খালেদার চিকিৎসা কি লন্ডনে? বিএনপি’র ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত কর্মীরা!
খালেদার চিকিৎসা কি লন্ডনে? বিএনপি’র ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত কর্মীরা!

খালেদার চিকিৎসা কি লন্ডনে? বিএনপি’র ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত কর্মীরা!

সেবা ডেস্ক: গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার কারাবাস শুরু হওয়ার পর থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদাকে গুরুতর অসুস্থ বলে দাবি করা হচ্ছে। এই অসুস্থতার গুজব ছড়িয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করে জামিনের মাধ্যমে খালেদাকে মুক্ত করাটাই মূল উদ্দেশ্য বলে ধারণা অনেকের।

সম্প্রতি তারেকের পরামর্শে খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সহায়তায় খালেদার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ নাটক মঞ্চায়নের পর সেই গুজবের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাথে সুর মিলিয়ে দলের নেতাকর্মীরাও খালেদাকে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানাচ্ছে সরকারের কাছে। যদিও দাবি জানানোর কথা আদালতের কাছে। কারণ, বিচারকার্য পরিচালনা করে থাকে স্বাধীন বিচার বিভাগ। এখানে সরকারের কিছু করণীয় নেই। এছাড়া কোনো প্রকার পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া খালেদার মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে – এই ব্যাপারে কিভাবে নিশ্চিত হয়েছে, তা বোধগম্য নয় বলে মত দিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

এদিকে কারা কতৃপক্ষ এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলছে, বেগম জিয়া সুস্থ আছেন, বয়স এবং গরমের কারণে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। তবুও খালেদাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে কারা কতৃপক্ষ।

অন্যদিকে অনেকদিন ধরেই খালেদাকে চিকিৎসার জন্য গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার দাবি করে আসছিল বিএনপি। কিন্তু সম্প্রতি তারেক ফখরুল সহ দলের কিছু সিনিয়র নেতা খালেদাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। খালেদাকে চিকিৎসার নামে লন্ডনে নেওয়ার দাবি উঠার পর পরই দলের ভেতর মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির অধিকাংশ নেতা কর্মীর মতে দলের চেয়ারপারসন এখন এই সংকটময় মুহূর্তে দেশের বাইরে চলে গেছে দলের উপর চূড়ান্ত বিপর্যয় নেমে আসবে। তাদের মতে খালেদার উন্নত চিকিৎসার দরকার হলে ইউনাইটেড হাসপাতালেই করানো উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একাধিক সিনিয়র নেতাকর্মীর মতে এই মুহূর্তে দলের চেয়ারপারসন দেশের বাইরে চলে গেলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়বে। তখন দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই মুশকিল হয়ে পড়বে। কারণ যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রাণ হচ্ছে তৃণমূল নেতা কর্মীরা।

বিএনপির একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা কোনোভাবেই খালেদাকে লন্ডন কিংবা দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী না। তৃণমূলের অনেক নেতা কর্মীর ধারণা খালেদা জিয়া চিকিৎসার লন্ডনে গেলে ফেরত আসার সম্ভাবনা খুব কম। তাদের এই মতের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন তারেক রহমানের চিকিৎসার নামে দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে থাকার কথা তুলে ধরেন। প্রসঙ্গত ২০০৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তারেক চিকিৎসার জন্য ছয় মাসের জামিন নিয়ে লন্ডন গিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় দশ বৎসর ধরে সেখানেই পরিবার সহ বসবাস করছেন।

তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মতে প্রায় এক যুগ ধরে দলের নেতাকর্মীরা যেখানে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দমন নিপীড়ন উপেক্ষা করেও আন্দোলন করে যাচ্ছে, সেখানে তিনি লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপনে সময় কাটাচ্ছেন। আর মাঝে মধ্যে ফেসবুক লাইভে এসে দায়সারা ভাবে নিজের দায়িত্ব পালনের অভিনয় করছেন। এমতাবস্থায় এখন যদি আবার দলের প্রধান খালেদা জিয়াও চিকিৎসার নাম দিয়ে লন্ডনে চলে যান তাহলে দল সহ দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হুমকির সম্মুখীন হবে।

এখন দেখার অপেক্ষা দল এবং দলের নেতাকর্মীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে খালেদার ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তারেক, মির্জা ফখরুল সহ দলের সিনিয়র নেতারা।