
ধনিয়া পাতার শুভাস ছড়িয়ে পড়ছে আকাশে বাতাসে। নীরবেই আলুর শরীর মোটা তাজা হচ্ছে উর্বর মাটির নিচে। ইট পাথরের শহর থেকে বেরুলেই দৃষ্টিতে পড়ে কৃষকের স্বপ্ন বোনা বিভিন্ন রঙের ফসলের মাঠ। প্রাণ জুড়িয়ে যায় তাদের আদর যত্নে গড়ে তোলা সবজি ক্ষেত দেখে।
সকালে হালকা কুয়াশা ভেদ করে আকাশের সূর্য উঠার আগেই কৃষকরা হৃদয়ের টানে ছুটে আসেন জমিতে। শরীরের সবটুকু শক্তি আর মনের গভিরে পোষা ভালবাসার সিক্ত করে তুলেন কপি, টমেটো, কিংবা লাউ, সিমের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত ।
ক্ষেতে পানি দেওয়া, আগাছা পরিস্কার, কিটনাশক প্রয়োগ নিরানী সহ সবজি ক্ষেত পরির্চযায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূল ও আধুনিক পদ্ধতিতে শীত কালিন সবজির চাষাবাদ করায় ভাগ্যর পরিবর্তন হয়েছে অনেক কৃষকের।
ক্ষেতের সবজির পাশাপাশি অনেকেই বাড়ীর আঙ্গিনায় গড়ে তুলেছেন সবজি পল্লী। এ বছর রোগ বালাই কম হওয়ায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় হাজার হাজার কৃষক নতুন স্বপ্নে বিভোর। তারা ক্ষেতেই খুচরা সহ পাইকারদের কাছে সবজি বিক্রি করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা মাঠে এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এই তাজা সবজি। জেলার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে টাঙ্গাইল জেলায় নয় হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালিন সবজির চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কৃষকের ক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের সবজি। এসবের মধ্যে লাউ, সিম, বরবটি,চালকুমড়া,বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, ঝিংগা, পালংশাক, লাল শাক, কমলি শাক, পুইশাক, ডাটা শাক, করলা, ধনিয়া পাতা, ঢেরস, পাটশাক,পটল, খিরা, চিচিংগা, সরিসা শাক, ওল, গাজর, মটরশুটি, মুলাশাক, ফুল কপি, বাধাকপিসহ বিদেশী সবজিরও দেখা মিলছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পাঁচবিক্রম হাটি সবজি চাষি মোস্তাফা করিম জানান, “শীত কালীন সবজি চাষে খরচ কম লাগে। এতে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। এ বছর ২ বিগা জমিতে বগুন ও লাউ ১ বিঘায় বাধাকপি এবং ফুলকপি,দশ কাঠা জমিতে ধনে পাতা চাষ করেছি “।
একই গ্রামের ঠান্ডু মাতাম্বর জানান অন্যান্য ফসলের তুলনায় সবজি চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়। তাই অন্য ফসল ছেড়ে সবজির চাষ কররি। এবছর এক বিগা জমিতে ভিবিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। এতে খরচ হয়েছে চার হাজার টাকা।
সবজিগুলেঅ এখন পর্যন্ত বাজারে ভালো দামে বিক্রি হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গ থেকে শাক-সবজি না আসলে আমরা আরও ভালো দামে আমাদের এলাকার শাক-সবজি বিক্রি করতে পারতাম। সদর উপজেলার করটিয়ার সবজি চাষি নজরুল জানায় বাজারে সবজির দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
তবে সার, কীটনাশক, বীজ,ও পরিবহন খরচ বেশি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান এ বছর শীতকালিন সবজি নয় হাজার হেক্টর লক্ষ্য ছিল। উৎপাদন হয়েছে আট হাজার হেক্টর এখনো পর্যন্ত অনেকে চারা রোপন করিতেছে।
আশা করা যায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে। শীত কালিন সবজি চাষে কৃষকদের পারমর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে কৃষি বিভাগ আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার ফল পাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক।
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।