স্বাধিনতার ৫০ বছরেও একটি ব্রিজ পায়নি দুই গ্রামের বাসিন্দা

স্বাধিনতার ৫০ বছরেও একটি ব্রিজ পায়নি দুই গ্রামের বাসিন্দা



শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: কথা দিয়ে কথা রাখেনা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। একের পর এক ক্ষমতার বদল হলেও স্বাধীনতার ৫০ বৎসর পূর্তির পরেও এই যাতায়তের মাধ্যমটির একমাত্র ভরসা তক্তার ব্রিজ।বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল ডেপুটিঘোনা গ্রামের সাথে শিলকূপ ইউনিয়নের পশ্চিম মনকিচর গ্রামের কয়েক হাজার লোকজনের দুঃখ এ সংযোগ সেতু।

জানা গেছে, স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন আসলে বিভিন্ন মিথ্যা প্রতিশ্রতি দিয়ে সহজ সরল লোকজনের নিকট থেকে ভোট আদায় করে থাকেন জনপ্রতিনিধিরা। পরে আর কোন খবর থাকেনা। যার কারণে স্বাধিনতার পর থেকে অদ্যবধি সেতুটি বঞ্চিত করেছে দুই ইউনিয়নের দুই গ্রামের মানুষের সেতুবন্ধনকে।

চাম্বল ডিপুটিঘোনার ব্যবসায়ী মু. গিয়াস উদ্দিন বলেন, 'একটি সেতুর কারণে চাম্বল ও শিলকূপ ইউনিয়নের দুই ওয়ার্ডের প্রায় ৫ হাজারের অধিক জনগণ দীর্ঘদিন যাবৎ কষ্টে আছে। চাম্বল চিবাখালের উপর নির্মিত সেতু দিয়ে পশ্চিম চাম্বল ডিপুটিঘোনা এলাকার হাজীর বাড়ী, অছিয়র রহমানের বাড়ী, মইত্তার বাড়ী, চৌধুরী বাড়ী, রমজান আলী বাড়ী, অপর দিকে মনকিচর এলাকার মাষ্টার বাড়ী, আফিয়া বাপের বাড়ী, এয়াকুব আলী বাড়ী, নুরুল হক ও দিলদার মেস্ত্রি বাড়ীর কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র চলাচলের সুবিধার জন্য কালভার্টটি নির্মাণ করলেই জনম দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে দুই গ্রামের বাসিন্দা। তাছাড়া এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন যাতায়ত করে পশ্চিম চাম্বল ডিপুটিঘোনা সঃপ্রাঃ বিদ্যালয়, মনকিচর এমদাদুল উলুম মাদরাসা, মনকিচর দারুল হিকমা মাদরাসা, বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্টানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। চাম্বলের বাংলাবাজারে অনেক মৎস্য ব্যবসায়ী এ সেতু দিয়ে পারাপার করে থাকে। উপজেলার সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়তের জন্য একমাত্র মাধ্যম এই সেতুটি। সেতুটি স্ববাধিনতার ৫০ বছর পরেও কখনো বাঁশের উপর কখনো গাছের গুড়ি (তক্তার) উপর ভরসা করে দাঁড়িয়ে আছে।'

এলাকাবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা যায়, 'চলতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঢলে ও চিবাখালের জলকদরের স্রোতে সেতুটি ভেঙ্গে একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। বেশকয়েকটি গাছের তক্তা ভেঙ্গে পড়েছে। যে কোন মুহূর্তে পুরো সেতুটি ভেঙ্গে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হতে পারে দুই গ্রামের লোকজনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্থানীয় কিছু সচেতন মানুষ নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ গেড়ে খুঁটি স্থাপন করলেও অর্থের অভাবে আর বেশী কাজ করতে পারেনি। এখনো গ্রামবাসীকে এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, সরকারের এতো উন্নয়ন প্রকল্পের মাঝেও চাম্বল-শিলকূপ সংযোগ দুই ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি এখনো মান্ধাতার আদলে খুঁটির উপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। এ ব্যর্থতা কার?

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশী অাশরাফুল ইসলাম বলেন, ' চাম্বল-শিলকূপ সংযোগ তক্তার সেতু মেরামত কিংবা ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমাদের কোন বরাদ্দ নেই। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস হয়তো দেখবে।'

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজি বলেন, 'ওই সেতুটি নির্মাণে আমাদের কোন বরাদ্দ নেই। এটি আমাদের প্রকল্পভূক্ত নয়। হয় তো অন্য কোন ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে দেখবে।'

শিলকূপ ইউপির চেয়ারম্যান মু. মহসিন বলেন, 'জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণে আমি বিভিন্ন দপ্তরে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি সেতুটি ভেঙ্গে একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মিত হবে।'

ক্যাপশনঃ চাম্বল-শিলকূপ দুই ওয়ার্ডের সংযোগ সেতুর বেহালদশা। 

শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।