ইউপি নির্বাচন: আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীরা শক্ত অবস্থানে

ইউপি নির্বাচন: আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীরা শক্ত অবস্থানে



উল্লাপাড়া প্রতিনিধি: তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে উল্লাপাড়ার -১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ ইউনিয়নে  নির্বাচনী সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলীয় বিদ্রোহী, বিএনপি -জামায়াত প্রার্থীর সাথে গাঁটছড়া বেঁধে আওয়ামী লীগের নৌকাকে হারানোর প্রতিযোগিতা চলছে। 

এতে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিরব সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে । আবার অনেক নেতা নৌকার পক্ষে মাঠে না নেমে নিরব ভুমিকা পালন করছেন । 

ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকায় নিজ দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। 

এ সহিংসতা সবগুলো ইউনিয়নেই ছড়িয়ে পড়েছে । আর এ অবস্থায় ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে । 

ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতিকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার প্রায় নিশ্চয়তা থাকায় তৃর্ণমুলের নেতা-কর্মীদের মাঝে নির্বাচনী আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় প্রায় চারগুণ।  

যাচাই-বাছাই শেষে দলীয় প্রতিক দেওয়া হয় একজনকে। এতেই হয় বিপত্তি, অপর তিন জন দাড়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে। 

তাদের ইন্দন যোগায় দলের কিছু প্রভাবশালী নেতারা ।  দলীয় প্রতিকে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনেও গিয়ে পড়বে । 

সাধারণ ভোটাররা  মনে করেন ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতিক না থাকলে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা কম থাকতো,  এতে দলের আভ্যন্তরিন কোন্দল কমে যেতো । 

দলের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতা থাকতো না । বিষয়টি দলীয় নিতি নিধারকদের ভেবে দেখা প্রয়োজন । 

নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, সলপ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন জামায়াত নেতা সাবেক চেয়ারম্যান খোন্দকার শহিদুল ইসলাম এর সাথে গাঁটছড়া বেঁধে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী সলপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শওকত ওসমানকে এবং পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম লিটন বিএনপির প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম  মিস্টারের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ তৌহিদুল ইসলাম ফিরোজকে হারানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। 

উভয়ের মধ্যে একাধিকবার নির্বাচনী সহিংসতা হয়েছে, আরো সহিংসতার আশংকা রয়েছে ।   

অপর দিকে পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ রেজাইল ইসলাম তপন এর সমর্থকদের সাথে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলামিন সরকার এর সমর্থকদের সাথে নির্বাচনী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে।  

দুই পার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আলামিন সরকারের ১৫ জন কর্মী গুরুতর আহত হয় । 

বাঙ্গালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী বাঙ্গালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সোহেল রানার সমর্থকদের সাথে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোড়া মার্কার বীর মুক্তিযোদ্ধা কেফায়েত উল্লাহ ও মোঃ আবু হানিফ এর সমর্থকদের নির্বাচনী সহিংসতায় অনেকেই আহত হয়েছে । 

বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন । নৌকার প্রার্থীও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের  বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন । 

 এছাড়াও গত ১৭ নভেম্বর কয়ড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী কয়ড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন এর সমর্থকদের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ খোরশেদ আলম ও  তার সমর্থকদের সাথে নির্বাচনী সহিংসতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ খোরশেদ আলম ও তার কর্মী গুরুতর আহত হয় । 

এ বিষয়ে খোরশেদ আলম নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে এবং সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ।  

সবমিলিয়ে আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচনের দিন নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের ব্যাপক  সংঘর্ষের  আশংকা করছেন সাধারণ ভোটাররা । 

ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতিক থাকায় নিজ দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করেন । 

 ইতিমধ্যেই ১৩ টি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রের নির্দেশে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১২ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ । 

এতে দলের এক অংশের নেতা- কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোপের সৃষ্টি হয়েছে । আর ওই ক্ষোপ থেকেই সহিংসতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন সাধারণ জনগণ । 

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ফয়সাল কাদের রুমি জানান এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রার্থীরা নির্বাচন অফিসে অভিযোগ দিচ্ছেন। 

নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিবেন। তবে দলের কতিপয় নেতা বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সাথে গাঁটছড়া বাঁধায় এ সহিংসতার সৃষ্টি হচ্ছে । দলের পক্ষ থেকে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে ।   


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।