উল্লাপাড়ায় সরকারি বই বিতরণে চাঁদা নেবার অভিযোগ

উল্লাপাড়ায় সরকারি বই বিতরণে চাঁদা নেবার অভিযোগ



উল্লাপাড়া প্রতিনিধি: উল্লাপাড়ায় মাদ্রাসাগুলোতে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই বিতরণের সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতি ৫০০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোদাররেসিন এর উল্লাপাড়া শাখার সভাপতি উল্লাপাড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান, সাধারন সম্পাদক বন্যাকান্দি আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ও সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মনোহরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল বারী এই অর্থ উত্তোলন করছেন। 

উপজেলার বিনায়েকপুর দাখিল মাদ্রাসা, প্রতাপ দাখিল মাদ্রাসার, কয়ড়া ফাজিল মাদ্রাসা, ঘোনাইগাঁতী মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি মাদ্রাসার সুপার ও শিক্ষকগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন, উল্লিখিত সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অবৈধভাবে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণের সময় জোড়পূর্বক মাদ্রাসা প্রতি ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন এবং চাঁদা দাতারা চাঁদার অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদেরকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। 

অভিযোগকারীদের কথা, জামিয়াতুল মোদাররেসিনের উল্লাপাড়া শাখার কার্যকরি কমিটির মেয়াদ ৪ বছর আগে উত্তীর্ণ হয়েছে। কাজেই এই চাঁদা গ্রহণের কোন এখতিয়ার তাদের নেই।

প্রতাপ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুস ছামাদ অভিযোগ করেন, উক্ত সংগঠনের কথিত নেতৃবৃন্দ ভুয়া ভাউচার করে তাদের আদায়কৃত সমুদয় অর্থ নিজেরা আত্মসাৎ করছেন। 

এ ব্যাপারে জামিয়াতুল মোদাররেসিন উল্লাপাড়া শাখার সভাপতি আতিকুর রহমান ও সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তারা বই বিতরণের অজুহাতে মাদ্রাসা থেকে চাঁদা আদায়ের কথা অস্বীকার করে জানান, এই অর্থ তাদের সংগঠনের বাৎসরিক চাঁদার অংশ। 

বই বিতরণের সঙ্গে এই অর্থের কোন যোগসূত্র নেই। 

এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কে এম শামছুল আলমের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মাদ্রাসা সংগঠনের চাঁদাবাজীর অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। 

প্রকৃতপক্ষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের লোকবল কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা উপজেলার প্রায় ৬০টি মাদ্রাসায় বই বিতরনের জন্য জামিয়াতুল মোদাররেসিন উল্লাপাড়া শাখার নেতৃবৃন্দের সহায়তা নিয়ে থাকেন। 

এই সুবাদে শিক্ষা কর্মকর্তাদের অগোচরে এসব কর্মকর্তা চাঁদা আদায় করছেন বলে বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে তাদের দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমেদ জানান, সরকারি বই প্রদানের সময় কারো চাঁদা নেবার কোন সুযোগ নেই। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে উল্লেখ করেন ইউএনও।

 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।