শফিকুল ইসলাম, রৌমারী: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় প্রতি বছর ভয়াবহ বন্যায় রাস্তাঘাট, নদনদী, খাল, বিল, সমতল জমিসহ বিভিন্ন জায়গা ভাঙ্গনের ফলে জমিতে ধু-ধু বালুর চরে ব্যাপক হারে বাদাম চাষ করেছে কৃষকরা।
![]() |
| রৌমারীতে বাদাম চাষে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি |
বাম্পার ফলনের আশায় কৃষক রৌমারী’র পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্রহ্মপুত্র নদ সহ উপজেলার চারপাশের গ্রামগুলোতে যেনো বাদামের সবুজ শ্যামলে ঘেরা মাঠ। বন্যার খেয়াল খুশিমত প্রতি বছরের ভাঙ্গনের তান্ডবে কখনো বালুচর কখনো নদের তলদেশে পরিণত হয়। আর তাতে করে ফসলি জমি ও বসতভিটা হারা হয় অনেক অসহায় পরিবার। এ অঞ্চলের মানুষগুলো জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ফসলের প্রকারভেদ অনুযায়ী সাদা ধবধবে বালুর বুকচিড়ে বাদাম চাষ করে। এখানকার মানুষ চেয়ে থাকে চর জেগে উঠার অপেক্ষায়। চরের মানুষ চেয়ে থাকে পানি শুকিয়ে বুকচিড়ে জেগে উঠা ভুমিতে বাদাম চাষ করার জন্য। তবে ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের কারনে প্রতিবছর আগাম বন্যা হয় তাই তারা বাদাম চাষ বেছে নেয়।
রৌমারী উপজেলার উত্তরে গাছবাড়ি, ইটালুকান্দা, চরকাউনিয়ারচর, সাহেবের আলগা, চরকাজাইকাটা, পশ্চিমে ফলুয়ারচর, পালেরচর, কান্দাপাড়া, খেরুয়ারচর, বড়চর, খেদাইমারী, ঘুঘুমারী, চরধনারচর, দিগলাপাড়া, চরপাখিউড়াসহ প্রায় ২০ টি গ্রামের মানুষ বাদাম চাষ করে অভাব অনাটন থেকে কেটে উঠছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারী) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
চর লাঠিয়াল ডাঙ্গা গ্রামের বাদাম চাষি কৃষক মনির হোসেন বলেন, বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর ৬২ শতকের এক বিঘা জমিতে বাদামের ফলন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ মন বাদাম। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রতিমন ৩ হাজার ৭’শ টাক। এতে বাদাম চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে চরাঞ্চলের বাদাম চাষিরা । এবারের বন্যায় নদ, নদীতে অনেক চর হইছে তাই মেলা বাদাম চাষ করছি। এভাবেই জমিতে ফসল করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে যুদ্ধ কইরা বাপ দাদার ভিটেমাটি জমিজিরাত আকরে ধইরা আছি। তবে আগের চাইতে বর্তমানে বাজারে বাদামের চাহিদা অনেক বেশি।
বাদাম চাষি হাফিজুর রহমান জানান, আমরা প্রায় ২০টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ রবিশস্য হিসেবে বাদাম ও আষাড়ী ফসল হিসেবে চিনা ও কাউন চাষ করে সংসার চালাই। এবারের বন্যায় ব্যাপক হারে ভাঙ্গনের ফলে জমিতে বালি মাটি হওয়ায় অন্য কোন ফসল হয় না। তবে কিছু কিছু জায়গায় বেলে দু’আশ মাটি থাকায় গম ও বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। আশা করি এবার বাদামের ন্যায দাম পাবো।
রৌমারী উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা একরামুল হক জানায়, এবছর রৌমারীতে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ভাঙ্গনের ফলে অনেক জমিতে বালুতে পরিণত হওয়ায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর একর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। এমনকি এবছর বাদামের জমিতে পলিমাটি ও বালি মিশ্রিত থাকায় বাদামের বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এবারের ভয়াবহ বন্যা হওয়ায় ব্রহ্মপুত্রনদসহ উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট, খালবিল নদী নালা ভাঙ্গনের ফলে জমিতে বালু হওয়ায় বাদাম চাষ বেশী হয়েছে। এ মৌসুমে কৃষি প্রনোদনা ও কৃষি পুর্নবাসন ১১’শ ৫০ জন কৃষকের মাঝে বিভিন্ন জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম উৎপাদন হয়েছে। এবারের কৃষক বাদাম চাষে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন। বর্তমানে বাদামের দামও ভালো। কৃষকরা এবার বাদাম চাষে লাভবান হবে বলে আশা করছি।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
রৌমারী- নিয়ে আরও পড়ুন

জিঞ্জিরাম নদীর উপর সেতু না থাকায় ৭ গ্রামের মানুষের চরম দূর্ভোগ

চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা প্রদান

রৌমারীতে তিনদিন পর পুকুর থেকে বৃদ্ধনারীর লাশ উদ্ধার

রৌমারীতে ৫৪ তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ব্র্যাক এক্সেলারেটেড এডুকেশন মডেল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা


খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।