শফিকুল ইসলাম, রৌমারী: জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় মেঘালয় সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা মাখনেরচর, নিমাইমারী পূর্ব পাড়া, বাঘারচর, কদমতলা ও ডাংধরা গ্রাম সহ ৭টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছে।
![]() |
| জিঞ্জিরাম নদীর উপর সেতু না থাকায় ৭ গ্রামের মানুষের চরম দূর্ভোগ |
দীর্ঘদিন থেকে এলাকাবাসি মাখনের চর গ্রাম সংলগ্ন জিঞ্জিরাম নদীর উপর একটি ব্রীজের দাবী করে আসলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। সরকার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মানুষের ভাগ্যয়ন্ন হয়নি। শনিবার (১০ জানুয়ারী) ওই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান জানান, জিঞ্জিরাম নদীতে একটি পাঁকা ব্রীজ না থাকায় ওই এলাকায় ৭টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ প্রয়োজনীয় তাগিদে জীবনের ঝুকি নিয়ে নৌকা যোগে পারাপার হচ্ছে।
এছাড়াও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এভাবে পারাপার হয়। নদীতে ব্রীজ না থাকায় সেখানে কোন উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজও নেই। ফলে তারা জিঞ্জিরাম নদী পার হয়ে চার কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে কাউনিয়ারচর, সানন্দবাড়ী ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় গিয়ে পড়ালেখা করছে।
অপর দিকে কৃষকদের কষ্টের উৎপাদিত ফসল নদী পার করতে অতিরিক্ত সময় ও শ্রমিক খরচ বেশি পড়ে। তাছাড়া উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে নদী পার করতে ও পরিবহন খরচ বেশি পড়ছে। এতে কৃষকের তেমন কোন লাভ হয়না। শুকনো মৌসুমে অল্প কোমড় পানিতে নৌকা ও বর্ষাকালে বাঁশের সাঁকোই হচ্ছে একমাত্র ভরসা। অন্যদিকে নদী পথ হওয়ায় সীমান্তের বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহলে ব্যাহত হচ্ছে। এ সুযোগে ভারতীয় বিএসএফ’র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় প্রতিবাদ করতে পারেনা বিজিবি। অপরদিকে ভারতের বন্যহাতির তান্ডবে সীমান্ত এলাকার জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে আসছে। সময় মতো বিজিবি ঘটনাস্থলে যেতে না পারায় হাতির দলকে তাড়ানোও সম্ভব হয়না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন রোগী ও গর্ভবর্তী মায়েদের নিয়ে।
মাখনের চর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও এই এলাকায় উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। নির্বাচনে আসলেই এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ব্রীজ, কালভার্ট, রাস্তা নির্মাণে, বিভিন্ন প্রতিশ্রæতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার খবর আর রাখেন না। আমরা এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে সরকারের কাছে জোরালো দাবী, নদীর উপর ব্রীজ ও রাস্তা নির্মাণ করা হউক।
নিমাইমারী পুর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাত আলী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যান্ত খারাপ হওয়ার কারনে কোন লোক অসুস্থ হলে তাকে রাজিবপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ উপজেলায় নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয় গর্ভবতী নারীদের। বর্ষাকালে নৌকায় পারাপার হতে হয়। অনেক সময়ে নিজেদের অথ্যায়নে বাঁেশর সাকোঁও তৈরি করে পার হই। মাঝে মধ্যে নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটে।
বাঘারচর গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন, নদীর ওপারে প্রায় ৬ হাজার লোকের বসবাস। কৃষির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদিত পণ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে বাজারজাত করা যায় না। বর্ষাকালে খাবার জোগাড় করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমাদের অনেক জমি নদীর ওপারে। ফসলগুলি বাড়িতে আনা খুব কষ্ট ও খরচ বেশী হয়। প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের প্রার্থনা, এলাকাবাসীর সুবিধার্থে জিঞ্জিরাম নদীর উপর একটি ব্রীজ চাই।
স্থানীয় সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানের কাজ করতে রড, সিমেন্ট, বালুসহ অন্যান্য মালামাল নিতে খরচ বেশি পড়ছে এবং আমাদেরও সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসা কষ্টকর হয়ে যায়। এলাকার উন্নয়নে জিঞ্জিরাম নদীর উপর একটি সেতু জরুরী প্রয়োজন। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
জিঞ্জিরাম নদী- নিয়ে আরও পড়ুন

রৌমারীতে ভারীবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

রৌমারীর জিঞ্জিরাম নদীতে নৌকা চলাচল ব্যাহত

জিঞ্জিরাম-ধরনী নদীর ভাঙনে হুমকিতে ১৭টি বাড়ি


খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।