শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই পানীয়জলের সংকট: বাঁশখালীতে জনজীবন চরম বিপর্যয়ে!
শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই পানীয়জলের সংকট: বাঁশখালীতে জনজীবন চরম বিপর্যয়ে!

Banshkhali public life in the worst disaster
শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের তাপদাহ প্রকৃতির বুকে শুষ্কতার সৃষ্টি করে। ফলত মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচিড় হয়ে যায়। বছর জুড়ে গ্রীষ্মকালে পানীয়জলের চরম সংকটে পড়তে হয় জনসাধারণকে। প্রতিবছর এমন সময় বিশুদ্ধ পানীয়জলের তীব্র সংকট চলে, অথচ কোন সমাধান হয়না। এদিকে শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চট্টগ্রামের সারা বাঁশখালীতে শুরু হয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। নানা কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। 

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনের তুলনায় কম বৃষ্টি, নদীর নাব্যতা হ্রাস, নদীর উৎসমুখ বাধাগ্রস্ত হওয়া ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের তুলনায় স্তরে পানি না জমা অন্যতম। এর ফলে বিভিন্ন উৎপাদক নলকূপ সমূহের পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এছাড়া এর প্রভাব পড়ছে টিউবওয়েলের ওপর। এ কারণে টিউবওয়েল থেকেও মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পাচ্ছে। 


জমিতে সেচের জন্য মাটির গভীরে যে ডীপকল বসানো হয়েছে তার ফলে সাধারণ নলকূপ দিয়ে পানি উঠানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান দেওয়ানজী বলেন- "শুস্ক মৌসুম ও গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েল গুলিতে স্বাভাবিক ভাবে পানি উঠছে না। যে অঞ্চলে পানির সংকট দেখা দিয়েছে তাদেরকে দূরদূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।"
আরও পড়ুন>>বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)'র বাসায় চুরি!
উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরেজমিনে দেখা গেছে যে, অধিকাংশ স্কুলে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় প্রচণ্ড গরম ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা বাধ্য হয়ে পিপাসা মিটাতে খাল, বিল, পুকুর এবং পথঘাট থেকে পানীয় পান করার ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। 


বাঁশখালীর ৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপের ব্যবস্থা থাকলেও তা অনেকদিনের পুরোনো এবং দীর্ঘদিন থেকে অযত্ন অবহেলায় অধিকাংশ নলকূপ বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ায় ওই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। 
স্কুলগামী অবুঝ শিশুরা না বুঝে বাধ্য হয়ে পান অনুপযোগী ঠাণ্ডা পানীয় পানের পাশাপাশি স্কুলের আশ-পাশের দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুযুক্ত আচার ও মান অনুপযোগী খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে। বাঁশখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বিশেষ করে


ছনুয়া, খুদুকখালী, গণ্ডামারা, সরল, বাহারছড়া,
খানখানাবাদ, পুকুরিয়া, কালীপুর, বৈলছড়ি,



কাথরিয়া, সাধনপুর, পুঁইছড়ি, চাম্বল, শেখেরখীল ও শীলকূপ ইউনিয়নের অধিকাংশ স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। সাগর উপকূলের ইউনিয়নগুলো শুষ্ক মৌসুমে এমনিতেই খাল, বিল ও পুকুরের পানি শুকিয়ে যায়। প্রচণ্ড গরম পড়লে উপকূলীয় এলাকার ইউনিয়নগুলোতে পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। কয়েকটি গ্রাম বা পাড়ায় নলকূপ থাকলেও তার অধিকাংশই অকেজো বা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। উপকূলীয় এলাকায় একটি নলকূপ বসালে অন্তত ৯ শত থেকে ১২ শত ফুট গভীরে যেতে হয়। গভীরে না গেলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায় না। গভীরে যেতে হলে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। স্থানীয়রা এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করেন- উপকূলীয় এলাকায় শত শত নলকূপ অকেজো হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
আরও পড়ুন>>হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির প্রতিটি মানুষ নৌকার মাঝির পরিবর্তন চায়
এদিকে সরল মিনজিরীতলা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, এই এলাকায় ভ্যান গাড়িতে করে কলসি ভর্তি পানি বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতি কলসি ৫ টাকা হারে যে কেউ পানি কিনে নিচ্ছে জীবনমান রক্ষার্থে।


অভিযোগ রয়েছে বিগত অনেকদিন যাবত বাঁশখালীবাসীর চাহিদা অনুসারে কোন নলকূপ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছেনা। তাছাড়া যেসব নলকূপ সরকারী ভাবে বরাদ্দ পাওয়া যায় তাতেও ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ করে এই শুষ্ক মৌসুমে পানি পায়না জনগণ। বর্তমানে বাঁশখালীতে তীব্র পানিয় সংকটে ভুগছে পৌরসভাসহ ১৪ ইউনিয়নের প্রায় ৬ লক্ষাধিক জনগণ। বাঁশখালীর সর্বস্তরের অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় পানীয়জলের সংকট চরম আকার ধারণ করছে।
আরও পড়ুন>>বকশীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
বাঁশখালীর সর্বস্তরের অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে নলকূপ স্থাপনে বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। উল্লেখ্য বাঁশখালীতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা যে নলকূপ স্থাপনে অবদান রাখে তারা যদি যৌথ পরিকল্পনার মাধ্যমে যেসব এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সংকট থাকে সেসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নলকূপ স্থাপন করে তাহলে পানীয় জলের সংকট অনেকটা কম হবে। তাছাড়া বর্তমানে বোরো মৌসুমে অধিকাংশ এলাকায় মোটরের মাধ্যমে পানি তুলতে থাকায় সাধারণ টিউবওয়েলগুলোতে কোন পানি উঠে না। ফলতঃ জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে।




, ,