ব্যারিস্টার মওদুদ: আওয়ামী লীগের থুতু, চাটলো সবাই

ব্যারিস্টার মওদুদ: আওয়ামী লীগের থুতু, চাটলো সবাই

সেবা ডেস্ক: তাকে স্বাধীন বাংলাদেশের সুবিধাবাদের জনক বলা হয়। কথা বলেন ধীরে-সুস্থে। বিশ্বাসঘাতকতা তাকে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের কম বেশি সব সরকার তার বিষাক্ত স্বার্থ দংশনের বিষক্রিয়ায় বিষাক্ত হয়েছে। জিয়াউর রহমান, হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন তিন সরকারের আমলেই ছিলেন ক্ষমতার নিউক্লিয়াসে। তিনি অনেক মেধাবী। রহস্যময় অনুমানশক্তির জোরে অথবা সূক্ষ ষড়যন্ত্রের দানে তিনি নির্বাচনের আগে কে বা কারা ক্ষমতায় আসবে বুঝতে পারতেন। তিনি ওয়ান এন্ড অনলি ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ’।

আওয়ামী লীগের থুতু: ছাত্রাবস্থায় মওদুদ “ছাত্রমুক্তি” নামক একটি অখ্যাত ছাত্র সংগঠনের নেতা ছিলেন। এরপর আইয়ুব খান সরকারের ‘এনএসএফ’ এর সাথে জড়িত ছিলেন। ৬৯’এ বুঝে ফেলেন দেশভাগ হতে যাচ্ছে। শ্বশুর কবি জসীম উদ্দীনকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করে আসেন। দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু তাকে পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে বসান। সেখানে বসে বিরাট দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন মওদুদ। জেলে যেতে হয় মওদুদকে। অন্যদিকে, গোপনে তার সাথে পাকিস্তানিদের যোগাযোগের বিষয়টা জানাজানি হবার ফলে ১৯৭৩ সালে এমপি পদে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়ে বাকি জীবনের জন্যে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দেশে যে উল্টো স্রোত তৈরী হয়, সেই স্রোতেই জেল থেকে বেরিয়ে আসেন মওদুদও।

বিএনপি পর্ব: ১৯৭৭-৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা হন ব্যারিস্টার মওদুদ। ১৯৭৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়। পরে জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করলে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। জিয়াউর রহমান সরকারের শেষভাগে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ধরা পড়েন মওদুদ আহমেদ। দুর্নীতির অভিযোগে তাকে মন্ত্রীসভা থেকে বহিষ্কার করেন জিয়া। কিন্তু, মওদুদ সাহেব ততদিনে একজন বিরাট ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে গেছেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার ও বিএনপি নেতা জামাল উদ্দীনের দ্বন্দ্ব শুরু হলে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী নিয়ে তিনি বিএনপি (মওদুদ) নামে পৃথক দল গঠন করেন।

এরশাদ পর্ব: জিয়ার মৃত্যুর পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে একটি পুতুল হিসেবে ক্ষমতায় বসিয়ে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতার পথ পরিষ্কার করেন। জানা যায়, তখন সাত্তারের মন্ত্রীপরিষদের মিটিং শেষ হওয়ার পরপরই একটা গাড়ী দ্রুত ক্যান্টনম্যান্টের দিকে ছুটে যেতে দেখা যেত, যাতে বসা থাকতেন মওদুদ আহমেদ। ২৪ মার্চ, ১৯৮২ সালে এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতায় বসেই এরশাদ মওদুদকে গ্রেফতার করেন। ঠিক একই সময়ে মওদুদ সাহেবের সহধর্মিনী এরশাদের লন্ডন সফরে সফরসঙ্গী হয়েছেন। লন্ডন থেকে ফিরেই এরশাদ মওদুদকে ক্ষমা করে দেন এবং দেশবাসী অবাক হয়ে দেখল তিনি জেনারেল এরশাদের মন্ত্রীসভার সদস্য হিসাবে শপথ নেন।

’৮৫ সালে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হন। সরকারের মন্ত্রীত্বপদ নিয়ে পেয়ে যান ক্ষমতার অংশীদারিত্ব। এর একবছর পর ১৯৮৬ সালে তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করেন এরশাদ। ১৯৮৮ সালে তিনি স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন । ১৯৮৯ সালে মওদুদকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করেন প্রেসিডেন্ট এরশাদ। ’৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত ওই সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে ছিলেন ক্ষমতালোভী মওদুদ। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে প্রেসিডেন্ট এরশাদের মতো মওদুদকেও কারাবাস করতে হয়।

এবার খালেদার বিএনপি: জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে রংপুরে এরশাদের ছেড়ে দেওয়া আসনে ১৯৯১ এর উপ-নির্বাচনে মওদুদ আহমেদ আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ’৯৬ সালে বিএনপিবিরোধী দলে যোগ দিয়েও একপর্যায়ে তিনি এই দলে ঢোকার সুযোগ পান। ২০০১ সালে আবারও নোয়াখালী থেকে বিএনপির টিকেটে এমপি নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রীত্ব পান। চারদলীয় জোট সরকারের পুরো পাঁচ বছর আইনমন্ত্রী পদে ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে যান মওদুদ। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া তার বগুড়ার নির্বাচনী আসন থেকে মওদুদকে পাস করিয়ে সংসদে নিয়ে আসেন।
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে