উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন মঙ্গলবার

উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন মঙ্গলবার



সেবা ডেস্ক: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন আগামীকাল মঙ্গলবার।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী তীরের প্রত্যন্ত পাড়াগাঁ টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রমের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের কান্ডারিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬ তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে হেলসিঙ্কি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ফিনল্যান্ডের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে হেলসিঙ্কি-ভান্তা বিমানবন্দরে অবতরণ করে ও প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীরা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে দুই দিনের যাত্রা বিরতি করেন। পরে স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৪ টা ১৬ মিনিটে হেলসিঙ্কির ভ্যানটা বিমানবন্দর ছেড়ে যান ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইট স্থানীয় সময় ১৯ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহিদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতেমা প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রাসহকারে লোটে নিউইয়র্ক প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সেখানে বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সরকারি সফরের অংশ হিসেবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অবস্থান করেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আহ্বানে নারী নেতাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখছিলেন। বৈঠকে তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে তিনটি প্রস্তাবও রাখেন, লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে যেগুলো সঠিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম প্রস্তাবে বলেন, ‘আমি লিঙ্গ সমতার বিষয়ে উপদেষ্টা বোর্ড প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের প্রশংসা করি। এখন এটিকে স্থানীয়করণ করা দরকার। আমাদের প্রত্যেক পর্যায়ে, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে লিঙ্গ চ্যাম্পিয়ন প্রয়োজন এবং আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারি।

দ্বিতীয়ত, তিনি বলেন, নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এ ধরনের প্রচেষ্টায় সহায়তার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তৃতীয় ও শেষ প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘আমি লিঙ্গ সমতার জন্য আমাদের সাধারণ কর্মসূচীকে জোরদার করতে নেতৃবৃন্দের একটি সম্মেলন ডাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। শুধু আমরা নয়, সকল নেতার এতে যোগদান করা উচিত এবং লিঙ্গ সমতার অগ্রগতির জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করা উচিত।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিশীল খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর বুধবার এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, নীল অর্থনীতি, পর্যটন, জ্ঞানভিত্তিক হাইটেক শিল্পসহ অন্যান্য লাভজনক খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি শুধু আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের ২৮টি হাইটেক পার্কে যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ করতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা অব্যাহতভাবে আমাদের শারীরিক, আইনি ও আর্থিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাচ্ছি এবং এছাড়া পদ্মা সেতু ও ঢাকা মেট্রোরেলের মতো বিভিন্ন সড়ক ও রেলযোগাযোগও বৃদ্ধি করছি।’

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন বাজারে অন্যান্য বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হতে পারে। বর্তমান বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে আরও উচ্চ পরিসরে উন্নীত করতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারে।  

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে ‘বাংলাদেশ ফরওয়ার্ড : দ্য ফ্রন্টিয়ার ফর গ্রোথ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল গোলটেবিল আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বৈঠকে বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি নিশা বিসওয়াল বৈঠক পরিচালনা এবং উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ব্যবসায়ী নেতারা এতে অংশ নেন। লোট নিউইয়র্ক প্যালেস থেকে ভার্চুয়ালি গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এই হোটেলেই অবস্থান করছেন তিনি।

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সঠিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। জ্বালানি, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কারণে অবশ্যই বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। এসব খাত ছাড়াও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে এফডিআই সুবিধা দিতে বাংলাদেশ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। 

প্রধানমন্ত্রী আশা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক অগ্রাধিকারের মাধ্যমেই বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি অবস্থান থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও রপ্তানির ভিত্তি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রয়োজন হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেরই সবচেয়ে মুক্ত বিনিয়োগনীতি রয়েছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ পার্লামেন্টের আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্বারা সুরক্ষিত। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত-বর্ধিষ্ণু আইসিটি খাত এখন ৬০টি দেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের আইসিটি পণ্য সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের আইসিটি শিল্প ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৬ লক্ষাধিক ফ্রি-ল্যান্স আইটি প্রফেশনালদের কারণে বাংলাদেশ এখন আইসিটি খাতে বিনিয়োগের জন্য আদর্শ স্থান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেন প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতেই দক্ষ জনসম্পদ পেতে পারেন, সেজন্য আমরা জনশক্তিকে দক্ষ করার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি। এডিবি আউটলুক ২০১৯-এর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দ্রুততম অর্থনৈতিক উন্নয়নের দেশ।

তিনি বলেন, ‘দ্রুত নগরায়ণ, বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি, দরিদ্রতার সীমা থেকে উত্তরণ করে ব্যাপক মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে প্রবেশ, বিশাল আঞ্চলিক বাজারগুলোর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি বাংলাদেশকে বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সমৃদ্ধির পথে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি এবং বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দরবারে ‘আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বও বাংলাদেশের শক্তিশালী টেকসই অর্থনীতির স্বীকৃতি দিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারিতেও বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকে আছে। বাংলাদেশ ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত জাতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনের জন্য ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল ও এর সভাপতি নিশা বিসওয়ালকে ধন্যবাদ জানান। 

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব কুয়েতের : কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি রোডম্যাপ (পথনকশা) তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশেনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। এ সময় কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাব দেন। 

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ওই বৈঠকের পর নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হয়েছে। তিনি বলেন, কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি তেল শোধনাগার স্থাপনের ব্যাপারে তার দেশের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন। 

এছাড়া তাদের দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা চেয়েছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত তেল শোধনাগারের জন্য প্রয়োজনীয় জমি প্রদানের ব্যাপারে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আর প্রয়োজনীয় সামরিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লফভেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। 

প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার গ্রহন

একইদিন ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সার্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সঠিক পথে অগ্রসরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। 

শেখ হাসিনাকে ক্রাউন জুয়েল হিসেবে আখ্যায়িত

এছাড়াও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পূর্ণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুট মণি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

 জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষন

‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মাননীয় সভাপতি,

আসসালামু আলাইকুম।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন  জানাচ্ছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আপনার প্রত্যাশার নেতৃত্বে (প্রেসিডেন্সী অব হোপ) আমাদেরকে টেকসই পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবে যেখানে কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না।  

নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৭৫তম অধিবেশনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বিদায়ী সভাপতি ভলকান বোজকিরকে অভিনন্দন  জানাচ্ছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত  গর্বের যে, আমি এ নিয়ে ১৭ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আমার দেশ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।

সাধারণ পরিষদের এই ৭৬তম অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বার বার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারিতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত  হয়ে পড়েছে।

এ সঙ্কটকালে নিবেদিত সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য আমি সম্মুখ সারির সকল যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কোভিড-১৯-এর নির্মম বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘প্রত্যাশা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সঙ্কটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাংখার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।


সভাপতি মহোদয়,

এ বছরটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একইসঙ্গে আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছি।

আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁর আজীবন নিঃস্বার্থ সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের এনে দিয়েছে স্বপ্নের স্বাধীনতা। আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাদের অসীম বীরত্ব ও আত্মত্যাগে আমাদের  মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে।

আমাদের জাতির পিতা ছিলেন বহুপাক্ষিকতাবাদের একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি জাতিসংঘকে জনগণের ‘আশা-আকাংখার কেন্দ্র’ মনে করতেন।

আমাদের জাতিসংঘ অভিযাত্রার প্রথম দিনে ১৯৭৪ সালের ২৫-এ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক একমাত্র ভাষণে তিনি বলেছিলেন: “আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ উদ্যোগই আমাদের নির্ধারিত কর্মধারা। এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ ও প্রযুক্তিবিদ্যায় অংশীদারিত্ব আমাদের কাজকে সহজতর করতে পারে, জনগণের দুঃখকষ্ট লাঘব করতে পারে।”  

বঙ্গবন্ধু এমন একটি বিশ্ব গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি থাকবে না। সাতচল্লিশ বছর আগের তাঁর সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা দাবী, ফিলিস্তিনিদের প্রতি যেকোনো ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এসব আমাদের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কতিপয় উদাহরণ মাত্র।  

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত  বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম। জিডিপি-তে আমরা বিশ্বের ৪১তম। গত এক দশকে আমরা দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।

এ সময়ে আমাদের মাথাপিছু আয় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২,২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

গত এক দশকে আর্থ-সামাজিক খাতে ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শিশু মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ২৩ দশমিক ৬৭-এ কমে এসেছে। প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃ মৃত্যুর হার ১৭৩-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য মতে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। ২০১৪ সাল থেকে এ সূচকে বাংলাদেশ আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর চাইতে এগিয়ে আছে।  

আমাদের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে। আমরা ব্যাপকভাবে ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ কর্মসূচির সম্প্রসারণ করেছি। ‘টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২১’ অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রার সূচকে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে আছে। এ সাফল্যের মূলে রয়েছে নারীর উন্নতি ও ক্ষমতায়নে বিপুল বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ আমাদের  রূপান্তরসক্ষম উন্নয়নে বিপুল অবদান রেখেছে।

এ বছর আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের মাইলফলক অর্জন করেছি। এখন আমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ ও ২১০০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও টেকসই বদ্বীপে রূপান্তর করা।


জনাব সভাপতি,

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া, এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করতে শুরুতে আমাদের বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিভিন্ন সময়ে আমরা ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে  প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে।

অতি দরিদ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশ-ফেরত প্রবাসী ও অসহায় নারীদের মতো সমাজের দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর জন্যে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি। সময়োচিত পদক্ষেপ ও আমাদের জনগণের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও আমরা ৫ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।


মাননীয় সভাপতি,

অনাদিকাল হতে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। এতদসত্ত্বেও বুকে আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানবজাতি এসব পাহাড়সম সমস্যা অতিক্রম করে টিকে রয়েছে।

এই মহামারিও এমনি একটি সঙ্কট যেখান থেকে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে আমি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরছি-

প্রথমত, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন।

সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাশেরও কম টিকা পেয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না।   

তাই আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর  টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।

দ্বিতীয়ত, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ক আন্ত:সরকার প্যানেলের ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র কোন দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।   

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্স-এর সভাপতি হিসেবে আমরা ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা- দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘কনফারেন্স অব পার্টিজ’ (কপ) এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন আমাদের নতুন নতুন অন্তর্ভূক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই।

তৃতীয়ত, মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।  

চতুর্থত, কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাংখাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনা ভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্ততিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে, আমরা আশা করি যে, দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।

পঞ্চমত, মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাঁদের অনেকে চাকুরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সঙ্কটকালে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।  

ষষ্ঠত, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ‘ভাষানচর’-এ স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তার রোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।  

আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আমরা আশা করি, আসিয়ানের নেতৃবৃন্দ বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকান্ডে সহযোগিতা করতে হবে।


সভাপতি মহোদয়,

আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ আফগানিস্তানের জনগণের উপরই নির্ভর করে। আফগানিস্তানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাবনার প্রধান প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। তাই আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বজায় রেখেছি। শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আজ আমরা গর্ববোধ করি। মহামারির নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে কঠিনতম পরিবেশে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবিধানের আলোকে আমরা সর্বদা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রত্যয় থেকেই আমরা ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ অনুস্বাক্ষর করেছি। এ বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।


মাননীয় সভাপতি,

কোভিড-১৯ মহামারি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে এটি বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরেও আলোকপাত করেছে।

সর্বজনীন বিষয়গুলোতে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন নতুন অংশীদারিত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই আমরা সহনশীল ও অন্তর্ভূক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারবো।

এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিসংঘই হোক আমাদের ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল। আসুন, সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি।

শেষ করার আগে, সারা বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার এই মহান সংস্থার সামনে বিগত প্রায় ৪৬ বছর আগে আমার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী ঘাতক আমার পিতা, বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার স্নেহময়ী মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ভাই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল, ১০ বছরের শেখ রাসেল, চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও নিকটাত্মীয়কে নির্মমভাবে হত্যা করে।

আমি ও আমার ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যাই। আমাদের ৬ বছর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছি। দেশে ফিরে আমি মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করি। জাতির পিতার স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যে আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।


সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।

খোদা হাফেজ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। 


যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে শেখ হাসিনা ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং হেলসিঙ্কিতে যাত্রা বিরতির পর ১ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।

ম্যাক্রো ফিন্যান্সিয়াল ইকোনোমিস্ট ও আইটি এক্সপার্ট প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী গনমাধ্যম ঢাকা টাইমস এর মতামত বিভাগে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা, যিনি জনকল্যাণের ব্রত নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচালনা করে চলেছেন- অতিমারীকালীন সময়ে এবং তার পূর্বকালে, তার ঔদার্য, শাসক হিসেবে সক্ষমতা, মানবীয় গুণাবলীর আধাররূপে সর্বমহলে স্বীকৃত। 

রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ন্যায়পরায়ণতা, বিচক্ষণ কূটনৈতিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং মানব মর্যাদা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যে তাৎপর্যমণ্ডিত ভূমিকা তিনি রেখে চলেছেন সেজন্য বাংলাদেশের জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ভোটে তাকে বারবার নির্বাচিত করেছেন এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তিনি চারবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় সংসদ দ্বারা নির্বাচিত হয়েছেন। 

আসলে বাংলাদেশকে সামাজিক অর্থনৈতিকভাবে বলশালী করতে বঙ্গবন্ধুর মধ্যে যে সাহসী ভূমিকা ছিল তাই আবার তাঁর কন্যার মধ্যেও জিন ফ্যাক্টর হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে রূপায়িত হয়েছে। 

জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মহীয়সী নেত্রী হিসেবে দেশে ও সমগ্র বিশ্বে সমাদৃত করেছে। তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। তিনি মেহনতী মানুষের সংগ্রামী জীবনকে সহজ করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছেন। 

দেশের মানুষের জন্য নিরলসভাবে পরিশ্রম করে চলেছেন। আমরা মিয়ানমারের অং সান সু চিকে দেখেছি কিন্তু তিনি তার দেশের বিভেদ সঞ্চার করেছিলেন এবং তার দেশের নাগরিকদের আমাদের দেশে পাঠিয়ে অন্যায় করেছেন। মানবহিতৈষী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। সুন্দরভাবে করোনাকালে যাতে জীবন ও জীবিকার মাধ্যমে মেলবন্ধন ঘটানো যায় সে জন্য সকল ধরনের প্রয়াস শেখ হাসিনা গ্রহণ করেছেন। 

অন্যদিকে জীবন ও শিক্ষা- এ দুইয়ের দ্বন্দ্বকে তিনি তার সহজাত জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিদীপ্ততার সাথে সমন্বয় করে ধীরে ধীরে অতিমারী প্রকট কমতে থাকায় স্কুল-কলেজ পর্যায়ক্রমে খোলার জন্য গত ১২ সেপ্টেম্বর ব্যবস্থা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ যাতে ধীরে ধীরে খুলে তার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। 

একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মান্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিছু সংখ্যক লোক স্বাস্থ্যবিধি মানছে না যেটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

তিনি আধুনিক বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন যেগুলো দেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে সহায়তা করবে। ডেল্টা প্ল্যানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার মতো লোকের অভাব হচ্ছে না। 

এই সমস্ত দুর্বিনীতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে। শেখ হাসিনা সূর্যের আলোর মতো জ্বলছেন। তার আলোয় অন্যরা আলোকিত হচ্ছে। অথচ যারা গিরগিটির মতো, মোশতাক-জিয়া-চাষীর মতো বারবার রং পাল্টাচ্ছেন তাদের অবশ্যই দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত। 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বর্তমানে যে জনপ্রিয়তা তা তাকে মানুষের অর্থনৈতিক দুঃখকষ্ট লাঘবে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এক অসীম সাহসিকা জননীর ভূমিকায় অবতীর্ণ করেছেন। 

একজন অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে, সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে এবং আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি মনে করি প্রতিটি স্তরে স্তরে শেখ হাসিনার যে ভূমিকা তার সাথে কারোর তুলনা চলে না এ দেশে। 

একদিকে তার মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেই অনমনীয় বাঙালিদের জন্য তীব্র ভালোবাসা এবং দেশকে হায়ানাদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য কঠিন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করার শক্তি অন্যদিকে বঙ্গমাতার বাঙালিদের প্রতি যে আন্তরিকতা ও প্রীতি- এই দুয়ের মিশেল এজন্যই শেখ হাসিনা আজ বিশ্ব নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। 

নিজের দেশ ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক অনন্য নেত্রী। মাঝে মাঝে ভাবি শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই এবং তিনি যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। 

সম্প্রতি সচিবদের সাথে এক বৈঠকে তিনি সার্বিকভাবে দেশের জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। 

যাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তারা যেন কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখেন। এমন না হয় মুখে মধ্যম ও নিম্ন ব্যবস্থাপকরা অনেক কিছু বলে ফেলেন কিন্তু বাস্তবে তা যেন প্রতিফলন ঘটান। 

কেউ যদি প্রতিফলন না ঘটান সে যত বড় লোকই হোক তাকে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। শেখ হাসিনা জানেন অতিমারীর সময় কিছুটা হলেও বৈশ্বিক যোগাযোগ হ্রাস পেয়েছে- সে জন্য কৃষির উন্নয়নকে মূল উপজীব্য করে লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। 

যাতে কৃষি ক্ষেত্রে আমাদের সংকটকালীন সময়ে সংকট মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে। স্বাস্থ্য খাতে যে সমস্ত দুর্নীতি আছে সেগুলো বন্ধ করতে তিনি দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলো বাস্তবায়ন করা দরকার। 

তিনি বৃক্ষ রোপণ করার জন্য যেভাবে বলেছেন কিছু দুর্নীতিবাজ পরের জায়গায় লাগানো বৃক্ষ তুলে ফেলছে এবং মিথ্যের ফুলঝুড়িতে তারা রং পাল্টাচ্ছে অথচ ওরা প্রকৃত দেশপ্রেমিক নয়। অতিমারীর সময় তার কূটনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে প্রতি মাসে ২ কোটির মতো টিকা ব্যবহারের নির্দেশ পাওয়া গেছে। 

তবে গত দুদিনের স্কুল খোলার অভিজ্ঞতায় বলা যাচ্ছে অনেক ছাত্রছাত্রীকেই মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যাচ্ছে না এবং বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ ও রকে, ফুটপাতে বসে আড্ডা দিচ্ছে। এদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা বিচারের আওতায় নেওয়া দরকার। 

পাশাপাশি যেহেতু এখন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে সেজন্য বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহকে অবশ্যই রপ্তানিমুখী পণ্যের অর্ডার আনার জন্য জোর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া উচিত।

দেশে প্রায় দশ লক্ষ প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক বর্তমানে অবস্থান করছেন। এরা যারা ফেরত যাবেন না তাদেরকে অবশ্যই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে গঠনমূলক কাজে লাগানো যায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। 

একজন সত্যিকার জনদরদী রাজনীতিবিদ হিসেবে শেখ হাসিনা যাতে এলডিসি মর্যাদা ২০২৬ সালে পেতে পারে, বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে জিএসপি প্লাস যাতে বজায় থাকে এবং ট্রিপস (ঞজওচঝ) এর সুযোগ-সুবিধা, ঔষধ প্রস্তুতকারী শিল্পের জন্য বহাল রাখার কথা বলেছেন। 

তিনি দেশে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের জন্য বিভিন্ন স্থানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত রপ্তানিমুখী শিল্প জোন প্রস্তুতের যে ব্যবস্থা নিয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। 

অতিমারীর কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির যত বাংলাদেশেও আবার আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প প্রতিষ্ঠান সকল সুযোগ-সুবিধা সম্বলিতভাবে প্রতিষ্ঠার যে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, সেক্ষেত্রে তার সচেতন ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। 

আশা করা যায়, আমদানি বিকল্পায়ন জোন প্রতিষ্ঠা হলে দেশে রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন ও আমদানি বিকল্পায়ন শিল্পায়নের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থান তৈরি হবে। স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আমদানি ও রপ্তানির ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার প্রয়াস নিয়েছেন।

তিনি দেশের শিল্পায়নে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের বহুধা বিভক্তিকরণের জন্য অত্যন্ত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। লাইট ইঞ্জিনিয়ানিং এবং ঔষধ শিল্পের প্রতি তার বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। যাতে করে রপ্তানিমুখী আয় বৃদ্ধি করা যায়। 

আবার দেশে যাতে ভ্যাকসিন তৈরি করা যায় সেজন্য এসেন্সিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, যা সরকারি ঔষধ কোম্পানি তার ল্যাব গোপালগঞ্জে প্রস্তুতের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দৃঢ়তার সাথে, সম্প্রীতির সাথে টেনে চলেছেন। আবার পদ্মা সেতুতে রেলের যোগাযোগ ব্যবস্থাপনাতেও তার বিচক্ষণতার ছোঁয়া রয়েছে। ঢাকায় মেট্রো রেল তৈরির প্রকল্প আজ তাঁকে একটি বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। 

মানব কল্যাণে তাঁর যে ব্রত অদম্য শক্তিতে অতিমারীর সময়ে দক্ষণ কান্ডারীর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার যে প্রয়াস তা তাকে বিরল গুণসম্পন্ন বৈশ্বিক নৈত্রী হিসাবে বিশ্বে রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিচিতি দিয়েছে। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, আজকের পরিবেশ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে। 

তিনি প্রমাণ করেছেন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ তার দেদীপ্যমান নেতৃত্বগুণে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলে। কায়েমী স্বার্থবাদীদের হাত থেকে রাষ্ট্রকে বাঁচানোর জন্য গ্রেনেড হামলার পরও তিনি মৃত্যু ভয়ে ভীত না হয়ে সাহসিকতার সাথে জনগণের জন্য সংগ্রাম করেছেন। 

তিনি একদিকে যেমন মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারায় বিশ্বাসী তার সাথে সাথে গরিব-দুঃখী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, হিজড়া, নিম্নবর্গের মানুষদের জন্য সাম্য ও বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসাবে সেফটি নেটের আওতায় নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করার প্রয়াস নিয়েছেন। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান তার গৃহীত কর্মসূচিসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে। 

তার আমলে অর্থনীতির যে উত্থান তা এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ নানা দাতাগোষ্ঠী, দেশি-বিদেশি অর্থনীতিবিদরা বলে আসছেন এবং সাধারণ জনমানুষ তা প্রত্যক্ষ করছে। 

এদিকে অতিমারীর কারণে সমগ্র বিশ্বের মানুষ যাতে টিকার সুযোগ পায় সে কথা বিবেচনা করে তিনি অতিমারী আটকানোর টিকাকে পাবলিক গুড হিসাবে অভিহিত করেছেন। 

এখানেই তার দরদী মনের মাহাত্ম্য এবং বৈশ্বিক নেত্রী হওয়ার প্রয়োজনীয় শক্তি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি মানবতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ডেল্টা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন যা সময়ের তুলনায় অত্যন্ত অগ্রগামী কিন্তু দেশের দীর্ঘ উন্নয়ন পরিক্রমায় গুরুত্ব বহন করে থাকে।

২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসাবে যাতে আত্মপ্রকাশ করতে পারে সে জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। এডিবির মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতের চেয়েও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। 

তার আমলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে দেশে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া শুরু হয় যার সুফল এই অতিমারীর সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দৈনন্দিন ক্রয়-বিক্রয়সহ সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে। তিনি যখন প্রথম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রিত্ব পালন করেন, তখনই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে কার্যকর করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেন। 

সে সময়ে ’৯৮-এর বন্যা-পরবর্তী অবস্থা দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করেন। আবার ২০০৯ সালে দায়িত্বভার পালন করা থেকে এখন পর্যন্ত অবিরত জনমানুষের কথা ভেবে নানা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। 

তার আমলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮% এর উপর হয়েছে। অবশ্য বৈশ্বিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোভিড-১৯ এর মধ্যেও তিনি হাল ছাড়েননি। 

মুজিববর্ষে তিনি গৃহহীনদের গৃহ দিতে চেষ্টা করেছেন। ৮ মার্চ ২০২০ সালে কোভিড-১৯ এর সমস্যা থেকে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো যাতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তার দিক-নির্দেশনা দেন। 

দেশের যে উন্নয়ন তা কখনো সম্ভব হতো না যদি তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ না করতেন। দূরদর্শীপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের গুণে দেশে বিদ্যুতে কেবল স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বরং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। 

কোভিড-১৯ শুরুর সাথে সাথে নানামুখী প্রণোদনা প্যাকেজ রপ্তানিকারকদের থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়াস নিয়েছেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি গরিব, হতদরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষদের জন্য ১০.৫০ কোটি টাকা জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। 

গত বছর সরাসরি মোবাইলের মাধ্যমে তিনি অর্থ সরাসরি দরিদ্র মানুষদের মধ্যে বিতরণ করেন। তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দিতে চাচ্ছেন। 

তার উন্নয়নের মূল সূত্র হচ্ছে কেউ উন্নয়নের ফললাভ থেকে বঞ্চিত হবেন না। আশ্রয়ণ-১ এর আওতায় ৬৯,৯০৪টি গৃহ দরিদ্র ও ভূমিহীনদের মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। আবার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় ধাপে দরিদ্র ও ভূমিহীনদের মাঝে ৫৩.৩৪০টি গৃহ চলতি বছরের ২০ জুন বিতরণ করেন। তিনি কক্সবাজার সমুদ্রবক্ষে বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন যা আধুনিক ও মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করবে। 

আশা করব কুমিল্লায় যেন আবার বিমানবন্দর চালু হয় যাতে রাজধানীর ওপর চাপ কম পড়ে সেজন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই মন্তব্য করেছেন যে, অতি দরিদ্র যারা তারা দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়াস নিয়েছেন। নারী উন্নয়নে, নারীর শিক্ষা প্রসারে তার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বগুণ সব সময় বাংলার মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। 

সবার জন্য জীবন ও জীবিকার উন্মেষ ঘটাতে তিনি সচেষ্ট। তিনি বৃক্ষপ্রেমী, বনায়ন ও গাছ গাছালী রোপণের জন্য নিরন্তর নির্দেশ দিচ্ছেন। তার আমলে দরিদ্র থেকে মুক্তি, ক্ষুধা থেকে মুক্তি, অন্যায়-অবিচার থেকে মুক্তির প্রয়াস তিনি গ্রহণ করেছেন। 

এজন্যই চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রায় এক লক্ষ গৃহহীনকে গৃহ দেওয়ার উদ্যোগ তিনি গ্রহণ করেছেন যাতে স্থানীয় প্রকৌশলী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্থানীয় প্রশাসকদের সাথে একযোগে কাজ করতে পারে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ জাতির বিজ্ঞানমনস্কতার সাথে যোগসূত্র গড়তে তার প্রয়াস লক্ষণীয়। আবার ধরিত্রীর পরিবেশ যাতে দূষণমুক্ত থাকে সেজন্যও তিনি অবিরতভাবে কাজ করে চলেছেন।

একজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রলীগ কর্মী হিসাবে অর্থনীতির ছাত্র হিসাবে বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা দীর্ঘায়ু পান এবং তিনি পঞ্চমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে যেন প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি প্রয়াস নিয়েছিলেন শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য। 

সে জন্য বাংলাদেশ এক্রিডেশন কাউন্সিল গঠন করেছেন। আসলে এদেশে অনেকে আছেন দায়িত্ব পাওয়ার পর তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ভুলে যান। অতিমারীর সময়ে বাংলাদেশ এক্রিডেশন কাউন্সিলকে তেমন কার্যকর মনে হয়নি। 

অনলাইনে শিক্ষার জন্য সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে বিডিরেন্ট এর খরচ যদি বিনামূল্যে হতো, সেক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হতো। যাদের ওপর শিক্ষা সংশ্লিষ্ট তদারকির ভার দেওয়া হয় তারা যেন প্রধানমন্ত্রীর যে গভীর দেশপ্রেম, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং জাতি হিসাবে বাঙালির গৌরব সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে যাক সেটি মান্য করে চলেন। 

মধ্যম ও নিম্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নৈতিক বলে বলীয়ান হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর গঠনমূলক কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবন যাতে লাভ করেন তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া থাকল- একই সাথে আশা করব তিনি পঞ্চমবারে মতো প্রধানমন্ত্রী হোন।

দেশের উন্নয়ন, প্রগতি, মহামারি মোকাবেলা, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দান সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনবদ্য কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করার জন্য আমরা বাঙালিরা তথা বাংলাদেশিরা জোর দাবি করছি নোবেল পুরস্কার কমিটির কাছে। দেশের অগ্রযাত্রায় এই মহীয়সী নেত্রী আজ বৈশ্বিক নেত্রী হয়ে উঠেছেন। জয় বাংলা, জয়তু শেখ হাসিনা।


পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার প্রথম সন্তান শেখ হাসিনার ডাক নাম হাসু। দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দাদা-দাদির কোলে-পিঠে মধুমতি নদীর তীরে টুঙ্গিপাড়ায়। তাঁরা পাঁচ ভাই-বোন। অপর চারজন হচ্ছেন শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেল।

ভাই-বোনদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কাল রাতে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মাতা ফজিলাতুন্নেছাসহ সবাই ঘাতকদের হাতে নিহত হন।

পিতাকে খুব একটা কাছে না পেলেও শৈশব-কৈশোর আনন্দেই কেটেছে শেখ হাসিনার। গ্রামবাংলার ধুলোমাটি আর সাধারণ মানুষের সাথেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। গ্রামের সাথে তাই তাঁর নাড়ির টান।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় তাঁরা ওঠেন।

বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। এখন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ নামে খ্যাত। শুরু হয় তাঁর শহর বাসের পালা তথা নগর জীবন।

শেখ হাসিনা ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন এবং ৬-দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬-দফা দাবিতে পূর্ববাংলায় এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। শুরু হয় প্রচন্ড দমন-নির্যাতন। আটক থাকা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। তাঁর জীবন ও পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর বিপদাশংকা ও দুঃসহ কষ্ট।

এই ঝড়ো দিনগুলোতেই বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়।

অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দী অবস্থায় তাঁর প্রথম সন্তান ‘জয়’-এর মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যা সন্তান পুতুলের জন্ম হয়।

১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপ যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার খবর পান। তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার কোনো পরিবেশ না থাকায় তিনি ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।

শেখ হাসিনার পরবর্তী ইতিহাস একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় তিনি কিভাবে বাঙালি জাতির কান্ডারি হয়েছেন তার ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্ন রূপায়নের দায়িত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির আলোর দিশারী হওয়ার ইতিহাস।

১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ঐ বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচশ’ নেতা-কর্মী আহত হন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশী আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

পরবর্তিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পান ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছেন।



শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।