তামাক আইন সংশোধনে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে: পরিকল্পনা মন্ত্রী

তামাক আইন সংশোধনে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে পরিকল্পনা মন্ত্রী



৩ মার্চ, ২০২২, বৃহস্পতিবার, ঢাকা: দেশের ৩৫.৩% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোন না কোন তামাক ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে মৃত্যুবরণ করেন ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ। 
তামাকের এই ভয়াবহতা উপলব্ধি করে আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধন করতে সকল পক্ষের উপর চাপ অব্যাহত রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব এম.এ মান্নান।

আজ ৩ মার্চ, সিরডাপে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিং’ আয়োজিত ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এ কথা বলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। আয়োজনে ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, “আমরা যারা সংসদ সদস্য, তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বিষয়টি মনে রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন; আমরা তাকে সহায়তা করবো। এটা অর্জন করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সাথেই আছেন। তাই আমাদেরকে তামাক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে কাজ করতে হবে। তামাক আইন সংশোধনে সকল পরযায়ে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদেরকে জনগণকে সাথে নিয়ে এগোতে হবে। আমাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হবে।”

বিশেষ অতিথি রুহুল হক বলেন, “আপনারা অনেকেই প্যাসিভ স্মোকিং এর কথা জানেন। একজন ধূমপান করেন, কিন্তু সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হন। বিশেষ করে তরুণ এবং নারীদের মধ্যে এটা বেশি হচ্ছে। আমাদেরকে তামাকপণ্যের প্যাকেটে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৯০% করতেই হবে। মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে আমরা সবাই বলেছি, তামাকের বিরুদ্ধে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি পরিকল্পনামন্ত্রীকে বলে রাখি, আমাদের দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা জরুরি। আমরা সকলেই এ ব্যাপারে একমত।”

অন্যান্য সংসদ সদস্যবৃন্দগণ, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা ও তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় তামাক বিরোধী কাযর্ক্রম পরিচালনায় একমত পোষণ করেন।

এর আগে অনুষ্ঠানে তামাক আইন সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি। তিনি বাংলাদেশের তামাক ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে বিদ্যমান তামাক আইনের কোন কোন বিষয়গুলো সংশোধন করা জরুরী সেসব বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। বিশেষ করে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা, বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন (Product display) নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির ‘কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা’ (CSR) কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা (Single stick)/ মোড়কবিহীন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) নিষিদ্ধ করা এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট/কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার বৃদ্ধি করার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, তার উপস্থাপনায় আন্তর্জাতিকভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণে সফল উদাহরণগুলোও উঠে আসে। তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব ও  জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক আইন সংশোধনের বিষয় তুলে ধরেন ফোরামের সাচিবিক সংস্থা স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

তামাক নিয়ন্ত্রণে ফোরামের নানান সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন ফোরামের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত এমপি। এর মধ্যে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১৫৩ জন এমপির চিঠি, তামাক আইন সংশোধনের দাবিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিকট ১৫২ জন সংসদ সদস্যের চিঠি দেওয়া উল্লেখযোগ্য।

সভায় অন্যান্য সংসদ সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল এমপি, অ্যাডভোকেট সৈয়দা রুবিনা আক্তার এমপি, জনাব অপরাজিতা হক এমপি, শবনম জাহান এমপি, জনাব উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম এমপি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী জনাব হোসেন আলী খোন্দকার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং তামাক-বিরোধী সংস্থা, অন্যান্য এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।  

 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।