SebaBanner

হোম
ফিরে আসছে বঙ্গবন্ধুর সময়কার ‘মুজিব কিল্লা’

ফিরে আসছে  বঙ্গবন্ধুর সময়কার ‘মুজিব কিল্লা’
সেবা ডেস্ক: -বাংলাদেশে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নির্মিত ১৭২টি আশ্রয়কেন্দ্র-মুজিব কিল্লার সংস্কার এবং উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন করে আরো ৩৭৮টি বিভিন্ন মানের আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হবে।

 এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময় মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুর আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৭০ সালে ভয়াল ঘুর্ণিঝড়ে প্রায় তিন লাখ মানুষ প্রাণ হারায়, একইসঙ্গে কয়েক লাখ গবাদি পশু মারা যায়। এ জন্য স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়, যেখানে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুও ঠাঁই পায়। 


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় নির্মিত হয় বলে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ‘মুজিব কিল্লা’ নামে পরিচিতি পায়। সেই সময় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষকে দুর্যোগ সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। 


সমতল থেকে উঁচু গড়নের এসব আশ্রয় কেন্দ্র বেশিরভাগই ছিল মাটির তৈরি। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নির্মিত এসব মুজিব কিল্লা ক্ষতিগ্রস্ত ও বেদখল হয়ে পড়ে। এজন্য বর্তমান সরকার বিদ্যমান মুজিব কিল্লা সংস্কার ও নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।




পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, দেশব্যাপী ১৭২টি মুজিব কিল্লা সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ এবং নতুন করে ৩৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ মোট ৫৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলতে ১ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। প্রকল্পের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্প।



 অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে কাজ শুরু করে ২০২১ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের বিষয়ে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে ১৯৮৫ সালে ১১ হাজার ৬৯ জন, ১৯৯১ সালে এক লাখ ৩৮ হাজার, ২০০৭ সালে ৩ হাজার ৩৬৩ জন এবং ২০০৯ সালে ১৯০ জন মানুষ মারা যায়।



 এছাড়া ২০১৩ সালে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় মহাসেন, ২০১৫ সালে ঘূর্ণিঝড় কোমেন, ২০১৬ সালে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে উপকূলীয় জেলাসমূহে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫১টি এবং বেসরকারি সংস্থা একশটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করেছে।



 এছাড়া ২০১৬-১৯ মেয়াদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরো ২২০টি বহুমূখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এগুলো বর্তমান দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় অপর্যাপ্ত। সেজন্য এ প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে।



দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, এসব কিল্লা অনেক উঁচু করে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। যাতে বন্য ও ঘূর্ণিঝড় বা দুর্যোগে পানিতে তলিয়ে না যায়। আর এগুলো আকারেও অনেক বড় হবে।



ফলে বন্যার সময় মানুষকে বেড়িবাঁধ বা অন্যান্য স্থানে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হবে না। তাছাড়া স্বাভাবিক মৌসুমে এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ভিন্ন কাজেও ব্যবহার করা যাবে। কিল্লার স্থায়ী পাকা ভবন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার হবে। জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় তিন ক্যাটাগরিতে মোট ৫৫০ টি কিল্লা নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে।



 ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত ১৮১টির মধ্যে নতুন নির্মাণ ১২৬টি, সংস্কার হবে পূর্বের ৫৫টি কিল্লা। এগুলোর প্রতিটিতে একটি মাঝারি আকারের প্রাণিসম্পদ শেডও রাখা হবে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ১৭৫টি মধ্যে নতুন নির্মাণ ১১৩টি এবং সংস্কার করা হবে পূর্বের ৬২টি কিল্লা। প্রতিটি কিল্লায় একটি বড় প্রাণিসম্পদ শেড রাখা হবে।



 আর ‘সি’ ক্যাটাগরির ১৯৮টির মধ্যে নতুন নির্মাণ হবে ১৩৯টি এবং সংস্কার হবে ৫৫টি। প্রতিটিতে একটি বড় প্রাণিসম্পদ শেড ও তিনতলা বিশিষ্ট আশ্রয় ভবন থাকবে। সাতটি বিভাগের উপকূলীয় ও বন্যা প্রবণ ৩৮টি জেলায় এসব কিল্লা নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, শরিয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ জেলা।



চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা জেলা। বরিশাল বিভাগের বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি জেলা। খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলা। রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও রাজশাহী জেলা। রংপুরের গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট জেলা। সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলা ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোণা, জামালপুর ও শেরপুর জেলা।


,

Home-About Us-Contact Us-Sitemap-Privacy Policy-Google Search