আলাদা করে জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছে ফখরুল ও বি. চৌধুরী
আলাদা করে জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছে ফখরুল ও বি. চৌধুরী

আলাদা করে জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছে ফখরুল ও বি. চৌধুরী

সেবা ডেস্ক: দলীয় কোন্দল এবং নেতৃত্ব শূণ্যতায় বিভিন্ন ইস্যূতে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এতিমদের টাকা আত্নসাৎ করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দলের অন্যতম দুই কর্ণধার বেগম খালেদার জিয়া এবং তার ছেলে তারেকের দণ্ডিত হওয়ায় ইমেজ সংকটে ভুগছে দলটি। এছাড়া লন্ডনে পলাতক অবস্থায় থাকা তারেক রহমানের বিএনপির উপর অযাচিত হস্তক্ষেপে ক্ষোভের জন্ম নেয় বিএনপি’র সিনিয়র নেতাকর্মীদের মাঝে। এমতাবস্থায় অনেকদিন ধরেই দলে ভাঙ্গনের সুর বাজছিল।

ফলশ্রুতিতে বিলুপ্তপ্রায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে বের হয়ে নতুন জোট গঠন করে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতা। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে কয়েকজন কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নেতা বিকল্প ধারার সভাপতি বি. চৌধুরীর সাথে গোপন বৈঠক করে আসছিলেন। কয়েক ধফা বৈঠক শেষে বি. চৌধুরী আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কল্যাণ পার্টির এম এম আমিনুর রহমান, বিজেপির আবদুল মতিন সউদ সহ আরো অনেকের সাথে ফখরুল পরামর্শ করেন।

গোপন পরামর্শ শেষে সবাই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্নবিদ্ধ সেহেতু আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বাদ দিয়ে বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন জোট গঠন করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচনে জয়লাভের পর বি. চৌধুরী এবং ফখরুলের নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে অবগত করতে গত মঙ্গলবার গুলশান-২ এর অল কমিউনিটি ক্লাবে বিদেশী কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার পার্টির আয়োজন করেন বিকল্প ধারার সভাপতি বি. চৌধুরী।

আয়োজিত ইফতার পার্টিতে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি বি. চৌধুরী আগামী নির্বাচনের পর উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের দেশে পাঁচ বছরের জন্য জাতীয় সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরে দেশের মানুষকে শান্তি দেওয়ার জন্য, নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এবং দেশের অগ্রগতির জন্য আমরা আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি জাতীয় সরকার গঠন করব।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে বর্তমানের সংকট থেকে উত্তরণে ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘তাদের যদি পরাজিত করতে হয় তাহলে ছোট-খাটো সমস্যাগুলো দূর করে আমাদের একটা ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সেই ঐক্যের মধ্য দিয়েই আমরা এই ভয়াবহ শক্তিকে পরাজিত করতে পারব, জনগণের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।’

এদিকে ফখরুলকে তাদের অতীত কর্মকাণ্ড স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমাদের অতীতে অভিজ্ঞতা ভালো নয়। আপনাকে কষ্ট দেবার জন্য বলছি না। এই যে লড়াই করব, একদিন একটা ভোট হবে, ভোটের পরে জিতে ব্যাপক ভোট পেয়ে আপনারা সরকার গঠন করবেন। তখন আর আমাদের চিনবেন না, যদি এমন হয়?’

ইফতার মাহফিলে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারার মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান, সহ-সভাপতি শাহ আহমেদ বাদল, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বক্তব্য রাখেন।

ইফতারে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, কল্যাণ পার্টির এম এম আমিনুর রহমান, বিজেপির আবদুল মতিন সউদসহ বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ওরফে বি. চৌধুরী ১৯৭৮ সালে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। বি. চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিএনপির শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে ১৪ নভেম্বর ২০০১ এ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব লাভ করেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ৩০মে ২০০২ তারিখে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিরপেক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের সমাধি পরিদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের জের ধরে বিএনপির অনেক নেতা তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। ফলশ্রুতিতে বিএনপির রোষানলে পড়ে ২০০২ সালের ২১ জুন তিনি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পদত্যাগের পর তিনি ‘বিকল্প ধারা বাংলাদেশ’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন ও এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।