বিডিআর বিদ্রোহে সরকারের যুক্ত থাকার কোন কারণই ছিলো না!

বিডিআর বিদ্রোহে সরকারের যুক্ত থাকার কোন কারণই ছিলো না!



বাংলাদেশের ইতিহাসে হৃদয়বিদারক, লোমহর্ষক ও কলঙ্কিত ঘটনা পিলখানা হত্যাকান্ড। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারী’র এ ঘটনা বাংলাদেশকে বিদীর্ণ করে। কী নৃশংসভাবে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়েছিল, তা ভাবলে সচেতন ব্যক্তিমাত্রেরই গা শিউরে ওঠার কথা।



তেরো বছর আগে ঢাকায় তদানীন্তন বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় সংগঠিত মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসংখ্য কর্মকর্তা নিহতের ঘটনাটি এখনও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা বর্তমান সরকারের দিকেই আঙুল তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে। 


স্বাধীনতার পর দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার যে ষড়যন্ত্র, সেই সূত্রেই পিলখানা ট্র্যাজেডি বা তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহের নামে সেনা অফিসারদের হত্যা করা হয়েছিল। পিলখানা হত্যাকান্ডের পেছনের উদ্দেশ্য যে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করা, সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের বিরোধ উস্কে দেওয়া এটি স্পষ্ট।


মূলত জনগণের ভাগ্য নিয়ে ভয়ঙ্কর ছিনিমিনি খেলা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারপ্রধান হিসেবে দেড় মাস সময় অতিবাহিত করেছেন, ঠিক তখন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার মধ্য দিয়ে সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত করে ফেলার চেষ্টা এবং বিডিআর জওয়ানদের বিদ্রোহের আগুন সেনাবাহিনীর জওয়ানদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার টার্গেট নেওয়া হয়। যদিও সেই চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। তবে ওই নির্মম ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার চলতে থাকে দেশ-বিদেশে। 


পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে আওয়ামী লীগ সরকার জড়িত থাকার ব্যাপারটি দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা প্রমাণিত নয়। একটি দেশের সরকার তার সেনাবাহিনীর উপর হত্যাযজ্ঞ চালালে এতদিনে দেশের বা দেশের বাইরের কোন না কোন গোয়েন্দা সংস্থা অবশ্যই বিস্তারিত প্রকাশ বা ফাঁস করতেন। 


সবে মাত্র রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নিজ সেনাবাহিনীর উপর এত বড় আঘাত হানার সাহস আওয়ামী লীগ সরকার কেন, পৃথিবীর কোন দেশের সরকাররেই নেই। 


সাধারণত এরকম হত্যাযজ্ঞ হলে একটি দেশের ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। সরকার গঠনের ৪৮ তম দিনে যখন সরকার তার প্রশাসনকেই বুঝে উঠতে পারেনি তখন কিভাবে এত বড় রিস্ক নিবেন তা বোধগম্য নয়। শেখ হাসিনার পরিবর্তে অন্য কেউ সরকার প্রধান হলে, দেশের ক্ষমতা সে সময় সামরিক বাহিনীর হাতেও যেতে পারতো। সুতরাং পিলখানা হত্যাকান্ডের পেছনে শেখ হাসিনার সরকার জড়িত নয় বরং শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের একটি ব্যর্থ উপধাপ ছিল পিলখানা হত্যাকান্ড। উল্লেখ্য,   পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা অফিসারদের মধ্যে  আওয়ামীলীগপন্থী সেনা অফিসারের সংখ্যাই ছিল অনেক বেশি। যারা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করে অভিযোগ করে তাদের কাছে এই তথ্যটি হয়তোবা অপ্রত্যাশিতই মনে হবে।







শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।