সাংবাদিকতার অন্তরালে স্বার্থ সিদ্ধি: রোজিনার সম্পদের উৎস কি?

সাংবাদিকতার অন্তরালে স্বার্থ সিদ্ধি রোজিনার সম্পদের উৎস কি



সেবা ডেস্ক: দেশের সুনামধন্য দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গোপন নথি চুরি করতে গিয়ে পুলিশের কাছে আটক হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে চলছে তদন্ত। বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে বের হয়ে আসছে সাংবাদিকতার পিছনে রোজিনা ইসলামের বিভিন্ন অপকর্ম।

রোজিনা তার সাংবাদিকতার যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন টেন্ডারের কাজ পাইয়ে দিতে অবৈধভাবে সহযোগিতা করেছেন তার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠুকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোজিনা ইসলামের স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু ১৯৯১ সালে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা অভি গ্রুপের ক্যাডার ছিলেন। ৪০ কোটি টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় দেখিয়ে ইউএসএতে বিজনেস ভিসা নিয়ে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনও করেছিলেন।

শরীরকে পুঁজি করে সাংবাদিকতা করা রোজিনা ইসলাম এরপর সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন তৎকালীন বিএনপির গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আবদুল মান্নানের সঙ্গে। যার রেশ ধরে রোজিনা বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগ নেতাদের রাজনৈতিক মামলার ওকালতি করেন। যার মাধ্যমে পরবর্তীতে তিনি প্রিমিও গাড়ির মালিক হন।

সাংবাদিকতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে একাধিকবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গোপন নথি রোজিনা ইসলাম বিভিন্ন দেশের কাছে টাকার বিনিময়ে পাচার করে দিয়েছেন। যার কারণে ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেই ঢাকার খিলগাঁও ও ধানমন্ডি ১৫ তে দুটি ৭ তলা বাড়ি ও বনানীতে আড়াই কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে তার। 

এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আবদুল মান্নানের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে রোজিনা নিজের এবং তার স্বামীর নামে রাজউকের কাছ থেকে পূর্বাঞ্চলে একটি ৫ কাঠার প্লট এবং অন্যান্য দুটি প্লট পেয়েছিলেন।

২০১১ সাল থেকে অঢেল সম্পদের মালিক হতে শুরু করেন রোজিনা ও মিঠু। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সহযোগীদের একজন হিসেবে জিকে শামীমের ঠিকাদারি সিন্ডিকেটে যোগ দেন মিঠু। সাহেদ আলমের কয়েকটি ঠিকাদারি কাজের সাব কন্ট্রাক্ট পান মিঠু।

অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের নামে রোজিনা মূলত টেন্ডার সিন্ডিকেটের পক্ষে কাজ করতে‌ নথি চুরি করে কর্মকর্তাদের ব্লেকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন।

প্রথম আলোতে রোজিনার গুরুত্ব বাড়ার কারণ ছিল মিঠুর দলীয় সংশ্লিষ্টতা ও সাংবাদিকতার পরিচয়ে প্রভাবশালী অনেকের ঘনিষ্ঠ হন। দল ও প্রশাসনের অন্তর্দলীয় কোন্দলের সুযোগে অনেক তথ্য তিনি পেতেন। আর সেগুলোকে বিকৃত করে আলোচিত সংবাদের জন্ম দিতেন রোজিনা।

ঢাকায় শূন্য হাতে আসা মিঠু ও ৪০ হাজার টাকা বেতনের রোজিনার সম্পদের পরিমাণ অগণিত। বাসাবো, ধানমন্ডি ও বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দুটি বহুতল বিশিষ্ট বাড়ি ছাড়াও রাজউকের উত্তরা ও পূর্বাঞ্চলে কয়েকটি প্লট রয়েছে। প্রাইম ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকে এফডিআর রয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকার। যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ভিসায় অভিবাসনের আবেদন করেছেন।

কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেছেন রোজিনা। কয়েকজন ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তার বিদেশে অর্থপাচারে সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে রোজিনা ও মিঠুর বিরুদ্ধে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও দুর্নীতিতে সহায়তা করেছেন রোজিনা। সাংবাদিকতার কলমকে তিনি ব্যবহার করেছেন ব্যবসায়িক স্বার্থ উদ্ধার ও অর্থসম্পদ গড়ার মাধ্যম হিসেবে।

 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।