নন্দীগ্রামে রণবাঘা বাজারে সরকারি জায়গা বেদখল, নিরব প্রশাসন

নন্দীগ্রামে রণবাঘা বাজারে সরকারি জায়গা বেদখল, নিরব প্রশাসন



নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা হাটের সরকারি জায়গায় দোকানঘর ইজারার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কথিত বণিক সমিতির আড়ালে লাখ লাখ টাকা বখরা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বছরের পর বছর অবৈধ দখলে হাটের জায়গা কমছে, অন্যদিকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। একাধিকবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকায় রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দোকানঘরের সীমিত জায়গা ইজারা নিয়ে কথিত সমিতির নেতাদের ম্যানেজ করে অতিরিক্ত জায়গা অবৈধ দখল করে ইট দিয়ে বেশ কয়েকটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের নজর না থাকায় অবৈধ দখলের মহোৎসব চলছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। 

গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিনে রণবাঘা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সদর ইউনিয়নের রণবাঘা হাটের কাঁচাবাজারে ইট দিয়ে গোডাউন আকারে দুটি ঘর নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। একজনের নামে দোকানের জন্য জায়গা ইজারা নিয়ে অন্যজনকে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নির্দেশনা ও শর্ত উপেক্ষা করে দোকানঘর নির্মাণ করলেও ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের তদারকি নেই। 

জানা গেছে, অলক চন্দ্রের ছেলে অসীম কুমার অস্থায়ী ভিত্তিতে ৯শত ৪৮ টাকার লাইসেন্স ফি জমা দিয়ে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ভূমি অফিস থেকে শর্তসাপেক্ষে ১৮.১১ বর্গমিটার দোকান ইজারা পান। শর্তে উল্লেখ করেন, ইজারাকৃত জমি হস্তান্তর, প্রকৃতি পরিবর্তন বা সাব লিজ/ভাড়া প্রদান করিব না। অসীম কুমার সীমিত জায়গা ইজারা নিয়ে বিদ্যুৎ নামের আরেক ব্যক্তির কাছে টাকার বিনিময়ে জায়গা ভাড়া দিয়েছেন। সীমিত জায়গার স্থলে অতিরিক্ত জায়গা অবৈধ দখল করে ওই ব্যক্তি নিজ খরচে দোকান ঘর নির্মাণকাজ করছেন। অসীম কুমার ইজারা নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে জায়গা ভাড়া দিলেও পাশের আরেকটি জায়গা দখল করে ব্যবসা করছেন তিনি। ৯শত ৪৮ টাকার বিনিময়ে জায়গাটি ইজারা পেলেও অসীম কুমার বলেন, ২৫ হাজার টাকায় হাটের জায়গা সরকারিভাবে ইজারা পেয়েছি। পাশের একটি জায়গায় আমার দোকান আছেই, এজন্য ভাড়া দিয়েছি। তবে বিদ্যুৎ বলেন, সিকিউরিটি এবং লিখিতভাবে জায়গা ভাড়া নিয়েছি। এসময় সাংবাদিকদের বখরা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন কথিত সমিতির নেতা টিপু। 

স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েকবছর ধরেই রণবাঘা হাটের জায়গা ইজারার নামে একটি সমিতির আড়ালে লাখ লাখ টাকা বখরা আদায় করছেন দুই ব্যক্তি। হাটের পাশে কীটনাশকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার পরও সম্প্রতি ইনছানুর রহমান নামের ব্যক্তি আরেকটি ৯.২৯ বর্গমিটার জায়গা ইজারা নিয়ে অতিরিক্ত জায়গায় গোডাউন ঘর নির্মাণ করেছেন। 

সমিতির নেতা পরিচয়ে মিলন কর্মকার বলেন, অনেক তো লিখেছেন। কিছু করতে পেরেছেন? এরচেয়ে কিছু সম্মানি নিয়ে যান। 

সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মখলেছুর রহমান মিন্টু বলেন, অনিয়মের মাধ্যমে হাটের জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি প্রয়োজন। 

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিফা নুসরাত বলেন, সীমিত জায়গা ইজারা নিয়ে অতিরিক্ত জায়গা দখল এবং ইজারার শর্ত না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।