উল্লাপাড়ায় দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

উল্লাপাড়ায় দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো



রাজু আহমেদ সাহান - উল্লাপাড়া প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বহমান ফুলজোড় নদীতে পারাপাড়ের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বজ্রাপুর ও ছাপড়াপাড়া গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন ফুলজোড় নদীর উপর নির্মিত এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে। নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন ছাপড়াপাড়ার গ্রামবাসি। ভরাট হয়ে যাওয়া ফুলজোড় নদীটি নতুন করে পুণঃখননের ফলে নদী দু’পারের মানুষের চলাচলের এমন অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে বর্তমানে। নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মিত হলে বদলে যেতে পারে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা। 
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, করতোয়া নদীর শাখা নদী ফুলজোড় উল্লাপাড়া পৌরশহরের ঝিকিড়া পাট বন্দর হইতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে নদীটি শাহজাদপুর উপজেলার করতোয়ায় গিয়ে মিশেছে। দীর্ঘদিন নদীটি সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে মরা নদীতে পরিণত হয়েছিল। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড গত অর্থবছরে উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের বজ্রাপুর ও ছাপড়াপাড়া গ্রামের মধ্যদিয়ে ফুলজোড় নদীর আংশিক পুণঃখনন করলে উপজেলা শহরের সাথে এ দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেন।
ছাপড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কাঠ ব্যবসায়ী নুর ইসলাম জানান, ভরাট হয়ে যাওয়া ফুলজোড় নদী পুঃণখননের পূর্বে এলাকার মানুয়ের উপজেলা শহরের সঙ্গে যাতায়াতের কোন অসুবিধা ছিল না। নদীটি পুণঃখননের ফলে পুরাতন সমস্যা আবার নতুন করে দেখা দিয়েছে। ফলে গ্রামবাসি চাঁদা দিয়ে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করে নদীর উপর যাতায়াতের জন্য কাঠের খুঁটি দিয়ে ৬০ ফিট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে। ভ্রাম্যমান এ সাঁকো দিয়ে বর্তমানে দু’পারের মানুষ যাতায়াত করছে। তিনি আরো জানান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বিনির্মাণে এই এলাকায় একটি ব্রীজ নির্মাণ করে জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন বলে তাদের প্রত্যাশা।  
উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবু সালেক জানান, চলতি বছরে ফুলজোড় নদী পুণঃখনন করার ফলে ইউনিয়নের বজ্রাপুর ও ছাপড়াপাড়া গ্রামবাসির মধ্যে নদী পারাপারের নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নদীতে ব্রীজ নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান ভুইয়া জানান, আগামী অর্থবছরে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে উপজেলার বজ্রাপুর এলাকায় ফুলজোড় নদীর উপর প্রস্তাবিত ব্রীজটি নির্মাণ করা যেতে পারে। 
  

শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।