই। মানুষের ভালবাসা পাই এটাই আমার শান্তনা। তবে চরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সরকারের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

Dara Computer Laptops