গাজীপুর নির্বাচনে জাহাঙ্গীরের মাস্টার প্ল্যান বনাম বিএনপির সাবেক মেয়রের ব্যর্থতা

S M Ashraful Azom
গাজীপুর নির্বাচনে জাহাঙ্গীরের মাস্টার প্ল্যান বনাম বিএনপির সাবেক মেয়রের ব্যর্থতা

সেবা ডেস্ক: রাজধানীর পার্শ্ববর্তী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্বই পাচ্ছে এ নির্বাচন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীরা নিজ বিজয় ভাবনায় মশগুল হলেও বেশ স্বস্তিতে রয়েছে ভোটারা। বিগত দিনের প্রার্থীদের হিসেব কষেই ভোট দেবেন দ্বিতীয়বারের মত হতে যাওয়া এ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। বিগত দিনের হিসেব করে ভোটারদের রায়ে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী পিছিয়েই থাকছেন। বিএনপির সাবেক মেয়রের ব্যর্থতায় এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী ইশতেহারই তার বিজয় সূত্র হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভোটারা।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মোট আয়তন ৩২৯ দশমিক ৯০ বর্গ কিলোমিটার। ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৯টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬। এর মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ জন ও নারী ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২৫। ভোটকক্ষ ২ হাজার ৭৬১টি।

স্থানীয় ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, অনুষ্ঠেয় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিগত নির্বাচনের মত এবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে শ্রমিক ভোটাররা। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যে আশা নিয়ে ভোটাররা বিএনপির মেয়রকে নির্বাচিত করেছিলেন তার কোন অংশই পূরণ করতে পারেনি অধ্যাপক এম এ মান্নান। ফলে আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর প্রতিশ্রুতিতে ভোটাররা গা দিচ্ছেন না।

জাহাঙ্গীর আলম তার নির্বাচনী ইশতেহারে নগরীর পরিছন্নতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রাণের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন পাঁচ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আগের মেয়র যখন দায়িত্ব পায় তখন তার মাস্টার প্ল্যান করার কথা ছিল। কিন্তু কিছুই করেননি। তার ব্যর্থতায় গাজীপুর ময়লা আবর্জনার শহরে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে বাসা বাড়ি তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধ ও নোংরা গাজীপুরকে আধুনিক ও সবুজায়ন করার লক্ষ্যে জাহাঙ্গীর একটি মাস্টার প্ল্যান সবার সামনে তুলে ধরছেন। সেখানে তিনি চায়না, জাপান ও নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরী করেছেন। জাহাঙ্গীরের মাস্টার প্ল্যানে ময়লা আবর্জনা ও ড্রেনের পানি নিষ্কাশনে জাপানের সহযোগীতায় ডাম্পিং পয়েন্ট চালু করার কথা রয়েছে। এ সিস্টেম চালু করা গেলে ময়লা থেকে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এজন্য নগরীকে দশটি পয়েন্ট সিস্টেম চালু করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরত্ব রেখে গাজীপুরকে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও আটটি আবাসিক এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে তার মাস্টার প্লানে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করতে পারবে। তার মাস্টার প্ল্যানে যুবকদের নিয়ে কর্মসংস্থানের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

মাস্টার প্ল্যানে গাজীপুর সিটির নারীদের জীবন যাপনের উন্নয়নের রুপরেখা দেওয়া হয়েছে। আমাদের সমাজে অনেক অবিবাহিত নারীরা থাকেন। তারা যাতে সামাজিক, ধর্মীয় ও পরিবারে সামাজিক মর্যাদা নিয়ে থাকেন সেজন্য বিভিন্ন পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। পাশাপাশি এখানে যাতে কোনভাবেই নারী নির্যাতন না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারী করা হবে বলেও জানান এই মেয়র প্রার্থী।

গাজীপুরে যারা বয়স্ক মানুষ রয়েছেন তারা যেন সব সময় চিকিৎসা সেবা পায় তার ব্যবস্থাও করা বলে জানান মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। পাশাপাশি তিনি গাজীপুরকে সকল ধর্মের সহঅবস্থানের জন্য কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গাজীপুরকে নিরাপদ নগরী করার লক্ষে তার মাস্টার প্ল্যানে শহরের সিটির গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি স্থাপন করবেন। নগর পিতা হবার আগেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নিজ উদ্যোগে টঙ্গী বাজার থেকে চন্দ্রা চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজট নিরসনে ট্রাফিক এসিস্ট্যান্ট নিয়োগ করেছেন।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ঘরে বসে প্রেস রিলিজ ও আওয়ামী লীগ বিরোধী কথা বার্তা বলে সময় পার করলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বিভিন্ন জায়গা্য় সভা সেমিনার করে চলেছেন।

সভায় ভোট প্রার্থনা করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাকে সুযোগ দিন, বাসযোগ্য শহর করে দেব। এ এলাকায় আমি বেড়ে উঠেছি। এ এলাকার মানুষের কাছে আমার অধিকার আছে। এই এলাকার মানুষকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মান দিয়েছেন। তিনি আমাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমাদের সেই সম্মান রক্ষা করতে হবে।

এসব সভায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, উনি পাঁচবার জনপ্রতিনিধি ছিলেন। দু’বার পৌর মেয়র, দু’বার এমপি ও একবার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর প্রতিটি নির্বাচন ছিল রক্তাক্ত। তিনি মানুষের রক্ত ঝরিয়ে নির্বাচন করেছেন। বিনিময়ে এলাকার মানুষকে কিছুই দেননি।

উল্লেখিত সার্বিক দিক বিবেচনায় ২৬ জুনের গাজীপুর নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ব্যালট বিপ্লব হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top