নন্দীগ্রামে জয়বাংলা স্লোগান কেন্দ্র করে হট্রগোল, উত্তেজনা

নন্দীগ্রামে জয়বাংলা স্লোগান কেন্দ্র করে হট্রগোল, উত্তেজনা



 : বগুড়ার নন্দীগ্রামে উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায় জয়বাংলা স্লোগান না দেওয়ায় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হট্রগোল হয়েছে। ঘটনাটি হাতাহাতির পর্যায়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।


বুধবার (১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ১৫ মিনিট এ হট্রগোল চলে। নন্দীগ্রাম উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন ঘোষণার লক্ষ্যে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ ঘটনা ঘটে। জয়বাংলা স্লোগানের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতা আর বিপক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান।


আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিফা নুসরাতের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া আলোচনা সভায় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম কামাল ও ভাটগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বক্তৃতা শেষে জয়বাংলা স্লোগান না দিয়েই বসে পড়েন। এসময় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা এলএলবিসহ নেতারা। বক্তৃতা শেষে জয়বাংলা স্লোগান না দেওয়া দুই ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ নেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ। বক্তৃতা শেষে জয়বাংলা স্লোগান দিতেই হবে বা কেন দিতে হবে, বাধ্যতামূলক আইন আছে কিনা! উপজেলা চেয়ারম্যানের এমন মন্তব্যের পরপরই শুরু হয় হট্রগোল।


ঘটনার সময় উপস্থিত ভাটরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারী জানান, সভায় জয়বাংলা স্লোগান না দেওয়ায় কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আমি বলেছি, যেহেতু আমরা সরকারের জনপ্রতিনিধি, জয়বাংলা স্লোগান দিতে হবে। ‘জয়বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান এবং বাধ্যতামূলক।


এ ব্যাপারে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম কামাল বলেন, আমি বক্তব্যই দেইনি। ভাটগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম বক্তৃতা শেষে জয়বাংলা স্লোগান না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হট্রগোল হয়েছে।


তবে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বক্তৃতা শেষে জয়বাংলা স্লোগান দিয়েছি। এ হট্রগোল আমার বক্তব্য কেন্দ্র করে হয়নি। সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামালের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হট্রগোল হয়েছে কিনা, বলব না।


নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা এলএলবি বলেন, দুই ইউপি চেয়ারম্যান বক্তব্য শেষে জয়বাংলা স্লোগান না দেওয়ায় প্রতিবাদ করেছি। উপজেলা চেয়ারম্যান জিন্নাহ ‘জয়বাংলা’ স্লোগানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় উপস্থিত দলীয় নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ করেছে। জয়বাংলা জাতীয় স্লোগান, মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। যারা জয়বাংলা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে তারা পাকিস্তানি চেতনায় বিশাসী।


মন্তব্য নিতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিফা নুসরাত ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ কল রিসিভ করেননি।


নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বক্তব্য শেষে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জয়বাংলা স্লোগান মিসটেক করেছেন। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের কথাকাটাকাটি হয়। অনাকাঙ্খিত ঘটনা তাৎক্ষণিক শান্ত করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গত ২ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। বাধ্যতামূলকভাবে এই স্লোগান ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।



শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।