পিলখানা হত্যাকান্ডে বিএনপি-জামাতের সংশ্লিষ্টতা

পিলখানা হত্যাকান্ডে বিএনপি-জামাতের সংশ্লিষ্টতা



সেবা ডেস্ক: ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানা সদর দপ্তরে বিডিআরের কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল জওয়ান সংঘটিত করে ইতিহাসের বিভীষিকাময় নারকীয় হত্যাকান্ড। বিভীষিকাময় দুদিনে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, নারী-শিশুসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।


এ ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল সে সম্পর্কে ২০১৩ সালে ঘোষিত বিচারের রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ ওই বিচার প্রক্রিয়ার রায়ে ১৩৯ জনের ফাঁসির রায় হয়। বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুসহ ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ হয়েছে ২৬২ জনের। 


সুশৃঙ্খল একটি বাহিনীর অপরাধী সদস্যদের বিচার শেষ করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 


কারণ জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত সংঘটিত ২১টি সামরিক অভ্যুত্থানে সেনা ও বিমানবাহিনীর অনেক সদস্য নিহত হলেও সেই অভ্যুত্থানের কোন দৃশ্যমান বিচার হয়নি। 


এমনকি অনেক মামলার নথিও গায়েব হয়ে গেছে। তাহলে পিলখানা হত্যাকান্ড নিয়ে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার মানুষের অপপ্রচারের উদ্দেশ্য কি? 


অন্যদিকে শেখ হাসিনা সরকার সেই ঘটনায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের পুনর্বাসনে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়ে নানাবিধ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন। কেবল আর্থিক অনুদান নয় ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর করে নির্বাহের জন্য সকল ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।


উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের মৃত্যু প্রসঙ্গে ‘কিছু প্রাণী মারা গেছে’ বলে বিদ্রুপ করেছিলেন। অপরদিকে অভিযুক্ত আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছিলেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, খালেদা জিয়ার প্রধান উপদেষ্টা আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক প্রমুখ। 


এছাড়াও ছিলেন সাবেক ছাত্র শিবির নেতা অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ। ছিলেন খালেদা জিয়ার আরেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীনসহ আরও অনেকেই। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ডিএডি তৌহিদ ও বিদ্রোহী সিপাহী মাঈনসহ আরও অনেকে। 


অভিযুক্তদের প্রায় সবাই বিএনপি আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত। টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার হওয়া ২২ জন বিডিআর সদস্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলার আসামি বিএনপির উপমন্ত্রী সালাম পিন্টুর সুপারিশে চাকরি পেয়েছিল। 


পিলখানা হত্যাকান্ডের মূল লক্ষ্য ছিল- তৎকালীন নতুন সরকার উৎখাত ও জঙ্গি বাহিনীর উত্থান এবং বিডিআর বাহিনী ধ্বংস করে দেয়া। 


বিএনপি জামায়াত সরকারের সহায়তায় যেভাবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ বাংলাদেশে বিস্তার করছিল তাতে সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করেছিল বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামের বেশকিছু সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যার তদারকিতে ছিলেন তারেক জিয়া। পুরো পরিকল্পনা ও কলকাঠি ছিল তারেক জিয়ার হাতে। 


ঘটনার দিন সকাল থেকে বাংলাদেশে বিএনপি নেতাদের মালিকানাধীন মিডিয়া গুলো মনগড়া তথ্য দিয়ে সরকারকে বিব্রত করতে থাকে। বিদ্রোহ শুরু হবার আগেই খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় তারেক। 


সকাল বেলা খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টের বাসা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।এসব তথ্যসূত্রের প্রচার অনুযায়ী বিডিআর কর্তৃক সেনা নিধনের ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত। 


বিডিআর জোয়ানদের মধ্যে ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ ছিল। তবে তা এতটা ভয়ঙ্কর রূপ নেয়ার মতো ছিল না। 

আসলে দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেবার জন্যই সেদিন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল। 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।