ধুনটে যত্রতত্র ইটভাটায় হুমকিতে জীববৈচিত্র

ধুনটে যত্রতত্র ইটভাটায় হুমকিতে জীববৈচিত্র


রফিকুল আলম,ধুনট (বগুড়া): সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কৃষি জমিতে গড়ে উঠছে ২৫টি ইটভাটা। 

এই ইটভাটাগুলোর নেই কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র, লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র। তারপরও বছরের পর বছর এভাবেই চলছে এসব ইটভাটা।

এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টের পাশাপাশি ফসলি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অনুমোদনহীন এসব ভাটায় ইট তৈরি, টানা ও কাঁচা ইট পোড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ আগুন দেয়ার কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

সরেজমিন দেখা গেছে, এ উপজেলায় কৃষি জমি নষ্ট করে যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠেছে ২৫টি ইটভাটা। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই কৃষি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার পাশে ইটভাটা গড়ে তুলেছে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই ভাটায় পোড়াচ্ছে কাঠ। এতে কালো ধোঁয়া আর ছাইয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাছপালা, কমছে ফসলের উৎপাদন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষকরা।

উপজেলার খাদুলী, কুড়িগাতি, উজালশিং, গোবিন্দপুর ও জোলাগাতী গ্রামে মাঝখানে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় তিন ফসলি জমিতে ৮টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ইটভাটা গুলো হলো, একতা, ফাইভ স্টার, বস, গ্রামীন, আদর্শ, বন্ধু, বি.বি.সি ও দিগন্ত। এর বেশিরভাগই লাইসেন্সবিহীন। সরকারি নিয়ম-নীতি না মেনে গড়ে ওঠা এসব ভাটার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে এলাকার কৃষি ও পরিবেশ। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা অভিযোগ করেন, ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসর কারণে তাদের জমির ধানে চিটা হয়ে গেছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন ব্যয় তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আর মাত্র ২০-২২ দিন বাদেই ধান কাটা শুরু করব। এই সময় এমন ঘটনা ঘটল। আমরা চাই ভাটার মালিক আমাদের ক্ষতিপূরণ দিক। আমরা এলাকায় ইটভাটা দেখতে চাই না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটার বেশ কয়েকজন মালিক জানিয়েছেন, অনুমোদন না থাকলেও তারা প্রশাসনকে নিয়মিত টাকা দিয়ে এসব ইটভাটা চালাচ্ছেন। প্রশাসন বিভিন্ন দিবসের নামে ভাটা মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন। তারাও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য এই টাকা দিয়েছেন। তবে তারা অচিরেই ইটভাটার কাগজপত্র করে নেবেন।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক বলেন, কৃষকের ধানক্ষেতের ক্ষতির অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন পরির্দশন করে ঘটনার সত্যতার প্রমান পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, কৃষকের ধানক্ষেতের ক্ষতির অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইটভাটা গুলোর বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  



শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

Dara Computer Laptops