ঘাটাইলে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় মামলা

ঘাটাইলে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় মামলা



ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক প্রবাসীর ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। 

রোববার (৩১ অক্টোবর) ভোরে প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বড় ভাই জয়নালের স্ত্রী শাহনাজ সুলতানা বাদী হয়ে ৩০২ ধারায় অজ্ঞাতনামা মামলাটি করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সুমি আক্তার ও তার শাশুড়িকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন সুমির প্রেমিক শাহজালাল ইসলাম সোহাগ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নিহত সুমির স্বামী জয়েন উদ্দিন সৌদি-প্রবাসী। জয়েন উদ্দিনের বড় ভাই মো. জয়নালের স্ত্রী শাহনাজ রোববার সকালে হত্যা মামলা করেছেন। 

মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, ‘ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আমরা রহস্য অনেকটাই উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। 

সাবেক স্ত্রী সুমি আক্তার ও তার শাশুড়ি জমেলা বেগমকে হত্যার পর শাহজালাল নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে সুমি ও শাহজালাল পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। প্রায় পাঁচ মাস তারা ঘর-সংসার করেন। এরপর সুমির বাবা জিন্নত আলী তাদের দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে সুমিকে বাড়িতে রেখে দেন। 

ওই সময় সুমি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। পরে তার গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট করার শর্তে সুমির আগের স্বামী জয়েন উদ্দিন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে সুমিকে আবার তার কাছে ফেরত নেন। 

এর কিছুদিন পর জয়েন উদ্দিন আবার বিদেশে চলে যান। সন্তান নষ্ট করায় সুমির সাবেক স্বামী শাহজালাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘সুমির স্বামী জয়েন উদ্দিন বাড়িতে না থাকায় মাঝে-মধ্যেই শাহজালাল সুমির শশুর বাড়িতে আসতেন। ঘরের বারান্দার লোহার গ্রিলের চাবিও ছিল শাহজালালের কাছে। 

পরে গতরাতে শাহজালাল সুমির ঘরে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে তার সাবেক স্ত্রী সুমি ও সুমির শাশুড়িকে হত্যা করেন। 

এসময় সুমির শিশুসন্তানকেও হত্যার চেষ্টা করে। এরপর শাহজালাল নিজেই আত্মহত্যা করেন। বিভিন্ন আলামত ঘেটে আমরা বিষয়টির রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি। 

তারপরও ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনার কারণ হিসেবে পরকীয়াকে সন্দেহ করছে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসন। 

তারা জানিয়েছে, নিহত ওই যুবকের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রীর দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।

এর আগে শনিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার দিঘর ইউনিয়নের কাশতলার খামারপাড়া এলাকায় প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বাসায় তিনজনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।